সিটিনিউজবিডি : লাঞ্ছিত করার পর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদের বাসায় গিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন অভিযুক্ত ওমরগণি এম ই এস কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
রোববার (২০ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন নেতাকর্মী নগরীর লালখান বাজারে মোছলেম উদ্দিনের বাসায় যান। এসময় মোছলেম উদ্দিনের বাসায় ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান।
ইলিয়াছকে ধাক্কা দেয়ার জেরেই মোছলেম উদ্দিন আহমেদ লাঞ্ছিত হয়েছিলেন। বাসায় গিয়ে ইলিয়াছ প্রথমেই মোছলেম উদ্দিনের পা ধরে ক্ষমা চান বলে জানিয়েছেন নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রণি।
সূত্রমতে, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সামনে আবারও দেখেন মোছলেম উদ্দিন আহমেদ। এসময় তিনি কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীকে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে তিনি চিহ্নিত করেন।
ছাত্রলীগ নেতারা মোছলেম উদ্দিনকে জানান, লালদীঘি মাঠের ঘটনায় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকলেও পরবর্তীতে মোছলেম উদ্দিনের গাড়ি অনুসরণ করে হামলার চেষ্টার সঙ্গে তারা জড়িত নন।
রোববার সন্ধ্যায় নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রণির নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন নেতাকর্মী মোছলেম উদ্দিনের বাসায় যান। তারাও ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন নূরুল আজিম রণি।
অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নেয়া পদক্ষেপের বিষয় জানাতে সোমবার (২১ নভেম্বর) দুপুর ১টায় নগর ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বলে জানিয়েছেন রণি।
জানতে চাইলে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ বলেন, তারা (ছাত্রলীগ) অনুতপ্ত হয়ে আমার কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছিল। আমি ক্ষমা করে দিয়েছি। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তো আমার কোন সংঘাত নেই। অথবা আমার রাজনীতির কারণে তাদের কোন ক্ষতি হচ্ছে এমনটিও নয়। সুতরাং তারা আমার ছেলে সমতুল্য। তাদের আমি ক্ষমা করে দিয়েছি।
মাঠের ঘটনার জন্য তারা অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চেয়েছে। এরপর আমার গাড়িতে হামলা চালানোর জন্য অনুসরণ করার বিষয়টি তারা করেনি বলে আমাকে জানিয়েছে। এই ঘটনা কারা করল সেটি আশা করি পুলিশ তদন্ত করে দেখবে বলেন মোছলেম উদ্দিন।
শনিবার দুপুরে নগরীর লালদীঘি ময়দানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় অনুষ্ঠান শেষে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মীর হাতে লাঞ্ছিত হন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ। মিডিয়ায় বক্তব্য দেয়ার সময় বিরক্ত করায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াছকে ধাক্কা দেয়াকে কেন্দ্র করে লাঞ্ছিত হন মোছলেম উদ্দিন।
লাঞ্ছিত হওয়ার এক পর্যায়ে সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ডা.আফছারুল আমিন তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে দ্রুত চলে যান। কিন্তু মোটর সাইকেলে কয়েকজন যুবক তাদের গাড়ি অনুসরণ করতে থাকে। হামলার আশংকায় নগরীর নেভাল সড়কের মোড়ে আফছারুল আমিন গাড়ি থেকে নেমে যান। এসময় তারা পালিয়ে যায়। পালানোর সময় ফেলে যাওয়া একটি মোটর সাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।
