শহিদুল ইসলাম, উখিয়া থেকে::কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ২ রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) শতধিক উগ্র সন্ত্রাসী আশ্রয় নেওয়ার খবরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরে টনক নড়তে শুরু করেছে।
সোমবার রাতে কুতুপালং শরণার্থী শিবির থেকে আরএসও’র উগ্র সন্ত্রাসী খাইরুল আমিন ও মাষ্টার আবুল কালাম আজাদকে অস্ত্রসহ আটক করে র্যাব। পরে তাদের স্বীকারোক্তিতে কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের আরএসও সন্ত্রাসী হাসান আহাম্মদ এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের পুরাতন তুমব্রু পাড়া এলাকার গহীন অরণ্য থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারূদ উদ্ধার করা হয়।
র্যাব ৭ এর অভিযান চলাকালীন সময় পর্যন্ত আরএসও জঙ্গি সন্ত্রাসীরা উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবির ছেড়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম গুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

ছবি- নিজস্ব প্রতিনিধি
র্যাব-৭ এ অভিযানের সময় বাড়িয়ে আরো অন্তত ২/৩দিন অস্ত্র উদ্ধার এবং জঙ্গি সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে অবস্থান করবেন। কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের আরএসও সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, কুতুপালং রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবির ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরে অন্তত আরো অর্ধশতাধিক জঙ্গি সন্ত্রাসীরা আশ্রয় নিয়েছে। তারা প্রত্যেকে ছদ্ম নাম ব্যবহার করে রোহিঙ্গা শিবিরে অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মুসলিম অধ্যুষিত জনগোষ্টির উপর সেখানকার সেনা বাহিনী ও স্থানীয়রা বর্বরোচিত হামলা, অগ্নি সংযোগ, লুটপাট, ভাংচুর, খুন ও নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ্য চালিয়ে শত শত নারী পুরুষ ও শিশুকে হত্যা, ধর্ষন ও পুড়িয়ে মারার ঘটনার পর থেকে সাধারণ রোহিঙ্গাদের সাথে সীমান্ত ফাঁড়ী দিয়ে পালিয়ে এসে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় গ্রহণ করে আরএসও জঙ্গি সন্ত্রাসীরা।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সোমবার রাতে র্যাব ৭ এর অভিযান চালিয়ে কুতুপালং শরনার্থী শিবিরের বস্তি থেকে আরএসও সন্ত্রাসী খাইরুল আমিন ও আবুল কালাম আজাদ নামের ২সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ১টি রিভলবার, ১টি ওয়ান স্যুাটার গান ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে র্যাব। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা গতকাল মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারী) সকাল সাড়ে ৮ টায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু পুরান পাড়া গহীন অরণ্যে থেকে ৫ টি লুন্ঠিত অস্ত্র, ৫ দেশীয় তৈরি অস্ত্র ও ১৮৯ রাউন্ড চাইনিস রাইফেলের গুলি ও ২৬ টি দেশীয় তৈরি গুলি উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র উদ্ধারের সময় র্যাব মহা পরিচালক বেনজির আহমদ, আনসার ভিডিপির মহাপরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান, র্যাব ৭ এর কর্ণেল আনোয়ার, লেঃ কমান্ডার আশিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্র গুলো কি ভাবে উদ্ধার হয় তা প্রত্যক্ষ করেন।
এসময় ঘটনাস্থলে র্যাব এর মহাপরিচালক বেনজীর আহম্মদ সাংবাদিকদের এক প্রেস ব্রিফিংকালে বলেন,বাংলাদেশের মাটিতে কোন সন্ত্রাসীদের জায়গা হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশের মাটিতে কোন সন্ত্রাসী এবং জঙ্গীদের ঠাঁই হবে না। তাই বাংলাদেশকে র্যাব একটি সন্ত্রাস ও জঙ্গি মুক্ত দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে চাই।
তিনি আরো বলেন, গত ২০১৬ সালের ১২ মে টেকনাফের নয়াপাড়া আনসার ক্যাম্পে আরএসওর রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ১১ টি অস্ত্র, ৬শ ৯০ রাউন্ড গুলি লুট করে এবং আনসার ক্যাম্পের পিসি আলী হোসনকে হত্যা করে। এ পর্যন্ত পুলিশ র্যাব অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে রফিক ডাকাত সহ ৯ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। তবে র্যাব ৮জন এবং পুলিশ ১জন সন্ত্রাসীকে আটক করে। র্যাব সদস্যরা এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে সার্বক্ষনিক কাজ করে যাবে বলে তিনি জানান।
আনসার ভিডিপির মহাপরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ৫ টি নয়াপাড়া আনসার ক্যাম্প থেকে লুট হওয়া অস্ত্র বলে প্রাথমিক ভাবে সনাক্ত করা হয়েছে। টেকনাফ আনসার ক্যাম্পে আরএসও সন্ত্রাসীদের হত্যা ও অস্ত্র লুটের ঘটনার পর থেকে র্যাব আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় উদ্যেগ নিয়ে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করায় তাদেরকে আনসারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
একই সময়ে র্যাব ৭ এর সদস্যর আটককৃতদের স্বীকারোক্তিমতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী হাসান আহম্মদকে আটক করে।
