“ইতিহাস কথা কয়” আলোকচিত্র শুভ উদ্বোধন

0

চট্টগ্রাম :  চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ৭ দিন ব্যাপি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক “ ইতিহাস কথা কয়” আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুভ উদ্বোধন হয়েছে ১০ ডিসেম্বর রবিবার সন্ধ্যায়। দেশ একটি সম্মিলিত উচ্চারণ নামক একটি সংগঠন এ প্রদর্শনীতে সহায়তা করেন। আগামী ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত একইস্থানে আলোকচিত্র প্রদর্শিত হবে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন ফিতা কেটে আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন শেষে প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। পরে এক সুধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, “বাঙালির জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায় ১৯৭১ সনের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম তথা মুক্তিযুদ্ধ।

হাজার বছরের পরাধীন বাঙালি বারবার লড়াই করেছে শোষণ, নিপীড়ন, বঞ্চনার বিরুদ্ধে স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। বাঙালি জাতি চেয়েছে নিজস্ব পরিচয় ও চিন্তা-চেতনায় সমৃদ্ধ হয়ে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে। তিনি বলেন, বাঙালি জাতিকে তার ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্যও লড়াই করতে হয়েছে। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনে নিজেদের বুকের রক্ত দিয়ে মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার আদায় করে নেয়া বাঙালি আর রাজপথ ছাড়েনি। মেয়র বলেন, পাকিস্তানি অপশাসনে নিপীড়িত, অত্যাচারিত এদেশের আপামর মানুষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব দীর্ঘ সংগ্রামের পথ বেয়ে অবশেষে ১৯৭১ সনের মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’ ১৯৭১ সনের ৭ মার্চে রেসকোর্স ময়দানের জনসমাবেশে দেয়া বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণাকে হৃদয়ে ধারণ করে দীর্ঘ নয় মাসের প্রাণপণ লড়াই শেষে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল এ জাতি। ১৯৭১ সনের ২৫ মার্চের কাল রাত্রি থেকে শুরু হয়ে মুক্তিযুদ্ধের পরিসমাপ্তি তথা স্বাধীন র্সাবভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে ১৬ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে।

আজ এই মহান বিজয়ের দিনে আমি সশ্রদ্ধাচিত্তে স্মরণ করছি ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও দুইলক্ষাধিক সম্রম হারানো মা-বোনকে। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের । তিনি আরো বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ‘ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ রূপকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাংখিত উন্নতির দিকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ পদক্ষেপে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বিভিন্ন সুচকে অনেক দুর অগ্রসর হয়েছে।

এ উন্নয়ন আজ আমাদের বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম করছে। আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে আরো সমৃদ্ধ ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে আত্মনিয়োগ করতে হবে সবাইকে। আমাদের সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. মোহিত উল আলম বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অকৃত্রিম স্বদেশ প্রেম, বিচক্ষণ রাজনীতি, সৎ ও আদর্শবান সাহসী নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ শেষে বাঙালি বিজয় অর্জন করে। অনেক প্রানের বিনিময়ে অর্জিত এ স্বাধীনতা মেনে নেয়নি পাক হানাদার বাহিনীর দোসর রাজাকার আলবদর চক্র। এ অপশক্তির প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় ১৯৭৫ সারের ১৫ আগষ্ট জাতির জনককে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়। হত্যা করা হয় জাতীয় চারনেতাসহ অসংখ্য বীর মুক্তিযোদ্ধাকে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহি মো. সামসুদ্দোহা। চসিক এর জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম এর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সুধি সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. মোহিত উল আলম, প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজুর রহমান, প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী,কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, চট্টগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহাবুদ্দিন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র সংগ্রাহক মো.শাহাবুদ্দিন মজুমদার।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.