নিজস্ব সংবাদদাতা, চন্দনাইশ::আগামী ২১ এপ্রিল বিকালে বৈলতলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের পুনর্মিলনীকে কেন্দ্র ইউনিয়ন ছাত্রলীগে দ্বিধা বিভক্ত। পুনর্মিলনীকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের ৪ নেতার পদত্যাগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আগামী ২১ এপ্রিল বিকালে বৈলতলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের উদ্যোগে বৈলতলী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের পূনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাত্র সমাবেশকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাঈদ নুর সুমন, সহ-সভাপতি মো. আবু হানিফ খোকা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন রিফাত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক বরাবর গত ১৪, ১৫, ১৭ এপ্রিল পৃথক পৃথক পদত্যাগপত্র প্রেরণ করেছেন। তারা তাদের পদত্যাগপত্রে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুল হক রিকন স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারের তালিকাভুক্ত মো. ছৈয়দ চৌধুরীর ছেলে হওয়ায় এবং সংগঠনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, অসামাজিক, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত থাকায় পদত্যাগপত্র প্রেরণ করেন। এ ব্যাপারে তারা বলেন, পদত্যাগপত্র ডাকযোগে এবং ই-মেইলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রেরণ করা হয়েছে।
অপরদিকে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুল হক রিকন বলেছেন, যারা পদ-পদবী ব্যবহার করেছে তারা কেউ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের পদ-পদবীভুক্ত নয়। তাছাড়া তার পিতা সম্পর্কে যে অভিযোগ তুলেছেন তা তিনি অস্বীকার করে বলেন, আমি একজন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে যেকোন রাজনৈতিক সংগঠনের সম্পৃক্ত হতে পারি। অন্যদিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক, বর্তমান উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এ এস এম মুছা তসলিম বলেছেন, গত বছরের প্রথমদিকে বৈলতলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের নাম অনুমোদন দেয়া হয়েছিল মাত্র, পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়নি। যারা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের পদ-পদবী ব্যবহার করছেন, তারা কেউ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের তালিকাভুক্ত কমিটির কেউ নন। তিনি আরও বলেন, অনেকেই নিজের নামে পদবী ব্যবহার করে ব্যানার তুলছেন।
এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেয়ার পরও কোপ পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, গত বছর কমিটি দেয়ার পর বৈলতলী ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় পদ-পদবী লিখে ছবি দিয়ে ব্যানার টাঙানো হয়েছে। তখনতো কেউ কোন রকম প্রতিবাদ করেনি। উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় তারা কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে জানান। ফলে বৈলতলী ইউনিয়ন এলাকায় ছাত্রলীগের পদত্যাগ, পদ-পদবী ব্যবহার নিয়ে ছাত্রদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সে সাথে আগামী ২১ এপ্রিল ছাত্র সমাবেশ সফল করার জন্য আয়োজনকারীরা মরিয়া হয়ে উঠেছে।এ ব্যাপারে বিজ্ঞ রাজনৈতিক মহল যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
