গোলাম সরওয়ার : আগামীতে যে কোন পরিস্থিতিতে নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে বিএনপি। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবী নিয়ে মাঠে থাকবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা এই দলটি। বিএনপির বড় একটি অংশই মনে করে, ২০১৪ দলের ৫ জানুয়ারী নির্বাচন বর্জন করা ছিল ভুল। এ কারনে আগামীতে যা ঘটুক না কেনে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশগ্রহন করলে একটি ইতিবাচক ফল আসার সম্ভাবনা দেখছেন দলের নেতাকর্মীরা।
সার্বিক দিক বিবেচনায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়ার প্রাক-প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে দলটি। অনুসন্ধানে জানা যায় যে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ঘোপনে ৩০০ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকাও তৈরী করছেন বিএনপি প্রধান। এ ক্ষেত্রে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দলের যোগ্য প্রার্থী খুঁজতে নানা প্রক্রিয়ায় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। একই ভাবে চলছে ভিশন-২০৩০ ও নির্বাচনী ইশতেহার তৈরীর কাজ।
দল সমর্থিত বুদ্ধিজীবিসহ নেতাদের অনেকেই মতামত বৈঠক করে চুড়ান্ত করবেন দলের প্রধান খালেদা জিয়া। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন তিনি। ক্ষমতায় গেলে কী কী করবেন তার একটি দিক নির্দেশনা থাকবে। বিএনপির হাইকমান্ড বলছেন, ভিশনটি হবে যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত। ভবিষ্যত প্রজন্মকে সামনে রেখেই এ ভিশন তৈরী করা হচ্ছে। এ ছাড়া ঈদের পর সুবিধাজনক সময় নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিয়েও প্রস্তাব তুলে ধরবেন বেগম খালেদা জিয়া।
সুত্রে জানা য়ায়, আগামী নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখেই দলের ৬ষ্ট জাতীয় কাউন্সিলের পর এই প্রথম বিএনপির পুরো নির্বাহী কমিটি যাচ্ছে তৃনমুল সফরে। এ ছাড়া রমজানে ইফতার পার্টি সামনে রেখে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বিএনপি প্রধান। ঈদের পর তিনি যেতে পারেন বিভাগীয় সফরে। এর এক ফাঁকে যাবেন লন্ডনে। সেখানে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও বড় ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে সলাপরামর্শ ছাড়াও পায়ের চিকিৎসা করবেন।
এদিকে কেন্দ্রের সবুজ সংকেত না পেলেও তৃনমুলের নেতা কর্মীরা ভোটের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীকে ঘিরে চলছে শোডাউন। প্রতিটি জেলায় একাধিখ প্রার্থী রয়েছে দলটির। জেলা পুন:গঠন প্রক্রিয়াতে সম্ভাব্য প্রার্থীর বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে তৃনমুলের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও দলীয় টিকেট পেতে সিনিয়র নেতাদের বাসায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। অনেকেই যোগাযোগ রাখছেন লন্ডনে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রামে চাক্তাই হতে তারেক রহমানের জন্য যাচ্ছে সবচেয়ে দামী শুটকি লাক্কা। চট্টগ্রামের বিএনপির সম্ভাব্য অনেক প্রার্থী লন্ডন কানেকশনে তারেক দম্পতির খাদ্য তালিকায় থাকা শুটকী পাঠাচ্ছেন। এ ছাড়া নানা সুত্রে লন্ডন সফরে গিয়েও চট্টগ্রামের শীর্ষ অনেক বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে আনুষ্টানিক বৈঠক করেছেন। চট্টগ্রামে বিএনপির দ্বিধাবিভক্তি থাকলেও লন্ডন কানেকশন সব নেতার রয়েছে।
বর্তমান সরকারের সময়ে এখন ধীরে ধীরে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে চাঙ্গা হয়ে উঠছে। যদিও প্রত্যেক সভা সমাবেশে তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীন কোন্দলের বহি:প্রকাশ হিসেবে চেয়ার নিয়ে মারামারি এখন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে উঠেছে। তারপরেও রাজপথে বিএনপি রয়েছে সকল বাধা অতিক্রম করে। এর চলমান থাকলে দলীয় কার্যক্রম বাড়বে নি:সন্দেহে।
