চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা টেনশনে

0

মো. দেলোয়ার হোসেন, চন্দনাইশ::আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১৪ তথা চন্দনাইশ-সাতকানিয়া (আংশিক) এলাকার সম্ভাব্য প্রার্থীরা টেনশনে রয়েছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের গোয়েন্দা রিপোর্ট আ’লীগের কেন্দ্রে পৌছেছে। এর মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিজিসি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আফছার উদ্দিনের ছেলে ব্যারিষ্টার মো. আসিফের নাম রয়েছে বলে জানা যায়। তবে স্থানীয়ভাবে সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আফছার উদ্দিন ও একজন ডেভেলপার ব্যবসায়ী, রিহ্যাব নেতার নামও শোনা যাচ্ছে।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১৪ তথা চন্দনাইশ-সাতকানিয়া (আংশিক) এলাকার সংসদ সদস্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও ভোটারদের মাঝে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সচেতন ভোটার, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এ আসনে তাদের উন্নয়ন কর্মকান্ড, সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বর্তমান সংসদ সদস্যের সঙ্গে দলের ত্যাগী, পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের সাথে কি রকম সম্পর্ক রয়েছে এবং সম্পর্কের অবনতি ঘটলে মাঝখানে এ জায়গা কে দখল করে নিয়েছে, সুযোগ সন্ধানী মহলের প্ররোচনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে কোন প্রভাব পড়েছে কিনা এ সকল বিষয় নিয়ে নেতা-কর্মীদের মাঝে চলছে চুলছেঁড়া বিশ্লেষণ।

নির্বাচনের সম্ভাব্য ডেটলাইন যতই এগিয়ে আসছে ততই এলাকায় উৎসাহ-উদ্দীপনা, উত্তাপ ছড়াচ্ছে। আ’লীগের দলীয় ফোরামে একাধিকবার তাগিদ দেয়ার প্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আ’লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা নানা কর্মসূচিতে এলাকায় যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। একই সাথে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে নেমে পড়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নিয়মিত যোগ দিচ্ছেন সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে, বাড়িয়ে দিয়েছেন জনসম্পৃক্ততা। ভোটারদের নিজের দিকে টানতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

অনেকেই ইতিমধ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপহার সামগ্রী, অর্থ, কাপড়-চোপড়, ছোট-খাট বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি যেন চোখে পড়ার মত। সম্ভাব্য নতুন প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে গোপনে, প্রকাশ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচিত সংসদ সদস্যের প্রত্যাশিত উন্নয়ন কর্মকান্ডে কি ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল, দলে গ্রুপিং-দ্বন্দ্ব কি রকম আছে, হাইব্রিড নেতা-কর্মীদের চক্রজালে আবদ্ধ হওয়া, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের সঙ্গে দূরত্ব কতটুকু, সরকারি উন্নয়ন কর্মকান্ডে অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়েছে কিনা এ সকল বিষয় নিয়ে বিভিন্নভাবে আলোচনা নিয়ে টেনশনে রয়েছেন অনেকেই।

অপরদিকে এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন নাম সর্বস্ব অস্তিত্বহীন দলের অনেক নেতাও। মহাজোটকে সমর্থন দিয়ে এ আসনটি ভাগিয়ে নেয়া যায় কিভাবে সে চিন্তায় অংক কষছেন অনেকেই। এ নির্বাচনী এলাকার সচেতন ভোটার, রাজনৈতিক কর্র্মী, কৃষক-শ্রমিক, পেশাজীবী-শ্রেণির মানুষের সাথে কথা বলে এ সকল তথ্য উঠে আসে। সে সাথে এ আসনের সাফল্য ও ব্যর্থতার সাতকাহন সমর্থকদের মাঝে আলোচনা চলছে।

বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী এলাকার উন্নয়নে সচেষ্ট ছিলেন। আভ্যন্তরীন সড়ক উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শঙ্খের ভাঙ্গন প্রতিরোধসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন তিনি। তবে দলের আভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব অনেকটা প্রকাশ্যে। সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আফছার উদ্দিন আহমদের পুত্র ব্যারিষ্টার আসিফ ও দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের নামের পাশাপাশি অনেকেই ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিত্ব, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শিক্ষা ও বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমানকেও আ’লীগের প্রার্থী হিসেবে টানতে চাচ্ছেন। তবে তিনি দলীয় কোন নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে তাঁর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়।

তাঁর ছোট ভাই বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ডা. মহসিন জিল্লুর করিম বিএনপি থেকে প্রার্থী হতে পারেন। তবে আসনটি বিএনপি’র শরীক দল হিসেবে এলডিপি থাকলে এলডিপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী এ আসন থেকে পঞ্চম বারের সংসদ সদস্য ড. কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বীর বিক্রমকে ছেড়ে দিতে পারেন। ফলে এ আসনে সম্ভাব্য প্রতিটি দলের প্রার্থীরাই রয়েছেন টেনশনে। কে কোন দলের, কোন জোটের প্রার্থী হচ্ছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। যতই নির্বাচনের ডেটলাইন এগিয়ে আসছে, ততই সম্ভাব্য প্রার্থীদের টেনশন বাড়ছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.