দুরন্ত কৈশরের স্বপ্নের ক্যাম্পাসে মিলনের বর্ণিল আয়োজন

0

মো: সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি::একসাথে স্কুলে যাওয়া টিফিনে ভাগাভাগি করে নাস্তা খাওয়া একই স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়া আবার স্কুল শেষে বান্ধবীদের সাথে গল্প-আড্ডায় স্বপ্নিল এক সময় কাটানো মানুষগুলো একে একে দুরে চলে গেলো নিয়তির অঘোম নিয়মে। স্বামী সংসার কিংবা চাকুরির ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে হঠাৎই বুকের ভিতর চিনচিন করে উঠে পুরনো সেইসব স্মৃতি মনে করে। মনের অজান্তেই চোখের সামনে ভেসে উঠে কৈশর আর যৌবনের প্রাক্কালের মধুর সেই সুখ স্মৃতি। আহ! কতই আনন্দঘন ছিল সেই সব দিনগুলি। সত্তরের দশকের সেই লাজুক মেয়েগুলো আজ বয়োঃবৃদ্ধ। আশির দশকের দুরন্ত কিশোরীরা পাকা সংসারি। নব্বই দশকের চঞ্চলা মেয়েগুলো স্বামী সংসার নিয়ে জীবন যুদ্ধের দিন গুনছে। একবিংশ শতাব্দির আধুনিক মেয়েগুলো নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরিতে ব্যস্ত। অবশ্য এসব মেয়েগুলোর কেউ কেউ সংসারের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। কেউ কেউ মায়ার এই পাহাড় ছেড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে। কেউবা আবার জীবন সঙ্গীর সাথে দুরদেশেই পাড়ি জমিয়েছেন। সময়ের নিষ্টুর ব্যবধানে কাছের বান্ধবীদের থেকে ছিটকে পড়ে জীবন জীবিকা কিংবা সংসার নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়া মেয়েগুলোর মনের অজান্তেই অতীতের প্রানোচ্ছল স্মৃতিগুলো হাতড়িয়ে বেড়ায়। আর কখনো হয়ত প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। সম্ভব নয়-বান্ধবীদের সাথে কাটানো মধুর দিনগুলোতে ফিরে যাওয়া। মনের অজান্তেই প্রশ্ন জাগে-হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের কি আর কখনো দেখা মিলবে। শোনা হবে কি কে কেমন আছে? স্বপ্নের ক্যাম্পাসে প্রিয় মানুষগুলোর সাথে আবারো জমিয়ে আড্ডা আর সময় কাটানোর মহৎ সেই উদ্যোগটাই নিলেন জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান। পার্বত্যাঞ্চলের প্রথম নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে স্কুল পাড়ি দেয়া শিক্ষার্থীদের আবারো একই ছামিয়ানায় আনার ব্যবস্থাও করলেন তিনি। বিশাল সেই আয়োজনের প্রস্তুতি চলে দিনরাত। অবশেষে ঘনিয়ে এলো সেই দিনক্ষন। অনুষ্ঠানের পূর্বে তরুন গীতিকার জসীম উদ্দিনের লেখা ও রনেশ্বর বড়ুয়ার সুরে থিম সং গেয়ে পুরো শহর প্রদক্ষিণ করে স্কুলের বর্তমান মেয়েরা। আর অনুষ্ঠানের আগের দিন থেকেই দেশের দুর-দুরান্ত থেকে মেয়েরা স্বামী-সন্তান ও পরিবার নিয়ে আসতে থাকে রাঙামাটি শহরে। দুপুর থেকেই শহরের বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে অবস্থান নেয় তারা। কেউ কেউ বন্ধু কিংবা স্বজনের বাড়িতেই আশ্রয় নেয়। বিকেল তিনটায় স্কুল ক্যাম্পাসে গিয়ে রেজিস্ট্রেশনের সর্বশেষ কাজটি সেরে নেয়। সর্বশেষ ১১৮২ জন প্রাক্তন ছাত্রী রেজিস্ট্রেশন করে। বুঝে নেন গিফট সামগ্রি।

শুক্রবার সকালে উন্নয়ন বোর্ড প্রাঙ্গন থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালীর মাধ্যমে শুরু হবে আনুষ্ঠানিকতা। এরপর স্কুল ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হবে স্মৃতি চারন। প্রথম দিনে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মোঃ ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি। জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নানের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংসদ ঊষাতন তালুকদার, ফিরোজা বেগম চিনু, সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান তরুন কান্তি ঘোষ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, রাঙামাটি পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী। আগামীকাল অনুষ্ঠেয় সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি থাকবেন আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা। জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নানের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি থাকবেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা, রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ গোলাম ফারুক। গেস্ট অব অনার কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। সময়টাকে আরো বর্ণিল ও প্রানোচ্ছল করে তুলতে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি মঞ্চ মাতাবেন জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী কনা।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.