‘বর্তমানে অনেক মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসছে’

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:: ২ নভেম্বর স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সন্ধানী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ইউনিট। সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির সমাপনী উপলক্ষে গতকাল (১০ নভেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সন্ধানী, চমেক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ইতি কুরী।

এসময় সংগঠনের উপদেষ্টা ডা. তরুণ তপন বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সুফিয়ান সিদ্দিকী, চমেক ইউনিটের সভাপতি মো. ইমরুল হাসান, সহ–সভাপতি প্রিতম মল্লিক টুটুল, সহ–সাধারণ সম্পাদক ত্রিদেব দেবনাথ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহির শাহরিয়ার নবীন, যুগ্ম–প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জারিন শরীফ সুপ্তিসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইতি কুরী বলেন– সন্ধানী, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ছাত্র–ছাত্রীদের মাধ্যমে পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী একটি সংগঠন। স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানের বিষয়টিকে স্বেচ্ছা সেবার মাধ্যমে একটি জনপ্রিয় আন্দোলনে রূপ দিতে এই সংগঠনটি সক্ষম হয়। সন্ধানীর তত্ত্ববধানেই ১৯৭৭ সালের ২ নভেম্বর প্রথম বিনামূল্যে স্বেচ্ছায় রক্তদান করা হয়। যার স্বীকৃতি হিসেবে সরকার ২ নভেম্বরকে ‘স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৯৫ সাল থেকে বিভিন্ন সেবামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর এ দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। সন্ধানীর কার্যক্রমের ফলে স্বেচ্ছায় রক্তদানের ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে সচেতনতা বেড়েছে উল্লেখ করে ইতি কুরী বলেন, অতীতের তুলনায় বর্তমানে অনেক বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসছেন। এই পরিবর্তন একদিনে হয়নি। এটি সন্ধানী’র দীর্ঘ সময়ের আন্দোলনের ফসল। ভবিষ্যতে ঘরে–ঘরে স্বেচ্ছায় রক্তদাতা গড়ে ওঠবে বলেও আশাবাদ সংগঠনটির চমেক ইউনিটের এই সাধারণ সম্পাদকের।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়– এবার স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘আমার চক্ষু, রক্তদান, দেখবে ভুবন বাঁচবে প্রাণ’। দিবসটি উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী (২–৯ নভেম্বর) কর্মসূচির আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনটি। প্রথমদিন (২ নভেম্বর) চমেক ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য এক র‌্যালি বের করা হয়। অতিথিদের মধ্যে র‌্যালিতে অংশ নেন চমেক অধ্য প্রফেসর ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, সন্ধানীর উপদেষ্টা ডা. মো. মনোয়ার–উল–হক (শামীম), ডা. এস এম মঈনউদ্দীন ও ডা. সমিরূল ইসলাম এবং সন্ধানীর আজীবন সদস্য ডা. বাসনা মুহুরী প্রমুখ। পরে চমেক হাসপাতালের পক্ষ থেকে প্রদত্ত নতুন একটি ব্লাড কালেকশন বেডের উদ্বোধন, সন্ধানী কার্যালয়ের সামনে বৃক্ষরোপণ ও দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অতিথিরা। এছাড়াও স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান বিষয়ক দেয়ালিকা উদ্বোধন করেন সংগঠনের উপদেষ্টা ডা. মনোয়ার–উল–হক (শামীম)। এসময় সন্ধানী চমেক ইউনিটের সভাপতি মো. ইমরুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক ইতি কুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মাহির শাহরিয়ার নবীনসহ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সন্ধানীয়ান তানজিমুল হাই রাফি স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।

পরের দিন (৩ নভেম্বর) আয়োজন করা হয় স্বল্প খরচে হেপাটাইটিস বি, জরায়ুমুখ ক্যান্সার ও টাইফয়েড প্রতিরোধে ভ্যাক্সিনেশন প্রোগ্রাম। সন্ধানী কার্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলে। ৪ নভেম্বর আয়োজন করা হয় মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে (বেলা ১১টা থেকে) স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী বা ওপেন ব্লাড কালেকশন প্রোগ্রাম। এছাড়াও ক্যাম্পাসে ৫৯ তম ব্যাচের মোটিভেশনাল প্রোগ্রাম। আর ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) গণিত বিভাগে, ৬ নভেম্বর চবি’র ফার্মেসি বিভাগে, ৭ নভেম্বর বাকলিয়া সরকারি কলেজে, ৮ নভেম্বর চবি’র ফরেস্ট্রি বিভাগে এবং ৯ নভেম্বর চবি’র পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মোটিভেশনাল প্রোগ্রামের আয়োজন করে স্বেচ্ছা সেবি সংগঠনটির সদস্যরা। সফলতার সাথে সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচি সম্পন্ন করতে পারায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ প্রকাশ করেন সংগঠনের চমেক ইউনিটের সভাপতি মো. ইমরুল হাসান।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.