সুন্দরবন এলাকায় শিল্প কারখানা স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টের

0

সিটিনিউজ ডেস্ক::সুন্দরবনের চারপাশে ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে শিল্প কারখানা স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই এলাকার মধ্যে কতটি শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে তার তালিকা দাখিলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ৬ মাসের মধ্যে এ তালিকা জমা দিতে হবে।

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

সুন্দরবন লাগোয়া রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে বিতর্ক চলছে গত কয়েক বছর ধরে। পরিবেশবাদীদের অভিযোগ এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনটির ক্ষতি করবে।

এর মধ্যে আশেপাশের এলাকায় ভারী শিল্পসহ নানা স্থাপনা তৈরির খবর এসেছে গণমাধ্যমে। জাতিসংঘের ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐহিত্য বিষয়ক শাখাও এই বিষয়ে আপত্তির কথা জানিয়েছে।

গত এপ্রিল মাসে সুন্দরবনের চারদিকে ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে স্থাপিত শিল্প কারখানাসহ অন্যান্য স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে যেসব কলকারখানা স্থাপনের অনুমতি বা ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে তা বাতিলের আবেদন জানান হয়।

সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ ফরিদুল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৪ এপ্রিল রিট আবেদনটি করেন। আবেদনে পরিবেশ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিজি ও সুন্দরবনের আশে-পাশের জেলাগুলোর জেলা প্রশাসককে বিবাদী করা হয়।

আবেদনে বলা হয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ১৯৯৯ সালের ৩০ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন এবং এর চারদিকে ১০ কিলোমিটার এলাকাকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। এ প্রজ্ঞাপন অনুসারে সুন্দরবনের চতুর্দিকে ১০ কিলোমিটার এলাকায় ভূমি, পানি, বায়ু ও শব্দ দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যাবে না। কিন্তু গণমাধ্যমে খবর এসেছে, পরিবেশ অধিদপ্তর ইতিমধ্যে প্রায় একশ ৫০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে প্রকল্প করার জন্য অবস্থানগত ছাড়পত্র দিয়েছে। যার মধ্যে জাহাজ ভাঙা শিল্পসহ পরিবেশ দূষণকারী প্রকল্প রয়েছে। এসব শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদ ও পরিবেশ আইন ১৯৯৫-এর সুস্পষ্ট লংঘন। তাছাড়া এসব শিল্প কারাখানা সুন্দরবনের জন্য হুমকিস্বরূপ।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.