নিজস্ব প্রতিবেদক:: নগরীতে যানজট নিরসনে রমজানে ভারী যান চলাচলের নিষেধাজ্ঞার সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। আগের নিয়ম বদলে এখন সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
নগর পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নগরীতে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮ পর্যন্ত ভারী যান চলাচলে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা ১১ জুন থেকে সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত করা হয়েছে। এ সময় সব ধরনের পণ্যবাহী ট্রাক, কভার্ড ভ্যান, প্রাইম মুভারসহ লং ভ্যাহিকেলকে চলাচল ও পণ্য উঠানামা করতে নিষেধ করা হচ্ছে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর স্টিকার লাগানো রপ্তানিযোগ্য গার্মেন্ট পণ্যবাহী যানবাহনও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা ঈদের দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। তবে ঈদের পরদিন থেকে পুনরায় পূর্বের নিয়মানুযায়ী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানসহ অন্যান্য সকল প্রকার পণ্যবাহী যান চলাচল করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, খাতুনগঞ্জে মালাবাহী যানগুলো টেরিবাজার দিয়ে প্রবেশ না করে আনসার ক্লাব হয়ে প্রবেশ করবে। তবে বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে কোনো ভারী যানবাহন সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সিমেন্ট ক্রসিং থেকে বন্দর ও ইপিজেডগামী সকল ভারী যানবাহন সিমেন্ট ক্রসিং মোড়ে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা পণ্যবাহী যানগুলোকে শহরের ভেতরে প্রবেশ না করে ফৌজদারহাট টোল রোড ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকল গণপরিবহন মালিক, শ্রমিক ও চালকগণ নির্ধারিত স্থান ব্যতীত যাত্রী উঠা–নামা করতে পারবে না। যাত্রী উঠানামা দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করে বাস স্টপেজ ত্যাগ করতে হবে। যে সকল ক্রসিং/মোড়ে বাস স্টপেজ নেই সে সকল ক্রসিং/মোড় হতে ৫০ (পঞ্চাশ) গজ দূরে যাত্রী উঠা–নামা করবে। এছাড়া আন্তঃজেলা বাসসমূহ সকাল ৮টা হতে রাত ১০টা পর্যন্ত শহরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করবে না। তবে কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙামাটি থেকে আগত চট্টগ্রাম ভায়া হয়ে ঢাকাগামী/ঢাকা হতে আগত আন্তঃজেলা দূরপাল্লার বাসগুলো শহরের ভিতর দিয়ে চলাচল করতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই শহরের মধ্যে কাউন্টারের সামনে বাস দাঁড়াতে পারবে না। প্রয়োজনে অলংকার মোড়, এ কে খান মোড় ও সাগরিকা কাউন্টারের সামনে যাত্রী উঠা–নামা করতে পারবে।
এতে আরো বলা হয়, সকল মার্কেট, বাণিজ্য কেন্দ্র ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে গমনাগমনকারী ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীরা নির্ধারিত স্থান ব্যতীত প্রকাশ্য সড়কে কোনো প্রকার যানবাহন পার্কিং করতে পারবে না। প্রত্যেক মার্কেট কমিটি বা কর্তৃপক্ষ মার্কেটের সামনে নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী ও পর্যাপ্ত সংখ্যক কমিউনিটি পুলিশ রেখে মার্কেটের সম্মুখের রাস্তা যানজটমুক্ত রাখবে। রাস্তার উপর দাঁড়িযে, রাস্তার পাশে ও ফুটপাতে ঠেলা/ভ্যান দিয়ে খাদ্য সামগ্রী বা মালামাল ক্রয় বিক্রয় করা যাবে না। তাছাড়া রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে, রাস্তার পাশে ও ফুটপাতে মালামাল লোড–আনলোড করা যাবে না। জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তায় ও ফুটপাতে কোনো প্রকার নির্মাণ সামগ্রী রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না।
এছাড়া রাস্তার পাশে থাকা গ্যারেজ, ওয়ার্কসপসহ অন্যান্য মেরামতকারী প্রতিষ্ঠানের নষ্ট বা মেরামত করার জন্য রাখা সকল প্রকার যানবাহন স্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়ারও নির্দেশ দেয়া হয় সিএমপির তরফে।
