উদ্বোধনের অপেক্ষায় আইপিইউ সম্মেলন

0

সিটিনিউজ ডেস্ক::ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া আন্তঃপার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) উদ্বোধন করা হবে আজ। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ১৩৬তম সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি স্মারক ডাকটিকেট উন্মোচন এবং আইপিইউ ওয়েব টিভিও উদ্বোধন করবেন।

সম্মেলনের অন্যান্য ইভেন্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। পাঁচ দিনের এই সম্মেলনে ১৩২টি দেশের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ-সদস্যসহ সহস্রাধিক প্রতিনিধির অংশ নেবে। তবে পাকিস্তান সম্মেলনে যোগ দেবেন না বলে আগেই জানিয়েছে।

সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এজন্য ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও কলাকুশলীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।

শনিবার সকালে সংসদের দক্ষিণ প্লাজা এলাকা পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এ সময় পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক ও ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া তার সঙ্গে ছিলেন। তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ সার্বিক বিষয়ের খোঁজখবর নেন।

গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইপিইউ’র সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক অগ্রগতি তুলে ধরা এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরী আল ফ্রেড কিসিঞ্জারের মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সৃষ্ট নেতিবাচক ধারণা দূর করার একটি সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন বলেন, সফলভাবে সম্মেলন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রগতির ক্ষেত্রে এটি হবে একটি মাইল ফলক। এই সম্মেলন দেশের জন্য বিরল সম্মান বয়ে আনবে। তিনি বলেন, আমরা এই সম্মেলন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের চলমান অগ্রগতি, সম্ভাবনা এবং একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ার কথা তুলে ধরার সুযোগ পাবো।

”রিএ্যাড্রেসিং ইনইকুয়ালিটি: ডেলিভারিং অন ডিগনিটি এন্ড ওয়েল বিং ফর অল” এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে এবারের সম্মেলন শুরু হচ্ছে। সম্মেলনে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এবং শিশু অধিকার কর্মী কৈলাস সারথি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।

১৯৭২ সালে ফোরামে যোগ দেয়ার পর এই প্রথমবারের জন্য বিশ্বের আইন প্রণেতাদের দীর্ঘদিনের পুরানো এই সংগঠনের সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ হয়েছে বাংলাদেশ। এতে বিশ্বের ১২০টি দেশের ৫৩ জন স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং ২০৯ জন নারী পার্লামেন্টারিয়ানসহ মোট ১৩৪৮ জন প্রতিনিধি যোগ দেবেন।

এদিকে সম্মেলনে যোগদান করা প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে  শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে ও বাইরে চার স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১২শ নিরাপত্তা কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। এবং নিরাপত্তা কাজ তদারকিতে এএসপি থেকে এসপি পযার্য়ের আরও ১৪ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। বিদেশী অতিথিদের ব্যাগ ১৭ মিনিটের মধ্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাউন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি একটি হেলফ ডেস্কও স্থাপন করা হয়েছে।

বিমান বন্দর থেকে বিআইসিসি পর্যন্ত এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার সড়কে অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে না রঙের ফেস্টুন ও ব্যানার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া আজ থেকে বুধবার পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সড়কে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

 

 

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.