দেশবাসীকে দিয়েছেন অন্য রকম ঈদ উপহার

0
সিটিনিউজবিডিঃ ঈদ মানেই খুশি৷ ঈদ মানেই আনন্দ। সবাই যে যার মতো করে ঈদ উৎসবে মেতে ওঠেন। সে আনন্দে পূর্ণতা আনতে বাংলাদেশের মানুষেরা ব্যস্ত ঈদ আয়োজনে। কেউবা বাড়ি যাওয়ার পথে। কেউবা কেনাকাটায়। সবার এ রকম ব্যস্ততার মাঝে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন মাশরাফিরা।
চট্টগ্রামে যে তারা দেশবাসীকে  দিয়েছেন অন্য রকম এক ঈদ উপহার। যে উপহারের নাম দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একদিনের সিরিজ জয়, যা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম। তাই এবারের ঈদ বাঙালির জীবনে এসেছে ব্যতিক্রম হয়ে, নতুনের আবাহন নিয়ে। যে কারণে এবার দু’দিন আগেই ঈদের আনন্দে পেয়ে গেলো বাংলাদেশের মানুষ! আনন্দ উদযাপনে কেউ যদি আজ নতুন জামা-কাপড় পরে রাস্তায় বেরিয়ে যান, অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না৷
বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি ছিল টানা চতুর্থ সিরিজ জয়। বাংলাদেশ এর আগেও টানা চারটি সিরিজ জিতেছে। কিন্তু সেগুলো ছিল দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। এবার চারটির তিনটিই বাঘা বাঘা দল। জিম্বাবুয়েকে দিয়ে শুরু। পরে পাকিস্তান, ভারতের পর দক্ষিণ আফ্রিকা বধ। বাংলাদেশের ইতিহাসে ছিল এটি সব মিলিয়ে উনিশতম সিরিজ জয়। ধারাবাহিক এ রকম সাফল্য বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নিয়ে গেছে নতুন উচ্চতায়। উদীয়মান বাঘ থেকে যে কোনো দলকে হারানোর ক্ষমতা অর্জন। এবার সেখানে যোগ হবে বাংলাদেশ ওয়ানডেতে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরাক্রমশালী।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ, যে এভাবে সিরিজ জিতবে তা ছিল ভাবনারও বাইরে। টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাজেভাবে হারের পর প্রথম একদিনের ম্যাচেও একই পরিণতি। অতীতে এ রকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কোনো রকম সিরিজ শেষ করতে পারলেই বাঁচতো। আশার বাণী থাকত সামনে ভালো করার। এবার সেখানে  কি বিপুল বিক্রমেই না ঘুরে দাঁড়ালো। হারের বদলা যেভাবে নেয়া যায় ঠিক সেভাবেই দ্বিতীয় ম্যাচে সাত উইকেটের জয়ের পর সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে জয় এসেছে নয় উইকেটে। যা আবার বাংলাদেশের সেরা জয়ের তালিকায় উঠে এসেছে। নয় উইকেটে জয় আগে আরও দুটি ছিল। সেগুলো যথারীতি দুর্বল প্রতিপক্ষ। সেখানে নাম যোগ হয়েছে পরাক্রমশালী দক্ষিণ আফ্রিকা। ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে জয়ের জন্য ১৭০ রান ছুঁয়েছে কি বিপুল বিক্রমে। শুধু নয় উইকেট হাতেই নয়; সঙ্গে ওভার অব্যবহৃত ছিল ১৩.৫টি। ভাবনাকেও হারা মানানো জয়!
