জাহেদুল হক,আনোয়ারা :: হেমন্তের শান্ত-স্নিগ্ধ শঙ্খনদী অসময়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নদীর পানি কমতে থাকায় ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়েছে। গত দুই সপ্তাহের ভাঙ্গনে আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের পূর্ব গহিরা ফকিরহাট এলাকার অন্তত ১২টি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে এ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বসতভিটা ও ফসলি জমি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ওইসব এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।
স্থানীয় সূত্র জানায়,গত দুই সপ্তাহে শঙ্খের তীব্র ভাঙ্গনে ফকিরহাট এলাকার নুরুন্নবী,ফকির মোহাম্মদ,আবদুল গফুর,আবদুল মজিদ,আবদুল হাকিম,জাহেদুল ইসলাম, মো.ইলিয়াছ,হাফেজ মো.শাহাদত,মিনুয়ারা বেগম ও শেখ মোহাম্মদের ঘরবাড়িসহ নঈম উদ্দিন ও হেলাল উদ্দিনের দুটি দোকানঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তাছাড়া ওই এলাকার প্রায় দুইশ মিটার অংশ তীর রক্ষা বাঁধ নদীতে ভেসে গেছে। শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে মাথা গোজার ঠাই খুঁজে পাচ্ছেন না নদী ভাঙ্গনের শিকার পরিবারগুলো। হাতে টাকা ও খাবার না থাকায় দু‘চোখে শুধুই অন্ধকার দেখছেন তারা। বারবার যোগাযোগের পরও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাড়া না পাওয়ায় নদী পাড়ের মানুষজনকে ঘরবাড়ি হারাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকার মানুষের।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জহির উদ্দিন বলেন,ভাঙ্গনকবলিত ওই এলাকার ৭১০ মিটার অংশে ১৮ কোটির বেশি টাকা ব্যয়ে কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে কার্যাদেশ পেয়ে মশিউর রহমান নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। সেখানে স্থায়ী বাঁধসহ জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লক নির্মাণ করা হবে। শঙ্খের ভাঙ্গনের শিকার ফকির মোহাম্মদ জানান,হঠাৎ শঙ্খের তীব্র ভাঙ্গনে ভিটেমাটি সব নদীগর্ভে চলে গেছে। কোন রকমে ঘরের চাল রক্ষা করতে পারছি। তাও আবার রাস্তার একদিকে রেখেছি। এখন কোথায় যাবো তার কোন উপায় নেই। কেউ এমনিতে বাড়ি করার জায়গা দেয় না। ভাঙ্গনের শিকার আবদুল হাকিম জানান,বাড়িঘর কোন রকম সরিয়ে নিয়েছি। বউ-বাচ্চা নিয়ে আজ দুই সপ্তাহ যাবত খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছি। খাবারও নেই,হাতে টাকাও নেই। চেয়ারম্যান-মেম্বার এখন পর্যন্ত কোন সাহায্যও দেয় নাই। এ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি। সামনে কি হবে আল্লাহই ভালো জানেন। তাদের মতো একই অবস্থা ওই এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবারের।
রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানে আলম জানান,ঠিকাদারীর অবহেলার কারণে এসব মানুষ ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ঘরবাড়ি হারিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ভাঙ্গন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কথা থাকলেও ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা তা করেনি। যদি তারা সেখানে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করতো তাহলে অন্তত ভাঙ্গন ঠেকানো যেতো। তা না করে ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা শত শত জিও ব্যাগ চুরি করেছে। এ সময় তারা জনতার হাতে ধরাও পড়েছে বহুবার।
