সিটিনিউজ ডেস্ক : টোস্ট অতিরিক্ত আগুনের তাপে লালচে হয়ে যাওয়া পাউরুটি৷ তাতে মাখন আর চিনি লাগিয়ে প্রাতঃরাশে আহার। প্রাণঘাতী হতে পারে এই অভ্যাস৷
পশ্চিমা গবেষকরা বলছেন, বাদামি পাউরুটি বিপজ্জনক! তা থেকে ক্যান্সার হতে পারে৷ শুধু পাউরুটি নয় , ছাঁকা তেলে আলুর ‘ডিপ ফ্রাই’-ও একই বিপদ ডেকে আনতে পারে৷ আর বাহারি, বৃত্তাকার গ্রিল করা মুরগির মাংসও ক্যান্সারের উপকরণ।
ব্রিটেনে এ ধরনের খাবার নিয়ে গবেষণা চলছে৷ গবেষকরা সাবধান করছেন অ্যাক্রিলামাইড থেকে। এটি এক ধরনের রাসায়নিক যৌগ৷ পাউরুটি সেঁকা বা আলু ভাজার সময় উপজাত হিসেবে এই যৌগ তৈরি হয়। অ্যাক্রিলামাইড -ই ক্যান্সারের জনক। কী ভাবে এটি খাবারের মধ্যে তৈরি হয়? মূলত পানি, শর্করা ও অ্যামাইনো অ্যাসিডের যোগফলে রাসায়নিকটির জন্ম। যে খাবারে শর্করার পরিমাণ বেশি, সেগুলো রান্না করার সময় বাদামি রং ধারণ করলেই বুঝে নিতে হবে, তার মধ্যে অ্যাক্রিলামাইড রয়েছে৷ পাউরুটি, আলু বা মুরগির মাংস দিয়ে কোনো খাবার তৈরির সময় তো বটেই, এমনকি বিস্কুট, চিপ্স, কেক, কফিতে ওই ভয়ঙ্কর পদার্থটি থাকতে পারে৷
বাড়িতে টোস্টারে পাউরুটি সেঁকছেন৷ তাপমাত্রা বাড়িয়ে বেশি ক্ষণ টোস্টারে রাখা গেলে পাউরুটি বেশি বাদামি হয়৷ আর যত বাদামি হয়, স্বাদ বাড়ে। আলুও যত বাদামি করে ভাজা হয়, তা মুচমুচে হয়, খেতে ভালো লাগে। তৈরি হওয়া খাদ্যবস্তু যত বেশি বাদামি, সেই খাবারে তত বেশি পরিমাণে অ্যাক্রিলামাইড রয়েছে৷
গবেষকদের বলছেন, এ সব অভ্যাস পাল্টাতে হবে৷ নইলে রাসায়নিকটি ধীরে ধীরে শরীরে ঢুকতে থাকবে বেশি পরিমাণে, ফলে ক্যান্সার।
গবেষকরা বিভিন্ন প্রাণীর উপর অ্যাক্রিলামাইডের কুফল পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাদের দেহে ক্যান্সার ধরা পড়েছে। ওই রায়ায়নিক প্রাণিদেহের ডিএনএ -র পক্ষে ক্ষতিকর৷ এতে স্নায়ুতন্ত্র ও প্রজনন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে মানুষের উপর ওই রাসায়নিকের প্রভাব কতটা, তার পরীক্ষা এখনও হয়নি৷
গবেষকদের মতে, সাধারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাসের যা ধরন, তাতে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ক্ষতিকর রাসায়নিকটি নিয়মিত যথেষ্ট পরিমাণে তাদের দেহে ঢুকছে।
ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে -র স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এমা শিল্ডসের বক্তব্য , নিজেদের কথা ভেবেই সতর্ক হওয়া উচিত৷ কবে মানুষের দেহে তার প্রভাব বিজ্ঞানীরা পর্যবেক্ষণ করবেন, সে জন্য অপেক্ষা করার কী দরকার!
ফুড স্ট্যান্ডার্ড এজেন্সি (এফএসএ ) বাদামি -রঙা খাবার খাওয়া বন্ধ করতে ব্রিটেনে প্রচার শুরু করেছে।
এফএসএ প্রচারে যে সাবধানবাণী তুলে ধরছে, তা সাহেবি প্রাতঃরাশে বহুদিন অভ্যস্ত হয়ে ওঠা বাঙালিরও শুনে রাখা ভালো৷ টোস্ট হোক বা রোস্ট , ভাজা হোক বা বেকিং , খাবারের রং যেন সব সময় হলদেটে সোনালি রঙের হয়৷ বাদামি কখনও নয়৷ কাঁচা আলু কখনই রেফ্রিজারেটরে রাখবেন না৷ যে ওভেনে টোস্ট বা রোস্ট হচ্ছে, তার ব্যবহার পদ্ধতি ঠিকঠাক অনুসরণ করতে হবে৷
নির্দেশিকা বলছে , স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবারদাবারের কোনো বিকল্প নেই৷ রোজ পাঁচ রকম সবজি ও ফল খাওয়া উচিত৷
এফএসএ -র অধিকর্তা স্টিভ ওয়ের্নে বলেন, সাধারণ মানুষ এ ব্যাপারে সচেতন নয়৷ অথচ একটু সতর্ক হলেই বিপদ এড়ানো সম্ভব৷ এর জন্য প্রিয় খাবারটি পরিত্যাগ করারও দরকার নেই।
