জনমত জরিপ : চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে যারা এগিয়ে
জুবায়ের সিদ্দিকী-
আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্টিত হচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচন। এরই মধ্যে তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন জমা দেয়া, যাছাই বাছাই ও প্রার্থীতা প্রত্যাহারের তারিখ শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জানান, ’সংশোধিত জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী জেলা পরিষদ হবে ২১ সদস্যের। যার মধ্যে একজন চেয়ারম্যান, ১৫জন সদস্য ও ৫ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য থাকবেন। তারা নির্বাচিত হবেন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভোটে। এই নির্বাচনে মোট ভোটার ২৭০৬জন।
এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২০৭৭ ও মহিলা ৬২৯ জন। ১৫ জন সদস্য নির্বাচনের জন্য জেলাকে ১৫টি ওয়ার্ডে ভাগ করা হয়েছে। ৫ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নির্বাচনের জন্য জেলাকে ভাগ করা হয়েছে ৫টি ওয়ার্ডে। চেয়ারম্যান পদে সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক এম.এ সালাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এদিকে নির্বাচনের দিনক্ষন যতই এগিয়ে আসছে বিরামহীন ছুটছেন সদস্য প্রার্থীরা। বিএনপি-জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী না থাকায় সবকটি ওয়ার্ডে মুলত আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরাই একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। প্রার্থীরা স্ব-স্ব কৌশলে এগুচ্ছেন। মোটা টাকায় কেনা হচ্ছে ’জনপ্রতিনিধি ভোটারদের। সাধারন মানুষের ভোটাধিকার না থাকায় এবং বিরোধী দলের প্রার্থী না থাকায় নির্বাচনে শতস্ফুর্ততা না থাকলেও নিয়মিত প্রার্থীদের আগমনে সরগরম গ্রামের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বাড়ি।
হাতে শপিং ব্যাগ আর মিষ্টির হাড়ি নিয়ে ছুটছেন প্রার্থীর লোকজন। বাদ যাচ্ছেনা চেয়ারম্যান মেম্বারদের বউয়ের জন্য শাড়ি! নির্বাচনি বৈতরনী পার হতে যত কৌশল আয়ত্ব করতে হয় প্রার্থীরা করছেন। আমাদের প্রতিনিধিদের তথ্য, বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে জরিপ চালিয়ে সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে বিজয়ের পথে এগিয়ে থাকা প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হল।
চট্টগ্রাম জেলায় ১নং সাধারন ওয়ার্ড- মীরস্বরাই ও বারইয়ারহাট পৌরসভা ও মীরস্বরাইয়ের ১২টি ইউনিয়ন। এই সাধারন ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ১৮৫ জন। এই ওয়ার্ডে শেখ মোহাম্মদ আতাউর রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
২নং সাধারন ওয়ার্ড- সীতাকুন্ড পৌরসভা এবং ১০টি ইউনিয়ন ও মিরস্বরাই উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন । এই ওয়ার্ডে ভোটার ১৮৫ জন। এই ওয়ার্ডে মোহাম্মদ মহিউদ্দিন (তালা) এর চেয়ে সীতাকুন্ড উপজেলা আ.লীগের সিনিয়র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক আ. ম.ম দিলসাদ (হাতি) প্রতীক নিয়ে এগিয়ে আছেন।
৩নং সাধার ওয়ার্ড- সন্দ্বীপ পৌরসভা এবং ১৫ ইউনিয়ন। এই ওয়ার্ডে ভোটার ২০৬ জন। এই ওয়ার্ডে এড. মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন মাহমুদ (বৈদ্যুতিক পাখা), দেলোয়ার হোসেন সন্দ্বীপি (টিউবওয়েল), আখতাব খান (তালা) মো: হুমায়ুন কবির (ঘুড়ি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন (হাতি)।
৪নং সাধারন ওয়ার্ড-চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৫ ওয়ার্ড এবং হাটহাজারী উপজেলার ৮ ইউনিয়ন। এই ওয়ার্ডে ভোটার ১৬৩জন। ৪নং ওয়ার্ডে মো: আবুল কদর (হাতি), কাজী মো: আলমগীর (ঘুড়ি), জসিম উদ্দিন শাহ (তালা) জাফর আলম (টিউবওয়েল)। তৃনমুল জনপ্রতিনিধিদের মতে এই ওয়ার্ডে জসিম উদ্দিন শাহ (তালা) প্রতীক এগিয়ে আছেন।
৫নং সাধারন ওয়ার্ড- হাটহাজারী পৌরসভা এবং ৬টি ইউনিয়নএবং ফটিকছড়ির ৬ ইউনিয়ন। এই ওয়ার্ডে ভোটার ১৫১ জন। এই ওয়ার্ডে মোহাম্মদ জালাল হোসেন (টিউবওয়েল) শওকত আলম শওকত (তালা) এইচ এম আলী আবরাহা (বৈদ্যুতিক পাখা) ও মো: শাহনেওয়াজ চৌধুরী (হাতি)। এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা শাহনেওয়াজ হোসেন চৌধুরী (হাতি) প্রতীক নিয়ে এগিয়ে আছেন।
