বোয়ালখালী প্রতিনিধি::বোয়ালখালীতে মেয়াদ উর্ত্তীণ পূজা উদযাপন কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সনাতনী নেতৃবৃন্দরা। চলতি বছরে এ কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও সম্মেলন ছাড়াই কমিটির তালিকা প্রণয়ন করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে তালিকা জমা দেয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন উপজেলার ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ।
গত ২০১৫ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে দুই বছর মেয়াদী অজিত বিশ্বাসকে সভাপতি ও লিটন শীল সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট গঠিত হয়েছিল। তবে এ কমিটির বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে।
অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে এ কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিটন শীল বলেন, ২০১৬ সালের হিসাব বর্ধিতসভায় পেশ ও অনুমোদন করা হয়েছে। এ বৎসর পূজা উদযাপনের পর সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হবে। জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্যামল পালিত এ সম্মেলন করবেন বলে জানান তিনি। তবে ওই কমিটির অর্থ সম্পাদক বিধান মোহরের এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।
পূজা উদযাপন পরিষদের দুইটি তালিকা হাতে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান। এর মধ্যে একটির সভাপতি অজিত বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক লিটন শীল বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সহ-সভাপতি কাউন্সিলর সুনীল চন্দ্র ঘোষ বলেন, বোয়ালখালী পূজা উদযাপন পরিষদের মেয়াদ শেষ হলেও সম্মেলন না হওয়ায় পূজা কমিটি নিয়ে সচেতন সনাতনী সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
বোয়ালখালী পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি প্রবীন শিক্ষক বাদল চন্দ্র দাশ বলেন, গঠনতন্ত্র মোতাবেক ২ বছর পর সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের নিয়ম থাকলেও বারবার সম্মেলনের দিন নির্ধারন করে সম্মেলন না করায় এ জঠিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া কমিটির অন্যান্য উপদেষ্ঠাগনও এ বিষয়টির সাথে একমত পোষন করছেন বলে জানান তিনি।
নব গঠিত বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বোয়ালখালীর সাধারণ সম্পাদক সরকার কমল দাশ বলেন, মন্ডপগুলোতে সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তি পর্যায়ের বরাদ্দ প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ মন্ডপগুলোতে বিতরণ করলে কারোরই আত্মসাৎ করার সুযোগ থাকবে না। এতে উপজেলা পূজা কমিটি সহায়তা করতে পারেন মাত্র।
বিগত কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় পূজা মন্ডপগুলোর প্রতিনিধি ও সচেতন সনাতনী নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে গঠিত নব কমিটি প্রতি বছরের ন্যায় নানান কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে এ বছরও দূর্গোৎসব পালন করবেন বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত ২০১৬ সালে উপজেলার ১১০ পূজা মন্ডপের জন্য ৫০টন ৮শত কেজি চাউল বরাদ্দ আসে। সে চাউল ২৯টাকা কেজি দরে ১৪লাখ ৭৩হাজার ২শত টাকায় বিক্রি করে বোয়ালখালী পূজা উদযাপন পরিষদ। ৮ অক্টোবর শনিবার উপজেলা মিলনায়তনে ১১০টি পূজা মন্ডপে বিতরণ করা হয় ১২লাখ ৩৪হাজার টাকা। বাকি ২লাখ ৩৯হাজার ২শত টাকা পূজা উদযাপন কমিটি আত্মসাতের অভিযোগ তুলেন মন্ডপের প্রতিনিধিরা।
