চট্টগ্রাম অফিস : ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ঢাকা মেইল ট্রেনের ডব্লিউজেসি কোচ (এসি স্লিপার) বগিটি ঢাকা-রংপুর রুটে চলাচলের সিদ্ধান্ত দিয়েছে রেলওয়ে মহাপরিচালকের দফতর।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে এ বগির চাহিদা এবং আয় বেশি থাকলেও রংপুর রুটে দেওয়ার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ রেল কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য মতে, ঢাকা মেইলের জন্য নির্দিষ্ট এ বগি রংপুর রুটে চলাচলের কারণে প্রতিমাসে অন্তত ১০ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে। অন্যদিকে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও টিকেট পাচ্ছে না চট্টগ্রামের যাত্রীরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে ঢাকা-রংপুর রুটে চলাচলকারী রংপুর এক্সপ্রেস’র ডব্লিউজেসি বগিটি দুর্ঘটনায় পড়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যায়। এরপর থেকে ওই রুটে এসি স্লিপার কোচ দিতে পারেনি রেলওয়ে। সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের ঢাকা মেইল ট্রেনের নমিনেটেড কোচটি রংপুর এক্সপ্রেসে দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়। জুন মাস থেকে এটি চট্টগ্রামের পরিবর্তে রংপুর রুটে চলাচল করছে।
রেলওয়ে মহাপরিচালকের নির্দেশে রেল ভবনের সেলস ম্যানেজার মো. আনিসুর রহমান খন্দকার এ নির্দেশনা জারি করেন। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন।
চট্টগ্রাম রুটে চাহিদা বেশি থাকা সত্ত্বেও রংপুরে দেওয়া হলো কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাহিদা সবদিকেই আছে। তারপরও আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।
গত দুই মাসের বিক্রিত টিকেট নথি পর্যালোচনায় দেখা দেছে, ১ জুন ঢাকা থেকে রংপুর যাত্রায় ৯টি টিকেট বিক্রি হয়েছে। রংপুর থেকে ঢাকার যাত্রী দুইজন। ২ জুন ঢাকা থেকে চারটি ও রংপুর থেকে ৬টি টিকেট বিক্রি হয়। ২০ জুন ঢাকা থেকে রংপুরের কোন যাত্রী টিকেট ক্রয় করেনি। তবে রংপুর থেকে ৭ জন যাত্রী টিকেট কিনেছেন। একইভাবে ২৭ জুন কোন টিকেট বিক্রি হয়নি। ২৪ জুন রংপুর থেকে একটি টিকেট বিক্রি হয়।
রেলের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে এসি স্লিপার বগি চলাচল করলে দৈনিক ৩৯ হাজার ৬০০ টাকা রেলের আয় হয়। প্রতি মাসে আয় হয় ১১ লাখ ৮৮হাজার টাকা। অন্যদিকে ঢাকা-রংপুর রুটে প্রতি মাসে দুই লাখ টাকাও আয় হচ্ছে না।
রেলের কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা মেইল ট্রেনের এসি স্লিপার ট্রেনের বেশ কাটতি রয়েছে। প্রতিদিন ১৮টি করে মোট ৩৬টি টিকেট দেওয়ার পরও চাহিদা থাকে। অথচ রংপুরে টিকেট বিক্রি হয় ১ থেকে ১০টি। অন্যদিকে ঢাকা মেইলে পুরোপুরি এসি কোন কোচ নেই। শুধুমাত্র একটি সিদ্ধান্তের কারণেই প্রতিমাসে ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে রেলকে। তাদের মতে, এসি স্লিপার কোচটি ফের ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলের সিদ্ধান্ত নিলে লোকসান কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
