একজন কিশোর কুমার ও ১ টাকার দুপুরের খাবার

0

জুবায়ের সিদ্দিকী : প্রকৌশলী কিশোর কুমার দাশ। খুব একটা ভালো ভাবে যায়নি তার যৌবনকাল। অত্যন্ত অর্থকষ্টে তার শৈশব অতিবাহিত হয়েছে। কোনদিন খাবার জুটেছে, কোনদিন খাবার জুটেনি। মন্দিরে খাবারের জন্য গেলে লাইন ধরে খাবার নিতে হতো।

এমন দিনও গেছে, লাইন ধরে এগুনোর পর খাবার শেষ হয়ে গেছে। এজন্য না খেয়ে থাকতে হয়েছে। সে সময় সংকল্প করেছিলেন কোনদিন বড় হয়ে আর্থিক স্বচ্ছলতা আসলে তিনি সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য কিছু একটা করবেন। লেখাপড়া করেছেন চট্টগ্রামের চুয়েটে। বর্তমানে পেরুতে গুগলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গুগল ক্লাউডওয়্যারের কমার্শিয়াল ডাইরেক্টর। তিনি চালু করেছেন দরিদ্র টোকাইদের জন্য দুপুরের খাবার সরবরাহ করছেন মাত্র এক টাকার বিনিময়ে। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তুলেছেন।

নগরীর ষোলশহর এলাকায় প্রতিদিন দুপুরে প্রায় ২০০ হত দরিদ্র শিশু ও কিশোরদের মধ্যে ১টাকার খাবার বিতরনে দায়িত্ব পালন করেন স্বেচ্ছাশ্রমে একঝাঁক মেধাবী ছাত্র। সকলে ভার্সিটির ছাত্রছাত্রী। দীর্ঘদিন যাবত এভাবে দুপুরে প্রায় ২০০ জন ও রাতে প্রায় ১০০ জনকে খাবার সরবরাহ করে যাচ্ছে এই বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। সমাজে এমন চিত্র বিরল। এমন একজন কিশোর কুমার দাশের বড় অভাব এই সমাজে।

যে সমাজে মুখের গ্রাস কেড়ে নেয় সমাজের তথাকথিত অসাধু বিত্তবান বা সম্পদশালী যে সকলে এমন একজন কিশোর কুমারের এই বদান্যতা সমাজের বিত্তবানদের জন্য একটি উত্তম দৃষ্টান্ত। কিশোর কুমার দাশ পেরুতে থাকলেও দেশে হতভাগা শিশুদের ২ বেলা খাবার এভাবে সরবরাহ একটি বিরল ঘটনা। ভিক্ষা নয়, কিনে খাচ্ছি-এই মনোভাব শিশু ও কিশোরদের মনে জাগ্রত থাকার জন্যই ১টাকা নেওয়ার হচ্ছে বলে জানান একজন স্বেচ্ছাসেবক।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.