সিটিনিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মানবপাচার মামলায় জামিন না দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এজলাশ ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ৯ আইনজীবীকে শোকজ করছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। এই ৯ আইনজীবী হলেন- আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস মুক্তা, চন্দন বিশ্বাস, শাকিল, আউয়াল খান, টি আর খান, প্রদীপ দাশ, শিবলী, মাসুদ পারভেজ এবং মুস্তাফিজ।
তাদেরকে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। নোটিশে জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে মামলা চলবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ২৩ জানাুয়ারি বার কাউন্সিলকে চিঠি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আইনজীবীরা আইন পেশায় নিয়োজিত থাকলেও তাদের কাছ থেকে কখনোই এজলাশ ভাঙচুর ও মামলার মূল্যবান নথি তছনছের যে ঘটনা ঘটিয়েছেন তা কখনোই কাম্য নয়। নিঃসন্দেহে এহেন কর্মকাণ্ড নিন্দনীয় ও গুরুতর পেশাগত অসদাচরণেল শামিল। এরূপ আচরণকারী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ব্যাতীত অন্য কোন বিকল্প নেই। এমতাবস্থায় আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বার কাউন্সিল এ ঘটনায় জড়িত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সুপ্রিম কোর্ট এই চিঠির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অভিযোগ আমলে নিয়ে ৯ আইনজীবীকে শোকজ নৌটিশ দিল।
মানব পাচার আইনে করা একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়া আইনজীবী জামাল হোসেন ও তার স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তারের জামিন আবেদন না-মঞ্জুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনজীবীরা চট্টগ্রাম ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ভাঙচুর, মামলার নথি তছনছ ও বিচারকের খাস কামরার বাইরের জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। এমনকি বিচারকরেক তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে অন্য একটি আদালত ওই দুই জনের জামিন মঞ্জুর করে। এ ঘটনায় ইতমধ্যে প্রধান বিচারপতি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। কমিটির তদন্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের চিঠিতে বলা হয়েছে, আইনজীবী ও তার স্ত্রীর জামিন ও রিমান্ড আবেদন না মঞ্জুরের পর কোনো কারণ ছাড়াই চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির কতিপয় আইনজীবী নজিরবিহীনভাবে অনাকাঙ্কিত পেশাগত অসদাচরণ করেন। তাদের মধ্যে আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস মুক্তা আদালতের নথি ছুড়ে মারেন। আইনজীবী চন্দন বিশ্বাস, শাকিল, আউয়াল খান, টি আর খান, প্রদীপ দাশ, শিবলী, মাসুদ পারভেজ এবং মুস্তাফিজসহ আরো কয়েকজন আদালত প্রাঙ্গণে শ্লোগান প্রদান ও বিচারকের নাম উল্লেখ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ আদালত কক্ষ, বিচারকের খাস কামলা ভাঙচুর করেন।
চিঠিতে বলা হয়, বিগত ২০০০ সালে ঢাকার চিফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আইনজীবীরা অনুরূপ আচরণ করলে একটি মামলা দায়ের এবং আইনজীবীরা গ্রেফতার হন। কিন্তু প্রধান বিচারপতির নির্দেশে বর্তমান ঘটনায় অদ্যবধি কোনো মামলা দায়ের হয়নি। আদালতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা বার কাউন্সিলের দায়িত্ব।
