বিশেষ প্রতিবেদক : কাউকে ছাড় দেয়া হবে না, দল করলে দলের নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। যারা মানবে না তাদের দলে থাকার কোন অধিকার নেই এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের । তিনি বলেন, তাকিয়ে দেখুন মঞ্চের দিকে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ । আপনারা ওখান থেকে টুকটাক করবেন, ওইদিন চলে গেছে। এটা আর করতে দেয়া হবে না।
আজ শনিবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে চট্টগ্রাম থেকে স্থান পাওয়া আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বীরোচিত সংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবর্ধনা মঞ্চে থাকা চট্টগ্রামের নেতাদের দাঁড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথ করিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। বসন্তের কোকিল যারা দলে প্রবেশ করেছেন, তাদের বলছি- আওয়ামী লীগে বসন্তের কোকিল আর মৌসুমি পাখির কোন স্থান নেই। চলে যান, আমার মৌসুমি পাখির দরকার নেই। শেখ হাসিনার বসন্তের কোকিলের দরকার নেই।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাকে খুশি করার দরকার নেই। আমাকে নেত্রী শেখ হাসিনা খুশি করেছেন। আমার দায়িত্ব জনগণকে খুশি করা। নেতাদের খুশি করে লাভ নেই, জনগণকে খুশি করুন। জনগণের কাছে যান। যদি অপকর্ম কিছু করে থাকেন, ক্ষমা চান। জনগণের কাছে গিয়ে ক্ষমা চান, জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে কোন লজ্জা নেই।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে ব্যানারে-বিলবোর্ডে আমার ছবি দেখতে আসিনি। আমি এই চট্টগ্রামে আমার নামে তোরণের শোভা দেখতে আসিনি। কারণ আমি জানি ফুলের মালা শুকিয়ে যাবে, আমি জানি এই ফুল শুকিয়ে যাবে। আমি জানি কাগজের ফুল ছিঁড়ে যাবে। আমি জানি পোস্টারের ছবি ছিঁড়ে যাবে। আমি জানি তোরণের ছবি ভেঙে যাবে। আমি জানি পাথরের ছবি ক্ষয়ে যাবে। কিন্তু হৃদয়ের কথা রয়ে যাবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার রাজনৈতিক পিতা বঙ্গবন্ধু জনগণের হৃদয়ে নাম লিখেছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা জনগণের হৃদয়ে নাম লিখেছেন। এই নাম কোনদিন মুছে যাবে না। ফুল নয়, বিলবোর্ডের ছবি নয়, ওই ছবি দেখিয়ে লাভ নেই, তোরণে ছবি দেখিয়ে লাভ নেই। হৃদয়ে ছবি দেখান, এই নাম রয়ে যাবে।
কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, চট্টগ্রাম ও সিলেটের দেখভাল করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আমাকে। আমি বারবার চট্টগ্রামে আসব। নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলব। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে সংগঠনের ভিত মজবুত রাখতে আমি অব্যাহতভাবে চেষ্টা করে যাব। ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনার জন্য সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে হানিফ বলেন, আপনি বলেছেন আওয়ামী লীগ দেউলিয়া দল। কিন্তু আওয়ামী লীগ এই মুহুর্তে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। এই দেশের যত অর্জন সব আওয়ামী লীগের হাত ধরে এসেছে। বিএনপি দেশকে বারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। দেশকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের চারণভূমিতে পরিণত করেছিলেন। বাংলাদেশে বিএনপি এখন একটি অভিশপ্ত দল। পাগলের মতো বিএনপির সুখ এখন মনে মনে।
দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘নওফেল বড় চমক’চট্টগ্রাম থেকে গিয়ে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়াকে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের বড় চমক বলেন । আমাদের টার্গেট ২০১৯ সালের সংসদ নির্বাচন।আমরা যারা সংগঠনকে ভালবাসি, আমাদের নেত্রীকে ভালবাসি, আমাদের সবাইকে নেত্রীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা.দীপু মণি বলেন, অপশক্তি আমাদের দলের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকতে পারে। সুযোগ বুঝে তারা আমাদের দলের ভেতরে ঝামেলা সৃষ্টি করতে পারে। এই অপশক্তির বিষয়ে প্রত্যেক নেতাকর্মীকে সতর্ক থাকতে হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিটি জেলায়, প্রতিটি উপজেলায়, প্রত্যেক ইউনিয়নে, গ্রামেগঞ্জে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে হবে। আগামী নির্বাচনে যেন চট্টগ্রাম বিভাগের প্রত্যেক আসনে আমরা জয়ের সুফল ঘরে তুলতে পারি, সেজন্য আমাদের ভিত শক্ত করতে হবে।
ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যরিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, আমার নামে কেউ স্লোগান দেবেন না। আমার ছবি কেউ ব্যানারে দেবেন না। কেউ আমার নামে মিছিল করবেন না। ২০১৯ সালে যদি নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী করতে পারি, তখন বিজয় মিছিল হবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম থেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন , উপদেষ্টা সাবেক সাংসদ ইছহাক মিঞা, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যরিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাঙামাটির সাবেক সাংসদ দীপংকর তালুকদার।
উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা কমিটির সদস্য শিক্ষাবিদ ড.অনুপম সেন এবং প্রণব কুমার বড়ুয়া।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ ও ডা.দীপু মণি, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল আলম চৌধুরী ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ এবং চট্টগ্রামের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন।
সমাবেশ পরিচালনা করেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম এবং দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান।
