ঈদে উৎসব ভাতা নেই, বড়জোর ‘বকশিশ’ জোটে

0

সিটিনিউজবিডি:  চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সাগর উপকূলে গড়ে ওঠা জাহাজভাঙা শিল্পের কারখানার শ্রমিকেরা ঈদের আগে উৎসব ভাতা পান না। এখানকার শ্রমিকের নেই স্থায়ী নিয়োগ, নেই উৎসব ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা। ঈদের আগে কিছু কারখানার মালিক বড়জোর শ্রমিকদের বকশিশ দেন।
সীতাকুণ্ডের শীতলপুর এলাকার শ্রমিক মো. গোলাপ আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের আবার বোনাস! মালিককে বোনাসের কথা বললে কানেও নেন না।’
ভাটিয়ারী এলাকার একটি জাহাজভাঙা কারখানার শ্রমিক মাহবুব হাসান বলেন, পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা ঈদের আগে বোনাস পান। কিন্তু তাঁদেরকে বছরের পর বছর বোনাস পাওয়া থেকে বঞ্চিত রেখেছে মালিকপক্ষ। তিনি বলেন, ‘ছেলেমেয়েদের বোধ হয় কোনো ঈদে নতুন কাপড় কিনে দিতে পারব না।’
আরেক শ্রমিক আজাদ বলেন, অন্যান্য কারখানার মতো জাহাজভাঙা শিল্প কারখানার শ্রমিকদের একতার অভাব। তাই বেতন, বোনাস, নিয়োগ স্থায়ীকরণসহ ন্যায্য পাওনা আদায়ে আন্দোলনও হয় না।
জাহাজভাঙা শিল্প নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন ইপসা জানায়, সীতাকুণ্ডে প্রায় ১৬০টি জাহাজভাঙা কারখানা থাকলেও চালু রয়েছে ৮০টি। এসব কারখানায় প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। তবে জাহাজভাঙা কারখানার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিএ) সূত্র জানায়, সীতাকুণ্ডে এখন ৩৫টি কারখানা চালু রয়েছে।
ইপসার কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী শাহীন বলেন, কারখানাগুলো শ্রমিকদের স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার দাবিটা পুরোনো। কিন্তু মালিকপক্ষ কোনো শ্রমিককে স্থায়ী নিয়োগ দিচ্ছে না। চুক্তিভিত্তিক কর্মরত থাকায় শ্রমিকেরা তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়ক আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, জাহাজভাঙা শ্রমিকদের স্বীকৃত কোনো সংগঠন নেই। তাঁদের পক্ষে দাবিদাওয়া তোলার মতো কেউ নেই।
বিএসবিএর সভাপতি মো. আবু তাহের বলেন, ঠিকাদারের মাধ্যমে শ্রমিকেরা কারখানায় কাজ করেন। স্থায়ী নিয়োগ থাকলে শ্রমিকেরা পেত পাঁচ হাজার থেকে নয় হাজার টাকার মতো। এখন পান কমপক্ষে ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। এ জন্য শ্রমিকেরা স্থায়ী হতে চান না। বোনাস দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বেতনকাঠামো না থাকায় মালিকেরা সামর্থ্য অনুযায়ী শ্রমিকদের বকশিস দেন।
জাহাজভাঙা শিল্পপ্রতিষ্ঠান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কে এম শহীদুল্লাহ বলেন, শ্রম আইন ২০০৬ অনুসারে জাহাজভাঙা কারখানায় চাকরিরত ২০ হাজারের মতো শ্রমিক স্থায়ী নিয়োগ প্রাপ্য হওয়ার কথা। কিন্তু শিল্পমালিকেরা আইন মানছেন না।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.