টেকনাফে বিক্ষুদ্ধ জনতার সড়ক অবরোধ

0

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার::কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের খারাংখালীর প্রতিষ্ঠিত দুই ব্যবসায়ীকে বিনা কারণে আটকের প্রতিবাদে স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ জনতা প্রধান সড়ক অবরোধ করেছে জনতা। বাজার কমিটির সদস্যরা ও এলাকাবাসী মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে, গাছ কেটে ও বৈদ্যুতিক খুঁটি দিয়ে সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়। এতে অন্ততপক্ষে আড়াই ঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। অবরোধকারীদের প্রতিরোধে পুলিশ ফাঁকাগুলি বর্ষণ করে। বিক্ষুদ্ধ জনতার অভিযোগ, পুলিশ নিরীহ ব্যবসায়িদের ধরে নিয়ে হয়রানী ও বিনা কারণে আর্থিক ক্ষতি করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ২ মে মঙ্গলবার ভোররাতে একদল পুলিশ খারাংখালী এলাকার ঠান্ডা মিয়ার দুই ছেলে মুদির দোকানদার আবুল কাশেম ও আব্দু সালাম প্রকাশ ভুলুর আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সকালে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে খারাংখালী বাজার কমিটির লোকজন ও এলাকাবাসী সকাল ৭ টা থেকে সাড়ে ১০ টায় পর্যন্ত টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে, গাছ কেটে ও বৈদ্যুতিক খুঁটি দিয়ে অবরোধ করে রাখে। এলাকায় উত্তেজনা বাড়লে ঘটনাস্থলে টেকনাফ থানা পুলিশের কয়েকটি দল ও ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পরিচালক আবু রাসেল ছিদ্দিকীর নেতৃত্বে একদল বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছে। অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে প্রায় ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করা হয়। জনগণ ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসলেও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

স্থানীয় ব্যবসায়িদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আবুল কাশেম সওদাগর ও আব্দু সালাম দীর্ঘ দিনের মুদির ও বিকাশ ব্যবসা করে আসছে। তারা কোন ধরণের অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত নয়। পুলিশ ইয়াবা উদ্ধারের নামে তাদেরকে ধরে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণভাবে সড়ক অবরোধ করা হয়। ইয়াবা উদ্ধারের নামে চিহ্নিত কয়েকজন সন্ত্রাসী ও ইয়াবা ব্যবাসায়ীর ইন্ধনে পুলিশ পরিকল্পিতভাবে এধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানান তারা।

আব্দু সালামের স্ত্রী হালিমা বেগম জানান, রাত ৩ টায় একদল পুলিশ বাড়িতে ঢুকে ইয়াবা উদ্ধারের নামে তল্লাশি শুরু করে। কোন ইয়াবা না পেয়ে বিকাশের রক্ষিত নগদ প্রায় ১০ লাখ টাকা, বিকাশের দৈনন্দিন হিসাবের বহিটি নিয়ে যায়। আবুল কাশেম সওদাগরের বাড়ি থেকে ৩ ভরি স্বর্ণ ৪২ হাজার টাকাসহ তাকেও ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। তার দাবী স্বামী বৈধ একজন ব্যবাসয়ী। তাদের অহেতুক হয়রানী করা হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহেদ হোসাইন বলেন, তারা দুই ভাই এলাকায় প্রতিষ্টিত বৈধ ব্যবসায়ি, তাদের বাড়ি থেকে টাকা ও স্বর্ণ লুট করার বিষয়টি শুনেছেন।

হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, পুলিশ ও দালালদের যোগ-সাজশে দীর্ঘদিনের নিরীহ লোকজনকে ধরে নিয়ে হয়রানী করে আসছে। এ ধরনের বেআইনী কর্মকান্ড সম্পর্কে আইন-শৃংখলা মিটিংয়ে বারবার বলা হলেও কোন পদক্ষেপ না থাকায় এধরনের ঘটনা বাড়ছে।

তিনি বলেন, পুলিশ ইয়াবা বিরোধী অভিযানের নামে নিরীহ সহোদর দুই ব্যবসায়ীদের আটকের জেরে এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে জ্বালাও-পোড়াও এবং অবরোধের মতো ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানান তিনি।

টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাঈন উদ্দিন খান বলেন, ইয়াবা উদ্ধারের বিশেষ অভিযানে তাদেরকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ইয়াবার সরঞ্জামাদি পাওয়া গেছে। পাশাপাশি যারা সরকারী কাজে বাঁধা দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে কত রাউন্ড ফাঁকাগুলি বর্ষণ করেছে এবং ইয়াবার কিকি সরঞ্জামাদি পাওয়া গেছে তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন, পুলিশ কথিত ইয়াবা উদ্ধারের নামে বিভিন্ন সময়ে বৈধ ব্যবসায়ীদের আটক করে হয়রানী করে যাচ্ছে। পাশাপাশি ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটকের পর মোটা অংকের টাকা লেনদেনে ছেড়ে দেয়ার অহরহ অভিযোগ তুলেছে এলাকাবাসী।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.