৬নং সাধারন ওয়ার্ড-ফটিকছড়ি উপজেলার ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট পৌরসভা এবং বাগানবাজার, দাঁতমারা, মারায়নহাট, ভুঁজপুর, হারুয়ালছড়ি, পাইন্দং, কাঞ্চননগর, সুন্দরপুর, লেলাং, নানুপরু ও রোসাংগিরী ইউনিয়ন। এই ওয়ার্ডে ভোটার ১৫৭ জন। এই ওয়ার্ডে ড.মাহমুদ হাসান (অটো রিকশা) আহমদুর রহমান চৌধুরী (বৈদ্যুতিক পাখা), গোলাম কিবরিয়া (হাতি). মো: বেলাল উদ্দিন (তালা), মো: রেজাউল করিম চৌধুরী (বক), মো: আমান উল্লাহ খান চৌধুরী (টিউবওয়েল) । ফটিকছড়ি উপজেলার দুর্দিনের ত্রানকর্তা হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা ও শিল্পপতি ড. মাহমুদ হাসান (অটো রিকশা) প্রতীক নিয়ে এগিয়ে আছেন।
৭ নং সাধারন ওয়ার্ড-রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা এবং ১৫ ইউনিয়ন।এই ওয়ার্ডে ভোটার ২১১ জন। এই ওয়ার্ডে কাজী আবদুল ওয়াহাব এবং ৮নং ওয়ার্ডে কামরুল ইসলাম চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
৯নং সধারান ওয়ার্ড- বোয়ালখালী পৌরসভা এবং ৯টি ইউনিয়ন ও পটিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন। এই ওয়ার্ডে ভোটার ১৮১ জন। এই ওয়ার্ডে মোহাম্মদ ইউনুছ (তালা), মনসুর আহমেদ (টিউবওয়েল), বোরহান উদ্দিন মো: এমরান (হাতি)। এখানে মনসুর আহমেদ (টিউবওয়েল) প্রতীক এগিয়ে আছেন।
১০ নং ওয়ার্ডে আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন (টিউবওয়েল) ও দেবব্রত দাশ (তালা) এর চেয়ে মোজাহেরুল আলম চৌধুরী (হাতি) প্রতীক নিয়ে এগিয়ে আছেন।
১১ নং সাধারন ওয়ার্ড-চন্দনাইশ পৌরসভা ও ৭ ইউনিয়ন এবং পটিয়া উপজেলার ৪ ইউনিয়ন। এই ওয়ার্ডে ভোটার ১৮৫ জন। এই ওয়ার্ডে মোহাম্মদ আবুল কালাম (অটো রিকশা), শিহাব উদ্দিন (হাতি) আবু আহম্মদ চৌধুরী (তালা), মো: আবু হেনা ফারুকী (টিউবওয়েল)। এই ওয়ার্ডে আবু আহম্মদ চৌধুরী (তালা) প্রতীক নিয়ে এগিয়ে আছেন। তিনি চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক।
১২নং সাধারন ওয়ার্ড-আনোয়ারা উপজেলার ১১ এবং বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ও সাধনপুর ইউনিয়ন। এই ওয়ার্ডে ভোটার ১৭২জন। এই ওয়ার্ডে এস.এম আলমগীর চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
১৩নং সাধারন ওয়ার্ড-বাঁশখালী উপজেলার বাঁশখালী পৌরসভা এবং উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন। এই ওয়ার্ডে ভোটার ১৭২ জন। এই ওয়ার্ডে মোহাম্মদ মোরশেদুল আলম চৌধুরী (টিউবওয়েল), কাজীম মোস্তফা চৌধুরী (বৈদ্যুতিক পাখা) আবদুল গফুর (হাতি), আমিরুল হক (অটো রিকশা) ও নুর হোসাইন (তালা)।
অপরদিকে এই ওয়ার্ডে উচ্চ আদালতে আবেদন করে প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন শেখ ফখরুদ্দিন চৌধুরী। তিনি বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র। এই ওয়ার্ডে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুর হোসেন (তালা) এবং শেখ ফখরুদ্দিন চৌধুরীর মধ্যে লড়াই চলবে বলে জানা গেছে।
১৪নং সাধারন ওয়ার্ড- সাতকানিয়া পৌরসভা এবং ১৩টি ইউনিয়ন । এই ওয়ার্ডে ভোটার ১৮৫ জন। এই ওয়ার্ডে খাইর আহম্মদ (তালা), মো: জাফর আলম (উটপাখি), মো: জসিম উদ্দিন (হাতি), বশির আহমদ চৌধুরী (টিউবওয়েল)।
১৫নং সাধারন ওয়ার্ড-লোহাগাড়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন এবং সাতকানিয়া উপজেলার ৩ ইউনিয়ন।এই ওয়ার্ডে ভোটার ১৭১ জন। ১৫নং ওয়ার্ডে জসিম উদ্দিন (হাতি) আনোয়ার কামাল (অটো রিকশা)।
সংরক্ষিত ২নং ওয়ার্ডে আঞ্জুমান আরা (লাটিম), রেখা আলম চৌধুরী (কম্পিউটার), সেলিনা আক্তার (টেবিল ঘড়ি), এড.উম্মে হাবিবা (বই), নুসরাত জাহান (দোয়াত কলম) ফেরদৌস বেগম মুন্নি (হরিন)। এখানে রেখা আলম চৌধুরী ও ফেরদৌস বেগম মুন্নির মধ্যে লড়াই হবে। দুজনই সাবেক কাউন্সিলর।
৪নং ওয়ার্ডে নুরুন নাহার বেগম (ফুটবল) ও রেহেনা বেগম ফেরদৌস (দোয়াত কলম)। এখানে রেহেনা বেগম ফেরদৌস এগিয়ে আছেন। ৫নং ওয়ার্ডে শাহিদা আক্তার জাহান (হরিন) ও এড. কামরুন নাহার (দোয়াত কলম)। এই ওয়ার্ডে দক্ষিন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী এডভোকেট কামরুন নাহার এগিয়ে আছেন। অপরদিকে সংরক্ষিত ১নং ওয়ার্ডে রেহেনা আক্তার ও ৩নং ওয়ার্ডে দিলুয়ারা ইউসুফ ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