ব্যাটে-বলে এ যেন এক অন্য বাংলাদেশ। বল হাতে বোলাররা যেমন হুঙ্কার দিয়েছেন। তেমনি ব্যাট হাতে ব্যাটসম্যানরা রানের ফলুঝরি ছিটিয়েছেন। বাংলাদেশের এ রকম জয় সহজ করে দিয়েছেন বোলাররা। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনকে আবারো অল্প রানে আটকে রাখার মূল কৃতিত্ব বাংলাদেশের বোলারদের। ঢাকার উইকেটের সঙ্গে চট্টগ্রামের উইকেটেরও কোন আমূল পরিবর্তন ঘটেনি। ঢাকায় দুইটি ম্যাচে যেমন বোলারদের দাপুটে লো-স্কোরিং ম্যাচ হয়েছিল চট্টগ্রামেও তাই ঘটেছে। একদিনের ক্রিকেটে টস জেতাটা মহাগুরুত্বপূর্ণ হলেও এই সিরিজে যেন না জেতাটাই মুশকিলে আহসান হয়ে উঠেছে। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নিজেদের ফাঁদে নিজেরাই পড়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রেও ঘটেছিল একই ঘটনা। চট্টগ্রামে টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকার দলপতি হাশিম আমলা আবারো টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নিজেদের কুপে যেন নিজেরাই পড়েছেন। যে উইকেটে তাদের ব্যাটসম্যানরা রানের জন্য সংগ্রাম করেছেন পরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের দুই ওপেনার সৌম্য-তামিমের ব্যাটে ছিল রানের উচ্ছলতা। দুই ওপেনার এমনভাবে খেলা শুরু করেছিলেন যে বাংলাদেশের ১০ উইকেটে জয় আর সৌম্য সরকারের সেঞ্চুরিই আশা করেছিলেন। কিন্তু জয় থেকে মাত্র ১৬ রান দূরে থাককে সৌম্য ৯০ রানে আউট হলে জয়ের আনন্দের মাঝেও সবার মাঝে কিছুটা হলেও হতাশা বিরাজ  করে! এই রান তাড়া করতে নেমে ১৬ ওভার শেষ হওয়ার আগেই ১০০ করে ফেলেন তামিম-সৌম্য জুটি। এবার নিয়ে তৃতীয়বার ওপেনিংয়ে সেঞ্চুরি করলেন এই জুটি। বাংলাদেশের আর কোনো ওপেনিং জুটি দুইবারের বেশি ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করতে পারেননি। তামিম-সৌম্যর জুটির ‘নির্মম’ ব্যাটিং প্রোটিয়াদেরকে ম্যাচ থেকে চূড়ান্তভাবে ছিটকে ফেলে। শেষ পর্যন্ত ১৫৪ রানের সময় হঠাৎ করেই মনোসংযোগ হারিয়ে বসেন সৌম্য। ইমরান তাহিরের বলে শর্ট কাভারে হাশিম আমলাকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তিনি।
অথচ এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা নিয়েই ছিল ঘোরতর সংশয়। ম্যাচের দুই ঘণ্টা আগেও জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের আকাশে ছিল ঘনকালো মেঘ। ম্যাচের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মেঘও কমে আসে। ফলে নির্ধারিত সময়েই শুরু হয় খেলা। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের ২৩তম ওভার শেষে ঠিকই নেমে আসে বৃষ্টি। প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকে খেলা। পুরোটা সময় গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন ১৫ হাজারের বেশি দর্শক! ক্রিকেট পাগল চট্টগ্রামবাসীর ওই প্রতীক্ষার উপহার হিসেবেই যেন মাঠে একেকটা আস্ত বাঘ হয়ে উঠেছিলেন মাশরাফিরা। তা না হলে কি আর দক্ষিণ আফ্রিকাকে পরপর দুই ম্যাচে নাস্তানাবুদ করা যায়? বিশ্বের সেরা সেরা দলের কাছেও তো এটা স্বপ্নের মতো ব্যাপার। অথচ মাশরাফিরা বিশাল এই স্বপ্নটা ছুঁঁয়ে ফেললেন কি সহজে!
চিত্রনাট্যটা লেখা ছিল আগেই। আগে ব্যাটিং করলে স্কোরবোর্ডে তুলে ফেলো বিশাল রান আর বোলিং করলে প্রোটিয়াদের আটকে রাখো সম্ভাব্য সবচেয়ে কম রানে। টস হেরে ফিল্ডিং করায় প্রথম চিত্রনাট্য অনুসরণের সুযোগ আসেনি মাশরাফিদের সামনে। যে সুযোগ এসেছিল সেটাই পারেনি এ দিন। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে অলআউট হওয়ার শঙ্কার সামনে ছিলো আমলার দল। কিন্তু বৃষ্টি এসে মাশরাফিদের ছন্দপতন ঘটায়। বৃষ্টির কারণে ৪০ ওভারে নেমে আসা ম্যাচের প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা তোলে ১৬৮ রান, নয় উইকেট হারিয়ে। ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডের দুর্বোধ্য নিয়মে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭০ রান। অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে খেলতে নামা স্বাগতিকরা পেস ও স্পিনের যৌথ আক্রমণে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের মৃত্যু ঘণ্টা বাজিয়ে ছাড়েন। তিন পেসার মুস্তাফিজ-রুবেল-মাশরাফি মিলে নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ মিলে নেন চার উইকেট। আগের ম্যাচের সফল বোলারা নাসির কোনো উইকেট না পেলেও রান দেয়ার ক্ষেত্রে কৃপণতা দেখিয়েছেন। প্রোটিয়াদের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ রান জেপি ডুমিনি।  ৪৪ রান আসে ডেভিড মিলারের ব্যাট থেকে।
এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.