নিজস্ব প্রতিবেদক::চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার সম্মিমিলিত বিপ্লবে নস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্র। আধিপত্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসন থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। এদিন সিপাহী-জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঢাকা সেনানিবাসের বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে এনেছিল তৎকালীন সেনা প্রধান ও স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে।
মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) সকালে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে ষোলশহরস্থ বিপ্লব উদ্যানে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের ঘটনা এক বিরল ও অনন্যসাধারণ ঘটনা। স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথে দৃপ্ত কোটি মানুষের মিছিলের দিন ৭ নভেম্বর। ঐতিহাসিক বিপ্লব সফল না হলে জাতি হিসেবে আমরা আবার পরাধীন হতাম। তিনি বলেন, ৭২ থেকে ৭৫ এর ১৪আগষ্ট পর্যন্ত খুন ডাকাতি, লুন্ঠনে বাংলাদেশকে মগের মুলুকে পরিণত করেছিল তৎকালিন আওয়ামী শাসকগোষ্টি। রক্ষিবাহিনী ও লালবাহিনী তৈরী করে সিরাজ সিকদার সহ হাজার হাজার দেশপ্রেমিক নেতাকর্মী হত্যা , মহাদুর্ভিক্ষ, সংবাদ পত্র বন্ধ করে দেওয়া সহ স্বাধীনতা পরবর্তী রাজনৈতিক নেতৃত্বের দেউলিয়াপনায় সমাজে চলছিল অস্থিরতা, তৈরি হয়েছিল বৈষম্য। এক দলীয় শাসন আর এক ব্যক্তির আজীবন রাষ্ট্রপতিত্বের উচ্চ বিলাশে চলছিল বাকশাল নামীয় একটি প্রাইভেট কোম্পানীর সীমাহীন দুর্নীতি ও দুঃশাসন। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডিন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে একদলীয় শাসন থেকে বাহিরে এসে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছিলেন। ফিরেয়ে দিয়েছিলেন সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা। সন্ত্রাস, ডাকাতি, খুন, দুর্ভিক্ষ কবলিত দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত করে এদেশের মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন।
তিনি আজকের বাংলাদেশ আর তৎকালিন বাংলাদেশের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই উল্লেখ করে বলেন, আজ বাংলাদেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি, কোন কিছুই নেই। সারাদেশে গুম, খুন, নালা নর্দমায়, খালে বিলে পচা লাশের গন্ধ, দ্রব্য মূল্য উর্দ্ধগতি, লুটপাট, দুর্নীতিতে ভরে গিয়েছে গোটা দেশ। এসব কিছু থেকে মুক্তি পেতে আর একটি জনতার বিপ্লব প্রয়োজন। শহীদ জিয়া ও তার দল বিএনপি যুগে যুগে এদেশের দুর্যোগকলিন সময়ে দিশেহারা জাতীকে মুক্তি দিতে আলোর পথ দেখিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেজর জিয়া ৭১ সালে নেতৃত্ব শূন্য অবস্থায় স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দিশেহারা জাতীকে ঘুরে দাঁড়াতে শিখিয়েছে, ৭৫ সালে একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। ৯০ বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাশাসক থেকে মুক্ত করে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। আজকের বাংলাদেশের চরম দুঃদিনে বেগম খালেদা জিয়া জীবন বাজি রেখে ভুলন্ঠিত গণতন্ত্র পূনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবতীর্ণ রয়েছেন। ৭ই নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্রকে পুনঃরুদ্ধার করতে হবে। তিনি সকল কুক্তিকামি জনতাকে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহবান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, ৭ই নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতার দিন। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় হলেও নেতৃত্ব চলে গিয়েছিল আদিপত্যবাদী শক্তির হাতে। ৭ই নভেম্বর সিপাহী জনতার সম্মিলিত উদ্যোগে প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। দেশ মুক্ত হয় আদিপত্যবাদীর কালো থাবা থেকে। তিনি বলেন, ৭ই নভেম্বর স্বাধীনতার সুরক্ষা ও আওয়ামীলীগের পুনঃজন্মের দিন। এই দিন আওয়ামীলীগের এক দলীয় বাকশালী শাসনতন্ত্র থেকে বহুদলীয় শাসনতন্ত্র শুরু হয়েছিল। মানুষ এ বিপ্লবের মাধ্যমে খুঁজে বের করেছিল তাদের নেতৃত্বকে। শহীদ জিয়াউর রহমানের উদয় হয়েছিল আলোকবর্তিকা হিসেবে। তিনি আদিপত্যবাদ মুক্ত সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষে জাতীয়বাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী লিটনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, সৈয়দ আজম উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী, হারুন জামান, সৈয়দ আহমদ, কমিশনার মাহবুবুল আলম, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, ইকবাল চৌধুরী, এড. আব্দুচ সাত্তার সরওয়ার, যুগ্ম সম্পাদক এস.এম. সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, মোঃ শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, আর.ইউ চৌধুরী শাহীন, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, আনোয়ার হোসেন লিপু, গাজী মোঃ সিরাজ উল্লাহ, শেখ নুরুল্লাহ বাহার, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ সিহাব উদ্দিন প্রমুখ।
