একুশে বইমেলা ১৪-২৩ ফেব্রুয়ারি

0

নিজস্ব প্রতিনিধি :  একুশে বইমেলা উপলক্ষে ১০দিনব্যাপী আগামী ১৪-২৩ ফেব্রুয়ারি  নগরীর নজরুল স্কয়ার ডিসি হিল প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠি হবে । একুশ মেলা পরিষদের উদ্যোগে রোববার(১২ফেব্রুয়ারী) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সংবাদ সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন একুশ মেলা পরিষদের মহাসচিব ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব। লিখিত বক্তব্যে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা জানেন একুশ মেলা পরিষদের উদ্যোগে নানান প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে চট্টগ্রামে একুশের বইমেলা আয়োজিত হচ্ছে। এবার এই আয়োজন রজতজয়ন্তী বর্ষে পদার্পণ করছে।

আগামী ১৪ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি নগরীর নয়নাভিরাম নজরুল স্কয়ারে (ডিসি হিল) দশদিন একুশের বইমেলা আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা জানি এই প্রচেষ্টা এবারও অতীতের মত সকলের সহযোগে সম্পন্ন হবে। তারপরও বলতে হয় এই প্রচেষ্টা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই এই একুশের বইমেলা অনুষ্ঠিত হয় সংস্কৃতিকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতায়। তাঁরা ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে আসেন এবং প্রয়োজনে তাঁদের সর্বাত্মক সামর্থ্য উজার করে দেন।

আমাদের চলার পথ অত্যন্ত কঠিন। চট্টগ্রামে সৃজনশীল বই প্রকাশনার সংকট ও বন্ধগত্ব আমাদেরকে বেদনাহত করে। এক সময় চট্টগ্রামের বইঘর সারাদেশে সৃজনশীল বই প্রকাশনায় সারাদেশে আলো ছড়িয়ে ছিল। প্রতিষ্ঠানটি এখন অবলুপ্ত। হাতেগোনা যে ক’টি প্রকাশনা সংস্থা রয়েছে সেগুলো লাভের কথা দূরে থাক, লোকসানের বোঝায় ভারী হয়ে বিলুপ্তির পথে। এই নির্মম বাস্তবতা সত্ত্বেও আমরা একুশের বইমেলা করে যাচ্ছি বাঙালির মনের জগতকে সৃজনশীল করার জন্য। আজ নতুন প্রজন্ম বইবিমুখ। তারা তথ্য প্রযুক্তির সহজলভ্য বিনোদনের স্রোতে গা ভাসিয়েছে। তাদের কল্পনার জগত ছোট হয়ে গেছে। এরা পটন-পাঠন থেকে ছিটকে পড়েছে। রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-জীবনানন্দ-জসীম উদ্দীন কী তা জানে না।

এরা পাশ্চাত্যের প্রভাবে শিকড়চ্যুত। আজকের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের একাডেমিক পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার ঘোড় দৌঁড়ে ব্যস্ত। তাদের কাছে সন্তানদের একটি ভাল বই পড়া মানেই সময় নষ্ট। আমাদের কাছে আরো তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো, ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে একুশের বইমেলায় ঢাকা থেকে কোন প্রকাশনা সংস্থা সরাসরি অংশগ্রহণ করেন না। তবে ঢাকা ও কলকাতা থেকে তাদের সাম্প্রতিক প্রকাশনাগুলো পাঠনে। এতে কিন্তু বইমেলা পূর্ণাঙ্গতা পায় না। তারপরও লেখক, পাঠক, সংস্কৃতিকর্মীদের সমাবেশে এই আয়োজন বর্ণাঢ্য হয়ে ওঠে। তাই বই মেলা শুধু বইয়ের নয় সংস্কৃতি লালন-পালনের চারণভূমি হয়ে ওঠে। নৃত্য-গীত-আবৃত্তি-নাটক ও বিষয়ভিত্তিক সেমিনারে ডিসিহিল প্রাঙ্গণ সকাল-বিকেল-সন্ধ্যে-রাত মুখরিত থাকে।

এই আয়োজনে কোন বাণিজ্যিক অভিপ্রায় নেই, আছে ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি প্রবহমান আবেগের ফগ্নুধারা। তারপর এই আয়োজন সম্পন্ন হচ্ছে কিছু শুভানুধ্যায়ীর সর্বাত্মক সহযোগিতা ও প্রনোদায়। তাঁদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, একুশ মেলা পরিষদের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ আলহাজ্ব নঈম উদ্দিন চৌধুরী, আলহাজ্ব সফর আলী, শেখ মাহমুদ ইসহাক, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চ সম্পাদক সাংবাদিক সৈয়দ ওমর ফারুক, মেলা পরিষদের কো-চেয়ারম্যান, হাজী মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, দৈনিক মুক্তবাণীর সম্পাদক ববিতা বড়ুয়া, মেলা পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী শওকত আলী সেলিম, মেলা পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব সুমন দেবনাথ, খোরশেদ আলম, ইয়াছির আরাফাত, আবদুল্লাহ আল মামুন, রোটারিয়ান মো. সাজ্জাদ।

আরো উপস্থিত ছিলেন নগর যুবলীগ সদস্য খোরশেদ আলম রহমান, জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক ছাত্রনেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ, মো. গিয়াস উদ্দিন, পেয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু, সংস্কৃতিকর্মী সিব্বির আহমেদ বাহাদুর, কবি সজল দাশ, সাহাদাত চৌধুরী সাইমন, বিজয় চক্রবর্ত্তী, হানিফুল ইসলাম হানিফ, আমিনুল নিজামী রিফাত, মুজিবুর রহমান প্রমুখ।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.