জুবায়ের সিদ্দিকী : চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ে ব্যস্ততম জায়গায় এবার বিপণী কেন্দ্র সিঙ্গাপুর ব্যাংকক মার্কেটের সামনে অবৈধ টেম্পো স্ট্যান্ড স্থায়ী রূপ নিয়েছে। এছাড়া ৭ নম্বর বাস একটার পর একটা সিরিয়ালি প্রতিযোগিতা করে দাঁড়ায় এই একই স্থানে। যানজট ও দূর্ঘটনা অহরহ ঘটলেও মানুষ দেখলেও পুলিশ দেখেনা। এখানেই তাদের ট্রাফিক অফিস। ছোট বড় সব সাহেবেরাই এই অফিসেই যাতায়াত করেন। তাদের সামনেই আরশীনগর। কিন্তু দুর্ভাগ্য যানজট, জনজট, দূর্ঘটনা কিছুই তারা দেখেনা। নগরীর সকল ব্যস্ত মোড়ে যানজট সকাল থেকে রাত।
পুলিশ আছে, যানজটও আছে। এর কোন সমাধান নেই। নগরীতে চলে টমটম। চলে ব্যাটারী রিক্সা। সবাই দেখে। মানুষও দেখে। কিন্তু কপাল পোড়া নগরীর শুধু পুলিশ দেখেনা। নম্বরবিহীন সিএনজি চলে বৃহত্তর চট্টগ্রামের সকল উপজেলায়। পুলিশের ‘‘টোকেন’’ নিয়ে এই সিএনজি দাপিয়ে বেড়ায় সকল উপজেলায়।
সেদিন সিএনজি গাড়ীর এক মালিক জানালেন, আমার সিএনজিতে টোকেন আছে। গ্যাস নেওয়ার জন্য মইজ্যারটেক গেলে সেখানে সিভিল পোষাকের পুলিশ চালক থেকে দেড় হাজার টাকা কেড়ে নেয়। অথচ পুলিশ টোকেন বাবদ মাসে আড়াইহাজার টাকাও নিচ্ছে। এভাবে নগরী থেকে উপজেলাতে টোকেন পদ্ধতি চালু করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে পুলিশ।
মহানগরীর চৌমুহনী মোড়ে দুবাই হোটেলে বসে একটি কক্ষ থেকে সমিতির নামকরণে টোকেন বিক্রি করে কিছু লোক। এদের সাথে পুলিশের রয়েছে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ। মোবাইলে দুবাই হােটেলে বসেই এরা মনিটরিং করে অবৈধ গাড়ীর। প্রায় ৩ হাজার অবৈধ সিএনজি চলে মফস্বলে। এছাড়া ট্রাক, বাস, টেম্পু, রাইডারসহ নানা ধরনের যানবাহনের কাগজপত্র ছাড়াই অনেকের গাড়ী রাস্তায় চলাচল করছে অবাধে। পুলিশ মামলাও করছে। আবার বাণিজ্যও করছে। অন্যদিকে, নাকাল নগরবাসী। নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত সর্বত্রই যানজট। যানজট নিরসনে পুলিশের ব্যর্থতা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
