কামরুল ইসলাম দুলু,সিটিনিউজ :: আর্সেনিক মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর একধরনের বিষ। এর কোনো রং, গন্ধ ও স্বাদ নেই । বাংলাদেশের মানদন্ড অনুযায়ী পানীয় জলে আর্সেনিকের মাত্রা প্রতি লিটারে ৫০ মাইক্রো গ্রামের কম হলে সেটি নিরাপদ, যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার মতে এটি ১০ মাইক্রো গ্রামের কম হতে হবে (তথ্যসূত্র: বিবিএস)।
আমাদের দেশের বেশির ভাগ এলাকার টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনি পাওয়া গেছে। আর্সেনিক রয়েছে এমন টিউবওয়েলের পানি খাওয়ার জন্য বিভিন্ন এলাকার মানুষ আর্সেনিক জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলায় তিন লাখ মানুষ ভয়াবহ আর্সেনিক ঝুকিতে আছে। নলকুপের পানি আর্সেনিক-দূষিত কি না, তা প্রতি ছয়মাস অন্তর পরীক্ষা করা উচিত এমনটি মনে করেন সীতাকুণ্ড উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা ডা. এস এম নুরুল করিম রাশেদ।
অথচ উপজেলায় এগার বছর ধরে এ পরীক্ষার কাজ বন্ধ রেখেছে সরকারি জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান। যার ফলে এ উপজেলার তিন লাখ মানুষ ভয়াবহ আর্সেনিক ঝুঁকিতে আছে।
২০০৬ সালের এক পরীক্ষায় আর্সেনিকের মাত্রা দেখা যায়, ০.২+মি. গ্রাম/লিটার। যা গ্রহনযোগ্য মাত্রার চেয়ে অধিক আর্সেনিক পাওয়া যায়। বর্তমানে এর পরিমাণ কত, পরীক্ষার অভাবে তা জানা যাচ্ছে না।বেসরকারী সংগঠন ‘ফোকাস বাংলাদেশ’ এগার বছর আগে সীতাকুণ্ড উপজেলার একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার আট শতাধিক অগভীর নলকুপের পানি পরীক্ষা করে প্রায় ৭৮ ভাগ নলকুপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পান। কোথাও কোথাও আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃত সহনশীল মাত্রার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি আর্সেনিক পাওয়া যায়।
জরিপের তথ্য বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে এলাকাবাসীর কাছে প্রকাশ হলে তৎসময়ে শরীরে যে কোনো কালো দাগ দেখেলেই সাধারণ মানুষ ‘আর্সেনিকোসিস’-এ আক্রান্ত হয়েছে মনে করে আতঙ্কিত ছিল। সে সময়ে এ ভয়াবহতা থেকে সীতাকুণ্ড বাসীকে রক্ষায় কোনো সরকারী প্রদক্ষেপ বা উদ্যোগ নেয়নি।
তৎকালীন সময়ের তাদের জরিপ প্রতিবেদনে দেখা যায়, উপজেলায় আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজারের উপরে। আক্রান্ত রোগীরা সামাজিক কারনে বা অন্য রোগ ভেবে গোপনীয়তার সাথে চিকিৎসা করছে। এছাড়া উপজেলার চারলাখ মানুষ আর্সেনিকযুক্ত বিষাক্ত পানি পান করছেন বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পানীয় জলে আর্সেনিকের স্বাভাবিক মাত্রা ০.০১মি. গ্রাম/লিটার।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সহনশীল মাত্রা ০.০৫মি. গ্রাম/লিটার। কিন্তু সাতবছর আগে আর্সেনিক মিউটিগেশন ফোরাম ও বেসরকারী সমাজ উন্নয়ন সংগঠন ‘ইপসা’ পরিচালিত অন্য এক জরিপে দেখা গেছে, সীতাকুণ্ডে বিভিন্ন অঞ্চলের নলকুপে আর্সেনিকের মাত্রা ০.২+মি. গ্রাম/লিটার। যা জনস্বাস্থ্যর জন্য খুবই ঝুকিপুর্ণ।
এসব নলকুপের পানি পানের অযোগ্য বলে ঘোষণা দিয়ে নলকুপের গায়ে লাল চিহৃ দেওয়া হয়। এসব তথ্য প্রকাশ হওয়ার পরও মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক থাকা সত্ত্বেও সীতাকুণ্ড উপজেলাকে আর্সেনিক প্রবণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে তখন থেকেই সাধারণ মানুষ নীরবে এ ঘাতকের হাতে নিজেকে সমর্পণ করে যাচ্ছে।
