কামরুল ইসলাম দুলু,সীতাকুণ্ড :: বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দূর্ঘটনা রোধে রেললাইনের উপর বসে আড্ডা, সিপ্লারে হাঁটা, কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে রেললাইনে বসে গানশুনা বন্ধে সচেতনতামুলক লিপলেট বিতরণ, মাইকিংসহ ব্যাপক প্রচার করেও তাতে কোন কাজ হচ্ছে না।
রেললাইনে বসে আড্ডা দেওয়ার সময় রেলওয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটকও করেছিল। এত কিছুর পরও সীতাকুণ্ডে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে ট্রেনে কাটা পড়ার র্ঘটনা।
গত ২২ দিনে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের রেললাইনে ট্রেনে কাটা পড়ে এক মহিলা ও ৫ যুবকসহ অজ্ঞাত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দূর্ঘটনায় নিহতের লাশ মর্গে প্রেরন করা হলেও এখনো তাদের পরিচয় মিলেনি।
দূর্ঘটনায় পরিচয় বিহীন এসব লাশের ঠাঁই হচ্ছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে। অপরদিকে অব্যাহত ট্রেন দূর্ঘটনায় অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় সীতাকুণ্ডের সচেতন মহলে উৎকন্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। এতে খোদ চিন্তিত রয়েছেন রেলওয়ে জিআরপি পুলিশ। এসব ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন জিআরপি পুলিশ।
সীতাকুণ্ড ও ফৌজদারহাট রেল পুলিশ ফাঁড়ির তথ্য মতে, গত ১ নভেম্বর সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট জলিল টেক্সটাইল মিল সংলগ্ন রেললাইনে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত (৪৫) বছরের এক মহিলা নিহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন। তাবে তার নাম পরিচয় জানতে পারেননি তারা।
এরপর ৩ নভেম্বর উপজেলার সোনাইছড়ি এলাকার রেললাইনে হাটার সময় চট্টগ্রামমুখি একটি ট্রেনের নিচে অজ্ঞাত (৩২) বছরের যুবক নিহত হয়। গত ৮ নভেম্বর উপজেলার বারৈয়ারঢালা রেলস্টেশন এলাকায় চলন্ত ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে অজ্ঞাত (২৫) বছরের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন। পুলিশ মানসিক প্রতিবন্ধী বলে ধারনা করা হলেও তার নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
গত ১৭ নভেম্বর উপজেলার পৌরসদরস্থ বারৈয় পাড়া সংলগ্ন রেললাইনে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত (৩০) বছরের এক যুবক নিহত হয়। দূর্ঘটনার পর স্থানীয়রা নিহতের লাশটি চিনতে না পেরে সীতাকুণ্ড জিআরপি ফাঁড়ির পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে জিআরপি পুলিশের এসআই মেজবা উদ্দিন ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন।
গত ২১ নভেম্বর মঙ্গলবার পৌরসদরের এয়াকুব নগর এলাকায় রেললাইনের পাশে অজ্ঞাত যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। এসময় তারা লাশটি চিনতে পেরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে অবহিত করেন। জনপ্রতিনিধির খবরে সীতাকুণ্ড জিআরপি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন।
সর্বশেষ গত বুধবার সকালে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া রেললাইন এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত (৩০) বছরের যুবক নিহত হয়। চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা চাঁপুরগামী সাগরিকা এক্সপ্রেস বাঁশবাড়িয়া রেললাইন এলাকা অতিক্রমকালে অজ্ঞাত যুবকটি ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন বলে নিশ্চিত করেন কুমিরা রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার সাইফুদ্দিন বাশার।
সীতাকুণ্ড জিআরপি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মেজবা উদ্দিন জানান,“ রেললাইনে আড্ডা দেওয়া,কানে এয়ার ফোন লাগিয়ে ও মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে হাঁটা এবং ট্রেন কাছাকাছি আসার পরও দ্রুতপার হওয়ার চেষ্টা ঘটছে দূর্ঘটনা। দূর্ঘটনা রোধে রেললাইনে জুয়ার আসর, মাদক সেবনকারী কিংবা কানে হেডফোন লাগিয়ে হাটাচলা কিংবা আড্ডা দেওয়া ব্যাক্তিদের আটকের পাশাপাশি সর্তকতামূলক লিফলেট বিতরন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম শহীদুল ইসলাম জানান,সীতাকুণ্ড সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেন দূর্ঘটনায় নাম পরিচয় বিহীন অজ্ঞাত লাশের বিষয়টি আমাকে ভাবিয়ে তুলছে। দূর্ঘটনায় অধিকাংশের মৃত্যু চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে হতে পারে বলে প্রাথমিক ধারনা করেন তিনি।
তিনি আরো জানান, ট্রেন দূর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকটি অজ্ঞাত লাশের পৃথক পৃথক অপমৃত্যু মামলা দায়ের হলেও এখনো পরিচয় মিলেনি।
