পাউবোর জলবায়ু তহবিলের ৬ প্রকল্পে অনিয়ম: টিআইবি

0

সিটিনিউজ ডেস্ক::পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে জলবায়ু অর্থায়ন তহবিল থেকে বাস্তবায়িত প্রকল্পে চরম অস্বচ্ছতা, অনিয়ম ও দুনীর্তি বিরাজ করছে। পাউবোর বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে ছয়টি প্রকল্পে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

পাউবোর প্রকল্প নিয়ে টিআইবির করা এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে রাজধানীর টিআইবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

দুর্নীতি-অনিয়মে জড়িত প্রকল্পগুলো হলো- অবকাঠামো নির্মাণ ও নদীতীর সংরক্ষণ ও পুনঃখনন (সময়কাল ২০১৩-১৪), বরাদ্দ ১২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা; নদীতীর সংরক্ষণ (সময়কাল ২০১৩-১৫), বরাদ্দ ২ কোটি ৯৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা; ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততা সংক্রান্ত প্রকল্প : পোন্ডার মেররামত (সময়কাল ২০১১-১৫), বরাদ্দ ১১ কোটি ৪৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা; নদীতীর সংরক্ষণ ও বাঁধ পুনঃনির্মাণ (সময়কাল ২০১২-১৬), বরাদ্দ ১৮ কোটি ৮৮ লাখ ৩ হাজার টাকা; ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ : পোন্ডার নির্মাণ (সময়কাল ২০১৩-১৪), বরাদ্দ ৯৯৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রক বাঁধ নির্মাণ (সময়কাল ২০১২-১৬), বরাদ্দ ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা প্রকল্প অনুমোদনের বিভিন্ন পর্যায়ে সুপারিশ করেন। এমনকি, তারা এসব প্রকল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের দিক থেকে সরকারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত রয়েছে। সেটি না মেনে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বরিশাল। প্রতিবেদনে এসব উন্নয়নকাজের দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

এ প্রসঙ্গে বলা হয়, সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে ই-টেন্ডারিং পদ্ধতিকে আর্দশ ব্যবস্থা মনে করা হয়। কিন্তু এ পদ্ধতি কেবল টেন্ডার জমাদান পর্যন্ত সীমিত। টেন্ডার মূল্যায়ন ও নির্বাচনে আগের পদ্ধতি বহাল থাকায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ।

এতে আরও বলা হয়, জলবায়ু অর্থায়নের টেন্ডার বাস্তবায়নে সাত স্তরের জাবাবদিহিতা থাকার কথা। কিন্তু এতেও ঘাটতি রয়েছে।

টিআইবি পাউবোর ছয়টি প্রকল্প তাদের গবেষণার আওতায় নেয়। গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড (বিসিসিটিএফ), মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়, বাস্তবায়ন পরীবীক্ষণ বিভাগ (আইএমইডি) এসব প্রকল্প শেষ হওয়ার পর মূল্যায়ন, নিরীক্ষা ও পরীবীক্ষণ করেনি।

এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে চারটি প্রকল্প পরীবীক্ষণের দাবি করা হয়েছে। কিন্তু সেসব বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। প্রকল্প বাস্তবায়ন এলাকায় কাজ সম্পর্কে বোর্ডে তথ্য প্রকাশ করার কথা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাও হয়না।

এভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতা ও সুশাসন-শুদ্ধাচার-জবাবদিহিতার ঘাটতিসহ বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে টিআইবির এই প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির পাউবো প্রকল্প নিয়ে গবেষণা দলের সদস্য গোলাম মহিউদ্দিন। পরে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে পাউবোর ব্যর্থতা উদ্বেগজনক। পাউবোর বাঁধ নির্মাণে দুর্বলতা আছে। টেন্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা ও স্বার্থের বিষয়ে প্রাধান্য পায়।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.