চট্টগ্রামে মোছলেম উদ্দিন উপেক্ষিত একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ

0

জুবায়ের সিদ্দিকী : চট্টগ্রামে অনেক রাজনীতিবিদের জন্ম হয়েছে। দেশে যে কোন ক্রান্তিলগ্নে চট্টগ্রামের এসব রাজনীতিবিদ গুরুত্বপুর্ন অবদান রেখেছেন বিভিন্ন সময়ে। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে স্বাধীনতার পুর্ব থেকে রাজনীতির চড়াই-উৎরাই ঘাত-প্রতিঘাত, জেল-জুলুম, মামলা-হুলিয়া, নির্যাতন সহ্য করে রাজনীতি করেছেন কিছু মহৎ ও মহান ব্যক্তি। এম. এ আজিজ, জহুর আহমদ চৌধুরী, এম.আর সিদ্দিকী, এম. এ হান্নান, এম. এ মান্নান, মৌলভী সৈয়দ, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, আতাউর রহমান খান কায়সার সহ অনেক জ্ঞানী গুনী দক্ষ রাজনীতিবিদ চট্টগ্রামের মাটিতে রাজনীতি করেছেন সুনামের সাথে। এখনও করছেন সেই গুনে গুনাম্বিত হয়ে বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ। এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, নুরুল আলম চৌধুরী, মোহাম্মদ ইসহাক মিয়া ও মোসলেম উদ্দিন আহমদ প্রমুখরা।

এরা স্ব স্ব অবস্থানে অবদান রেখেছেন দেশ ও জাতীর স্বার্থে। শ্রম, মেধা ও মননে তাদের শুধু নিজ দলের নয়, মানুষের সঙ্কটজনক পরিস্থিতিকে আগলে রেখেছেন নিজের জীবনকে বাজি রেখে নানা প্রতিকুলতা ও বাঁধা ডিঙ্গিয়ে। তাদের ঘামে ভেজা শ্রম ও ত্যাগ নগরজীবন ও গ্রামীন জীবনে এনেছে প্রানস্পন্দন। মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন বা উন্নয়নের পথে এসব নেতাদের রয়েছে অসামান্য অবদান। ক্ষমতায় থাকতে বা ক্ষমতার বাইরে থাকা সত্ত্বেও তাদের জনদরদী মানবসেবা কখনও থেমে থাকেনি। এসব নেতার সাথে তাদের সহযোগী বা জুনিয়র নেতারাও অবদান রেখেছেন বিভিন্ন সময়ে। একজন রাজনীতিবিদ যখন রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকেন তখন ইষান্বিত কোন কোনা মহল সেই রাজনীতিবিদকে ল্যাং মেরে উপরে উঠার চেষ্টাও এদেশে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি।

রাজনীতিতে যেমন শেষ বলে কোন কথা নেই, রাজনীতিও এদেশে এখন কোন রাজনীতিবিদের হাতে আছে বলে মনে হয় না। রাজনীতি এখন রাজপথ ছেড়ে চলে গেছে ড্রইংরুমে। রাজনীতি এখন বুর্জোয়া, পুজিপতি, শিল্পপতি, নব্যধনী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে টাউট, বাটপার, ভুমিদস্যু, চাঁদাবাজ, আধিপত্যবাজ, তেলবাজদের দখলেরই রয়ে গেছে। যারা রাজনীতি করে সর্বস্ব ত্যাগ করে মাঠে থাকেন আন্দোলনের সময়। তারা নির্বাচনের সময় মনোনয়ন পান না। দলের মনোনয়ন পান বুর্জোয়া, ডিগবাজি দেওয়া নেতা, সুযোগসন্ধানীরা। যারা দলের আদর্শের পথে রাজনীতি করেন তারা ছিটকে পড়েন রাজনীতির মানচিত্র থেকে। সুযোগসন্ধানীরা, অচেনামুখ, বুর্জোয়া, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, হাইব্রীড়রা দখলে নেয় পদ-পদবী। এভাবে চলে এদেশের রাজনীতির ধারাবাহিকতা।

এখন রাজনীতিকে ব্যবহার করা হয় ব্যবসায়। তারপরও কিছু মানুষের শ্রম, ত্যাগ, দেশপ্রেম ও নিরলস কর্মদক্ষতায় রাজনীতিকে ধরে রেখেছেন জানুষের কল্যানে। তাদের একজন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমদ। সত্তরের দশক থেকে রাজপথের এই লড়াকু সৈনিক এখনও আছেন রাজপথে। মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর একান্ত সহযোগী ও বিশ্বস্ত নেতা মোসলেম উদ্দিন আহমদ দলের কঠিন দু:সময়ে হাল ধরেছেন। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোসলেম উদ্দিন আহমদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর ছিলেন। এ ছাড়াও এম.এ হান্নান, জহুর আহমদ চৌধুরী, এম.এ মান্নান সহ অনেক নেতার সাথে রাজনীতির দীর্ঘ সময় পার করেছেন।
দক্ষিন চট্টগ্রামের রাজনীতির মানচিত্রে মোসলেম উদ্দিন আহমদ অনেক রাজনীতিবিদের জন্ম দিয়েছেন। তবে দু:খ হয়, মোসলেম উদ্দিনের পেছনে ঘুরে যারা রাজনীতি করেছেন তারা যখন শীর্ষ নেতা বা এমপি হয়ে ভিন্নসুরে কথা বলেন। এই মোসলেম উদ্দিন আহমদ যাদের রাজনীতির ব্যায়াকরন সহ ধারাপাত শিখিয়ে মুখে বুলি ফুটিয়েছেন তারা এমপি সহ দলের বড় বড় পদ পেলেও আজ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটিতে অথবা মন্ত্রী পরিষদে মোসলেম উদ্দিনের মত বড় নেতার ঠাঁই না হওয়া দু:খজনক বলে মন্তব্য করেছেন তৃনমুলের নেতাকর্মীরা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট দক্ষিন চট্টগ্রামবাসীর দাবী বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মোসলেম উদ্দিন আহমদ কে মন্ত্রী অথবা জেলা পরিষদের দলীয় প্রার্থী ঘোষনা করা হোক।

ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সাথে মিশে আছেন তিনি। সকল গনতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে তিনি রাজপথে ছিলেন সক্রিয়। দক্ষিন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক থাকতে তৎকালীন সভাপতি মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় হয়েছেন দেশান্তরী। সে সময় দলের একাই একশ হয়ে হাল ধরেছেন মোসলেম উদ্দিন আহমদ। দক্ষিন চট্টগ্রামের অগনিত পাঠক, শুভাকাঙ্কী ও দক্ষিন জেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, পটিয়ার কৃতি সন্তান চৌধুরী মাহবুব বলেন,’ মোসলেম উদ্দিন আহমদ একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ। উনাদের মুল্যায়ন করা প্রয়োজন। দলের দুর্দিনে উনারাই মাঠে থাকেন। আমাদের হতভাগাদের আগলে রেখেছেন দু:সময়ে। মোসলেম ভাই দক্ষিন জেলা আওয়ামী লীগের কান্ডারী। যারা রাজনীতিবিদদের কন্ম দেন তাদের অবস্থান উচ্চ পর্যায়ে হবে এটাই স্বাভাবিক। এভাবে বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, পটিয়া, লোহাগাড়া ও বোয়ালখালীর আওয়ামী লীগের তৃনমুলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীগন মনে করেন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জননেতা মোসলেম উদ্দিন আহমদ কে মন্ত্রী অথবা জেলা পরিষদের প্রশাসকের প্রার্থী ঘোষনা করা হোক।

এই নেতার মুল্যায়ন দেখতে চায় তৃনমুলের নেতাকর্মীগন। দু:সময়ের দলের ত্যাগী, নির্যাতিত, পরীক্ষিত এই শীর্ষ নেতার শুভকামনা করেছেন অগনিত নেতাকর্মীরা।
১৯৭২ সাল থেকে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে দেখেছি এই মোসলেম উদ্দিন কে। দলের দু:সময়ে কোন কোন নেতারা যখন দেশ ছেড়েছেন তখন মোসলেম উদ্দিনরা দলের নেতকর্মীদের বুকে জড়িয়ে বাংলার জমিনে গড়েছিলেন কর্মীবান্ধব, সদালাপী, ত্যাগী, সৎ, সাহসী এই শীর্ষ নেতা দক্ষিন জেলা আওয়ামী লীগের মানচিত্রে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। অন্যায়ের কাছে কখনো মাথানত করেননি তিনি। বঙ্গবন্ধুর আদরের মোসলেম উদ্দিন মোনাফেকী বা মোসাহেবী করে রাজনীতি করেননা বলে অনেকের ঘাত্রদাহের কারন হয়েছে।

১৯৭২ সাল থেকে ছাত্রলীগের মহানগর সহ-সাধারন সম্পাদক হিসেবে দলের সাধারন সম্পাদক মোসলেম উদ্দিনের নির্দেশে গিয়েছিলাম জাসদের বিরুদ্ধে ছিকা মারার (দেওয়াল লিখন) তখন জাসদ ছিল আওয়ামী লীগের প্রদিন্দন্দ্বী। দেওয়ালে ছিকা মারলাম ”রাশিয়া থেকে আইলো ডিম, চীনে দিল তাঁ, তার থেকে জন্ম নিল বৈজ্ঞানিকের ছা’। পরেরদিন মোসলেম উদ্দিন আহমদের সাথে দেখা হলেই বলেন,’ তোমার ছিকা সুন্দর হয়েছে নন্দনকাননে। ভাল থেকো। এমন নেতার সান্নিধ্যে এই ৪০ বছর পরও কর্মীজীবনের শুন্যতা অনুভব করি। ¯েœহ, মায়া-মমতায় যিনি কর্মীদের সাথে মিশে যেতে পারেন তিনি একজন নেতা মোসলেম উদ্দিন। পরম শ্রদ্ধেয় এই নেতা ভবিষ্যতে এদেশের জনগনের জন্য এভাবেই পদচারনতায় থাকবেন রাজনীতির মানচিত্রে এই প্রত্যাশা করি।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.