চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসনের এলএ শাখায় ঘুষের উৎসব

0

গোলাম সরওয়ার : চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এল.এ) শাখায় ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে চড়ে না। জমি অধিগ্রহণের অর্থ ছাড় পেতে ক্ষতিগ্রস্থদের দিতে হচ্ছে নির্দিষ্ট অংকের অর্থ। ক্ষতিপূরণের চেক পাস হওয়ার আগে ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে নেয়ার জন্য গুনতে হয় টাকা।

সেবা প্রার্থীদের অভিযোগ, এখানে কাজ করে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী চেইনম্যান নজরুল ইসলাম বাবুর সিন্ডিকেট। ঘুষ ছাড়া কোন কাজই হয়না। জমির ক্ষতিপূরণের ফাইল জমা দেয়া থেকে টাকা পাওয়া পর্যন্ত মাঝখানে সব কাজই করতে হয় ঘুষ দিয়ে। এই ঘুষ দুর্নীতি বন্ধে দু’বছর আগে আট দফা সুপারিশ করেছিল এ অফিসের দূর্নীতি অনিয়ম তদন্তে গঠিত কমিটি। কিন্তু সুপারিশ এখনও একটিও বাস্তবায়ন হয়নি।

ভূমি অধিগ্রহণের বিপরীতে ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণ হচ্ছে দক্ষিণ পতেঙ্গা নেভাল একাডেমির সম্প্রসারণ প্রকল্পে। এ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের বহু জমির শ্রেনীর পরিবর্তন করা হচ্ছে। যেমন নাল জমির স্থানে লেখা হচ্ছে ভিটি। পতেঙ্গা সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ বাবদ ব্যয় হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা।

এরমধ্যে দেড়শ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের অধীনে ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে ক্ষতিগ্রস্তদের নতুন করে রূপালী ব্যাংক লালদিঘী সদর শাখায় একাউন্ট খুলতে হচ্ছে। সিটি আউটার রিং রোডের অর্থ বিতরণ নিয়ে এল.এ অফিসে দূর্নীতির অভিযোগ উঠলেও ক্ষতিগ্রস্তদের মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে এ প্রকল্পের অর্থ বিতরণ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিটি কর্পোরেশনের অধীনে ৪২ কোটি টাকা ব্যায়ে চাকতাই- মেরিনাস বাইপাস সড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে এলও অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের সত্যতা পায় বিভাগীয় কমিশনারের গঠিত তদন্ত কমিটি।

অভিযোগ রয়েছে, চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী চেইনম্যান নজরুল ইসলাম বাবু ও আবদুল করিম কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও টাকার পাহাড় গড়লেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। নগরীতে চিটাগাং শপিং সেন্টারে ও রিয়াজ উদ্দিন বাজারে দোকান, ফ্ল্যাট, জমি ক্রয় করেছে এই ২ জন। এছাড়া রয়েছে অত্যধুনিক একাধিক গাড়ী। এই দুইজনের দাপট সব চেয়ে বেশি এল.এ শাখায়।

সেবা গ্রহীতারা জানান, এই দুইজন এল.এ শাখায় ‘‘কোটিপতি সাহেব’’ নামে পরিচিত লাভ করেছে। হাটহাজারীর এক সময়ের বিএনপির কর্মী নজরুল ইসলাম বাবু ও বাঁশখালীর করিম জামায়াতের সাথে গোপনে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.