আন্তর্জাতিক ডেস্ক::আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের কূটনৈতিক এলাকার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৮০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তিনশ’র বেশি নাগরিক। বলা হচ্ছে, কাবুলে চালানো বড় হামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। খবর আল জাজিরার।
আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক এই গণমাধ্যম জানায়, আজ বুধবার সকালের ব্যস্ততম সময়ে কাবুলের জানবাক স্কয়ারে ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াহেদ মাজরুহ বলেন, বিস্ফোরণে আহতদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকশ মিটার দূরের বাড়িঘরের দরজা-জানালা বিস্ফোরনের জেরে উড়ে গেছে।
আফগান পুলিশের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, জার্মান দূতাবাসের খুব কাছেই বিস্ফোরণ হয়েছে। এই এলাকায় আরও কয়েকটি দূতাবাস রয়েছে। এছাড়া সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাসস্থানও রয়েছে। কিন্তু ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। এখনো কেউ ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। তবে তালেবান বিদ্রোহীদের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে তারা।
কাবুল পুলিশের মুখাপাত্র বশির মুজাহিদ জানিয়েছেন, জার্মান দূতাবাসের প্রবেশে মুখের কাছে বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়েছে। জার্মান দূতবাসের কাছে একটি গাড়িবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। তবে ওই এলাকায় আরো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দূতাবাস ও দপ্তরও রয়েছে।
আহতদের কাবুলের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য বিভাগের এক মুখপাত্র।
ওই বিস্ফোরণ স্থলটি ভারতীয় দূতাবাস থেকে কয়েকশত মিটার দূরে এবং ভারতীয় দূতাবাসের সব কর্মী নিরাপদ আছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও টুইট করে তাদের দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা নিরাপদে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
আল জাজিরার কাবুল প্রতিনিধি কাসে আজমি জানান, যেখানে বিস্ফোরণ হয়েছে এটি কাবুলের খুবই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এটি শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকাও বটে। এর খুব কাছে প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও দূতাবাসের অবস্থান।
কাবুলের বাসিন্দা ফাতিমা ফাইজি বলেন, ‘বিস্ফোরণের ভয়াবহতা এতো বেশি ছিল যে, আমাদের ঘরের জানালা ভেঙে গেছে। আগে এতো বড় বিস্ফোরণ দেখিনি।’
কাবুল পুলিশ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আল জাজিরাকে নিশ্চিত করেন যে, এই বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে তিনশ জনের বেশি। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কাবুলে বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে। এতে আফগানিস্তানজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়ার বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। চলতি মাসের প্রথমদিকে নেটো জোটের একটি সামরিক বহর কাবুলে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস অতিক্রম করাকালে এক আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত আটজন বেসামরিক নিহত হন। জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) ওই হামলার দায় স্বীকার করে।
গত মার্চে কাবুলে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাছে একটি সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসকের ছদ্মবেশে ধরে আসা বন্দুকধারীদের হামলায় ৪৯ জন নিহত হয়।
