চকরিয়া প্রতিনিধি : সদ্য সমাপ্ত পিইসি (৫ম শ্রেণী) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা শিশু মেয়ে মর্জিনা খানমকে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করায় বাবা নলকুপ মিস্ত্রী মীর কাশেমকে গ্রেপ্তার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মাহাবুবউল করিম। এসময় চকরিয়া থানার এসআই আবদুল খালেকসহ একদল পুলিশ অভিযানে অংশ নেন। ভুন্ডুল করে দিয়া হয় বিয়ের আয়োজন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নলকুপ মিস্ত্রী মীর কাশেম ও গৃহিণী জেসমিন আক্তারের বড় মেয়ে মর্জিনা খানম। বয়স মাত্র ১১। উত্তর পহরচাঁদা হাকিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সদ্য সমাপ্ত পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফলাফলের অপেক্ষায় থাকে মর্জিনা।ঠিক এ সময়ে বরিশাল থেকে এসে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বসবাসরত বেলাল উদ্দিনের ছেলে রাজমেস্ত্রী লাভু’র সাথে পরিচয় হয় মীর কাশেমের। পরে লাভুর সাথে নিজের শিশু মেয়ে মর্জিনার বিয়ের ঠিক হয়। গত সোমবার রাতে ঝাঁকজমকভাবে মেহেদী অনুষ্ঠান করে দুই পরিবার।
গতকাল মঙ্গলবার মীর কাশেমের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন হয়।পিইসি পরীক্ষা দেয়া মর্জিনা বলেন, আমি ফলাফল প্রকাশের পর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছেপোষন করেছিলাম। বিয়ে না দিতে কান্নাকাটি করলেও আমার কথায় কেউ কর্ণপাত করেনি। স্থানীয় লোকজনও প্রশাসনের নজর এড়াতে গতকাল মঙ্গলবার বিয়ের দিন খাওয়া-দাওয়ার আগেই আমাকে বান্দরবান পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাহাবুবউল করিম বলেন, উপজেলার বরইতলীতে মর্জিনা খানম নামের এক শিশু ছাত্রীর বিয়ে হচ্ছে খবর পেয়ে ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় বর-কনে কাউকে না পেয়ে খাওয়া-দাওয়ারত স্থানীয় চার ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। পরে মেয়ের বাবা মীর কাশেম উপস্থিত হলে তাকে গ্রেপ্তার করে ওই চারজনকে ছেড়ে দিই।
অপ্রাপ্ত মেয়েকে সাবালক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার মুচলেকা নিয়ে মা জেসমিন আক্তারের জিম্মায় দিই।তিনি বলেন, অভিযানের সময় মেয়ের পক্ষ প্রশাসনকে ফাঁকি দিতে প্রাপ্ত বয়স্ক এক মেয়েকে কনে পরিচয় দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা করে। তবে কয়েকজন শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীর সহায়তায় প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয়।
