সিটিনিউজ ডেস্ক : মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, মিয়ানমারে রাখাইন প্রদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের মাতৃভূমিতে অবশ্যই ফিরিয়ে নিতে হবে। তারা কখনো নিজের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে পারবেন না এই সংশয় ও দ্বন্ধ অমূলক। মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী শক্তি হিসেবে আমরা মিয়ানমারে নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সহ পৃথিবীর শোষিত জনগণের মুক্তির সংগ্রামে পাশে দাঁড়াতে নৈতিকভাবে বদ্ধ পরিকর।
তিনি আরো বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের স্বদেশ ভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মিয়ানমারে শাসকগোষ্ঠীর উপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে সাড়া দিয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের নিজ বাসভবনে তাদের নাগরিকত্ব প্রদান, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করে পুর্নবাসনের জন্য উদ্যোগী হয়েছেন।
তাই অচিরেই বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তাদের মাতৃভূমিতে স্বাধীণভাবে বসবাসের পক্ষে একটি ইতিবাচক পরিস্থিতি ও পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জনগণ তাদেরকে স্বদেশ ভূমিতে ফিরিয়ে যাওয়ার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করে যাবে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বাঙালি উপর জাতিগত নিপীড়ন ও নিধনের বিরুদ্ধে আমরা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী এই ধরনের জাতিগত নিপীড়নের বিরুদ্ধে মুক্তিকামী শোষিত জনতা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং তারা আমাদের মত অবশ্যই বিজয়ী হয়েছে। রাখাইন থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কাছে এই বিজয়ের বার্তা পৌছে দিয়ে তাদেরকে নিজ মাতৃভূমিতে বসবাসের জন্মগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরবাসী জীবন কখনো ব্যক্তি বা সমষ্টিকে শৃঙ্খলিত করে রাখে। এই শৃঙ্খল মুক্তির লড়াইয়ে বাংলাদেশের জনগণ অবশ্যই নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াবে।
তিনি আজ বিকেলে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কক্সবাজার টেকনাফ ও উখিয়ায় রোগিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ৫ম দফায় প্রেরিত ত্রাণ সামগ্রী পরিবহন বহরের কক্সবাজারের উদ্দেশ্য যাত্রাকালে তাঁর চশমা হিলস্থ বাসভবনে স্থাপিত ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা কক্ষে এক অনুষ্ঠানে একথা বলেন। তিনি আরো জানান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সেবা হিসেবে প্রায় ৪ কোটি টাকার ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
এ সমস্ত ত্রাণ সামগ্রী মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের প্রধান শক্তি মহানগর আওয়াীমী লীগের থানা ও ওয়ার্ড কমিটি, অঙ্গ সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকার, সমাজসেবী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের কাছ থেকে সংগৃহীত। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আর্ত মানবতার সেবায় আমার অহ্বানে অনেকই বিপুলভাবে সাড়া দিয়েছেন। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার সহযোগিতার জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও দায়িত্বরত সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ বাহিনী এবং স্থানীয় জনগণের প্রতিও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারী নেত্রী মিসেস হাসিনা মহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হাজী মো: হোসেন, হাজী জহুর আহমদ, কার্যনির্বাহী সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাহাদুর, নুরুল আমিন শান্তি, নুরুল আবছার মিয়া, শহিদুল অলম, কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী, হালিশহর থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আলহাজ্ব ফয়েজ আহমদ, আলহাজ্ব ফিরোজ আহমদ, আবুল মনসুর, সুলতান আহমদ চৌধুরী, কাজী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের অন্যতম মহাসচিব পান্টু লাল সাহা,এরশাদ মামুন, অধ্যাপক আসলাম হোসেন, শওকত আলী, নুরুল আজিম নুরু, রেজাউল করিম কায়সার, আবুল কাশেম, হাজী আলী বক্স, আতিকুর রহমান আতিক, শেখ সরওয়ার্দী, মো: জামাল উদ্দিন, আবদুস শুক্কুর ফারুকী, কাজী রাশেদ আলী জাহাঙ্গীর, আাবদুর রহিম, শামসুল আলম, আশরাফুল আলম, দিলদার খান দেলু, আক্তার উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।
