রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে কবে ?

0

সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি প্রতিনিধি : ২০১৫ সালের ২ জুন রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ দিন রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে না পারাই কেন্দ্র থেকে একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। কতটুকুতে এই কমিটি, কি অবস্থা তা নিয়ে কথা হয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের সাথে, পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে যা বলেন ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল জব্বার সুজন বলেন, আমাদের কমিটির কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে, শুধুমাত্র অনুমোদনটি নিবো। ১৬১ জনের প্রস্তাবিত কমিটির তালিকা পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রে।

তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, কেন্দ্রে নির্দিষ্ট কোন সময়ের বিষয় নয়, সামরিক ভাবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কমিটি করাটা সবার জন্য মঙ্গল। জেলা আওয়ামী লীগ এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশ আছে কমিটি বিষয়ে। সব মিলিয়ে শেষ পর্যায়ে কমিটির কাজ। সামনে নির্বাচন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো এগিয়ে নিতে আমাদের চেষ্ঠা অব্যহত রয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব অনুমোদন নেওয়ার চেষ্ঠা করছি বলেও জানান তিনি।

জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল আলম রাশেদ জানান, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের সমন্বয়হীনতার কারণে কমিটি অনুমোদন নিতে দেরি হচ্ছে। তবে আশা করছি আগামী সেপ্টেম্বর’র মধ্যে কমিটি অনুমোদন হয়ে যাবে।

তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, গঠনতন্ত্র অনুসারে কমিটি এক বছরের হয়। কিন্তু আমাদেরটা বৃহৎ সংগঠন হওয়ার কারণে প্রতি বছর সম্মেলন করা সম্ভব হয় না। যারা সংগঠনের ত্যাগি নেতা তারা আশায় আছে জেলার একটি পদের দায়িত্ব পালন করবে, ছাত্রলীগের বয়স নির্ধারণ করে দেওয়া আছে, তো সব মিলিয়ে জটিলতা বেড়ে গিয়েছে। তবে কেন্দ্র যখন নির্দেশ দিবে তখনি সম্মেলন করা হবে বলে জানান এই ছাত্রনেতা।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমা বলেন, গত জুনে ছাত্রলীগের কমিটি যে সময়ে চুরান্ত করা হয়েছে এবং অনুমোদনের কথা হয়েছিলো সে সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটিতে ভয়াবহ দুর্যোগ ভূমি ধ্বস সংগঠিত হয়। একটি জেলার নতুন কমিটি হওয়া মানে অন্য ধরণের আনন্দ বা উৎসব কিন্তু রাঙামাটির এমন বির্পযয় হওয়ার আমরা অনুমোদন নিতে চাই নি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগও দিতে চাই নি। এর পরবর্তিতে জুলাই মাসে জেলা সভাপতি বাবা-মা অসুস্থ থাকায় তাদের নিয়ে ভারত সফরে যান এবং তিনি ফিরে আসেন ২৯ জুলাই। পরবর্তিতে আগস্ট মাসে কমিটি অনুমোদন হয় না, কারণ এটি হচ্ছে শোকের মাস। তাই আশা করছি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ঈদের পরে আমরা জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দিতে পারবো।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হচ্ছে একটি বৃহৎ ছাত্র সংগঠন। এখানে কমিটির মানুষরাই বেশিভাগ সময়ে মিটিং মিছিলে থাকেন না। এক্ষেত্রে আমরা ১ থেকে ২ হাজার ছাত্র নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম ও কর্মসূচী সম্পূর্ণ করে থাকি। সুতরাং এখান থেকে আর্দশবান এবং প্রগতিশীল ছেলেগুলো চিহ্নিত করা এবং বর্তমানে দেশের যে পরিস্থিতি জঙ্গিবাদ, জামাত-শিবিরের অনুপ্রবেশ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ থেকে অনুপ্রবেশ এসব বিষয় মাথায় রেখে কর্মীদের বায়োডাটা চিহ্নিত করতে আমাদের সময় লেগে যায়। তার পরেও আমরা আশা করছি সব কিছু মিলিয়ে প্রগতিশীল ছাত্রদের নিয়ে কমিটি করতে পারবো অতিদ্রুত।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.