মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে বিকাশে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

0

নিজস্ব সংবাদদাতা,চন্দনাইশ::উপজেলার বরমা মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলমের স্ত্রী মিনুয়ারার নিকট থেকে টাকা পাওয়ার কথা বলে বিকাশে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার বরমা এলাকার মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলমের স্ত্রী মিনুয়ারাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে টাকা পেয়েছে সংবাদ দিয়ে বিকাশে ৫০ হাজার টাকা কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছে।

এ ব্যাপারে মিনুয়ারা বেগম জানান, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকালে স্থানীয় চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পরিচয় দিয়ে ফোন করে তার স্বামীর নামে টাকা এসেছে বলে স্থানীয় চেয়ারম্যান জাফরকে তার নিকট খবর দেন এব জেলা প্রশাসক অফিসের পরিচয় নাম্বার ০১৮৩৩৯৭৭৮০৮ এ যোগাযোগ করার জন্য বলেন।

উক্ত নাম্বারে মিনুয়ারা মোবাইল করলে তাকে জানানো হয় যে, তার স্বামীকে এ গ্রেডে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকায় রেখে ২ লক্ষ ৭০ হাজার পাস করা হয়েছে। এ গ্রেডে আনতে তাদের কিছু টাকা খরচ হয়েছে। সে জন্য তাকে ১ লক্ষ টাকা দিতে বলেন। একই সাথে এক বছর আগে তার স্বামীর নামে করা ঘরের জন্য আবেদনটিও মঞ্জুর হয়েছে বলে জানান। বিকাল ৪ টায় মোবাইলে যোগাযোগ করার পর ৬ টার মধ্যে তার স্বামীর মুক্তিযোদ্ধা সনদ, গেজেট ও তার একটি ছবি juharvesf@yahoo.com এ পাঠানোর জন্য বলেন।

সে সাথে তাদের চাহিদা মত ১ লক্ষ টাকা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের পি.এস পরিচয় দেয়া নাম্বার ০১৭৮২৮৬০৭৯৭ এ বিকাশে টাকাগুলো পাঠানোর জন্য বলেন। বিষয়টি অন্য কাউকে না বলে গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্য তাদের জানানো হয়। এ সময় তাদের কাছে এত টাকা ছিল না বলাতে অবশেষে অনেক ধার-কর্জ করে মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলমের স্ত্রী মিনুয়ারা বেগম ৫০ হাজার টাকা যোগাড় করে তাদের দেয়া বিকাশ নাম্বারে পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে পাঠিয়ে দেন। তখন অপরদিক থেকে

মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের পি.এস পরিচয়দানকারী রবিবার সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় তাদের প্রাপ্য ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে পুনরায় টেলিফোন করে জানান যে, তাদের অতিথিরা সময়মত আসতে না পারায় বিকাল ৩ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য বলেন এবং তাদেরকে প্রাপ্য জমি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে জায়গা পাওয়ার জন্য ২ লক্ষ টাকা জমা দিতে বলেন। পরবর্তীতে তারা ২৬ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় গিয়ে বিষয়ে জানতে চাইলে তারা এটা ভুয়া বলে জানালে, মাথায় হাত দিয়ে মিনুয়ারা বেগম। একইভাবে শেবন্দীর দেলোয়ার হোসেনকেও প্রতারণা করার চেষ্টা করলে তার ছেলে এবং সে এ বিষয়ে তাদের সাথে কথোপকথন করে এক পর্যায়ে ডকুমেন্ট পাঠালেও গড়িমসি করে একই স্টাইলে টাকা নিতে চাইলে টাকা পাঠাননি বলে জানান। দেলোয়ার ঐ দিন চট্টগ্রাম শহরে থাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি জানতে পেরে প্রতারণা থেকে রেহায় পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। পরবর্তীতে এ নাম্বার গুলোতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে নাম্বারগুলো বন্ধ পাওয়া যায় বলে জানান। একইভাবে প্রতারণা করতে চেয়েছিল মাইগাতার অজিত দাশের স্ত্রী স্বরস্বতী দাশকে। কিন্তু তারা বিষয়টি গুরুত্ব না দেয়ায় তারা বেচে যায় প্রতারণা থেকে।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পরিচয় দিয়ে একটি মোবাইল থেকে জানান যে, বরমা ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম, অজিত দাশ এবং দেলোয়ার হোসেন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা পাবেন বলে জানান। এ ব্যাপারে তাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য একটি নাম্বার দেন। সে হিসেবে তিনি মেম্বারের মাধ্যমে তাদেরকে খবর দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করার জন্য। তিনি অন্য প্রতারণার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার আবদুল মালেক জানান, তিনি বিষয়টি জানতে পেরে ঐ দিন বিকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক সামশুল আরেফীনের সাথে মোবাইলে কথা বলেন। তিনি এ ধরনের কোন প্রকল্প সরকার পাঠায়নি বলে জানালে, বিষয়টি তিনি দেলোয়ারের পরিবারকে জানিয়েছেন বলে জানান।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.