মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক জীবন সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নিতে হবে

0

সিটিনিউজবিডি : মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন চট্টগ্রামের উদ্যোগে গতকাল ১৮ নভেম্বর বিকেল ৪ টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে সংগঠনের সভাপতি ছিদ্দিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মওলানা ভাসানীর ৪০ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও খামোশ শিরোনামে স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
আলোচনা সভার প্রধান আলোচক গণ সংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী বলেন, ১৯৭৬ সালে যার হাসপাতালের বেডে থাকার কথা অথচ তিনি ফারাক্কা বাধের বিরুদ্ধে লংমার্চ করেছেন। তিনি হলেন মওলানা ভাসানী। অভিজ্ঞতা ছাড়া চিন্তার তারুণ্য কখনো আসে না। মওলানা ভাসানীর চিন্তা-চেতনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দল করতে হবে। ফ্যাসিবাদীরা গাঁয়ের জোরে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করে না। তারাও জনসমর্থন নিয়েই ফ্যাসিবাদ কায়েম করে। অথচ আওয়ামীলীগ জনসমর্থনের বাইরে গাঁয়ের জোরে ফ্যাসিবাদ কায়েম করছে। আমি বিএনপি নেতাদেরকে জিজ্ঞেস করি আপনাদের কোনো মিছিলে সরকার কি গুলি করেছে? তারা কোনো উত্তর দিতে পারে না। সরকার জনগণের মাঝে একটি আতংক ছড়িয়ে দিয়েছে এবং একটি আদর্শকে সামনে তুলে ধরেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে তুলে এনেছে। অসাম্প্রদায়িক ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র নির্মাণের কথাকে সামনে এনেছে। আওয়ামীলীগ ইতিহাসকে দখল করে নিয়েছে। জনগণ মুক্তিযুদ্ধকে কিভাবে দেখেছে তা আমরা মওলানা ভাসানীর দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে জানতে পারি। আমরা যারা জনগণ, তারা কি আমাদের বক্তব্যকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পেরেছি? কিন্তু সরকার পারছে। রাজনীতি মানে ক্ষমতা। জনগণের রাজনীতিকে সামনে আনতে হলে অতীতের বীরদেরকে সামনে আনতে হয়। তাই জনগণের রাজনীতিকে তুলে ধরতে হলে মওলানা ভাসানীকে তুলে ধরতে হবে। জিন্নাহ এবং নেহেরুর রাজনৈতিক দাবাখেলা ভারত বর্ষকে কী করেছে? তা আমরা দেখেছি। কিন্তু মওলানা ভাসানী পল্টনে-ময়দানে বলেন, আল্লাহ তুমি কমিউনিস্টদেরকে রক্ষা করো। না হলে জালেমদের বিরুদ্ধে লড়াই করার লোক থাকবে না। কিন্তু কমিউনিস্টরা জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম তথা স্বাধীনতার সংগ্রামকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। তারা শ্রেণি সংগ্রামকে জোরদার করতে পারেননি। রুশপন্থিরা আওয়ামীলীগকে সমর্থন করেছে। চিনপন্থিরা হাল ছেড়ে দিয়েছে।

ফলে দেশের গরিব-খেটে খাওয়া জনতার মুক্তি আসেনি। ৭০ সাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগের শ্রমিক কৃষক সংগঠন ছিল না। একমাত্র মওলানা ভাসানীরই ছিল। লেনিন বলেছেন, সমাজতন্ত্র ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না। সরকার কথা বলার কারনে যে কাউকে জেলে পুরে দিতে পারে। অথচ সরকারের আইসিটি ডিপার্টমেন্ট কাবা শরিফ অবমাননার নামে একটি ছবি দু’চারদিন ফেসবুকে ঘুরলেও তা অপসারণ করতে পারেনি কিংবা করেনি। একটি জল মহল দখল করার জন্য সংখ্যালঘুদের উপর একচেটিয়া নির্যাতন করা হয়েছে। যাতে তারা পালিয়ে গেলে তাদের জায়গা-জমি গুলো দখল করা যায়। ইউএনও ওসি সভা-সমাবেশের অনুমতি দেন। ইউএনও গিয়ে বক্তব্য রাখেন পুলিশি পাহারায় সাঁওতালদের বাড়ী-ঘরে আগুণ দেওয়া হয়। এটা তো সাঁওতালরা করে নি। আওয়ামীলীগ এটা দেখাতে চাই যে তারা ক্ষমতা না থাকলে দেশ জঙ্গিবাদ-মৌলবাদের খপ্পরে চলে যাবে। অথচ তাদের দলের লোকেরাই সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কানি দেয়। বিএনপিও তেমনটা করেছিল ২০০১ সালে এখনো দেশের কোনো ঘটনা ঘটলেই তারা তাদের লাভ মনে করে। বর্তমান স্বৈরাচার সরকার ব্যবস্থাকে রুখে দাঁড়াতে হবে। কৃষক শ্রমিকের মুক্তির জন্য আমাদেরকে লড়াই করতে হবে। মওলানা ভাসানীর জীবন সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

সংগঠনের সদস্য সচিব, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল গফফার খানের পরিচালনায় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চীন ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, ড. মনজুরুল আমিন চৌধুরী, অধ্যাপক ম. নুরুন্নবী, বিডি রহমতউল্লাহ, ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আবু নোমান খান, অধ্যক্ষ শামসুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মুছা সিকদার, অধ্যাপক শিব প্রসাদ, এডভোকেট আবু তাহের, মুক্তিযোদ্ধা চেয়ারম্যান রফিক আহমদ, আহমদ নূর, মোফাজ্জল হায়দার, সৈয়দ আলী মনির খোরাসানী, আদিবাসী নেতা উ সি মারমা, জাহিদ হাফিজ, হাসান মারুফ রুমি, মো: সেলিম, ছাত্রনেতা মো: শওকত আলী প্রমুখ।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.