ডিসেম্বরের নির্বাচনে নৌকা মার্কায় আপনাদের ভোট চাইঃ হাসিনা

0

সিটি নিউজ ডেস্কঃ  আওয়ামীলীগ সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভোটের বছরের শুরুতে সিলেটে গিয়ে তিন আউলিয়ার মাজার জিয়ারত করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের প্রচারে নেমেছেন।

প্রধানমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারী) সকালে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ একটি ফ্লাইটে সিলেট পৌঁছান। প্রথমে তিনি তিন আউলিয়ার মাজার জিয়ারত করেন।  বিকালে সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় যোগ দেন।সেখান থেকে  তিনি ৩৮ টি ‍উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে কানায় কানায় পূর্ণ  বিশাল জনসভায় শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের নির্বাচনী প্রচার চালানো এখান থেকেই শুরু। নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, ডিসেম্বরে যে নির্বাচন হবে, সে নির্বাচনেও আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই।

নৌকায় মার্কায় ভোট দিতে জনসভায় আগত সবাইকে হাত তুলে ওয়াদা করার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। আপনারা হাত তুলে ওয়াদা করেন নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন। মাঠভরতি মানুষ  দু’হাত তুলে শেখ হাসিনার কথায় সায় দেন।

নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, অতীতে নৌকায় ভোট দিয়েছেন। নৌকায় ভোট দিয়েছিলেন বলেই আন্তর্জাতিকভাবে দেশের সুনাম হয়েছে। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর সিলেটে শেখ হাসিনার তৃতীয় সফর এটি। এ উপলক্ষে পুরো শহর সাজানো হয় ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড আর তোরণে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী তার বক্তব্যের শুরুতেই সিলেটের প্রয়াত রাজনীতিক আবদুস সামাদ আজাদ, হুমায়ূন রশীদ চৌধরী, শাহ এ এম এস কিবরিয়া, দেওয়ান ফরিদ গাজী ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে স্মরণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন,  ২০০৫ সালের শুরুতে হবিগঞ্জে নিজ নির্বাচনী এলাকায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া। ২০০৪ সালে যুক্তরাজ্যের তৎকালীন রাষ্টদূত আনোয়ার চৌধুরীর উপর গ্রেনেড হামলা এবং বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানের উপর গ্রেনেড হামলা করা হয়।

দশম জাতীয় সংসদ বানচাল করতে বিএনপি-জামায়াত জোটের ভোট কেন্দ্রে আগুন দেওয়াসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের কথাও বলেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “বিএনপি ধ্বংস করতে জানে, সৃষ্টি করতে জানে না, আওয়ামীলীগ সৃষ্টি ও ‍উন্নয়ন করতে জানে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর নামে সন্ত্রাস-তাণ্ডব চালিয়েছিল। সেই সময় অনেক মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। সিএনজি চালককে পুড়িয়ে মেরেছে তারা। হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলেছে। আমরা গাছ লাগাই, তারা গাছ কেটে ফেলে, আমরা রাস্তা করি, তারা ধ্বংস করে। তবে আমরা তাদের সেই জ্বালাও-পোড়াও কঠোর হাতে দমন করেছি।

জনগণ যখনই তাদের প্রতিরোধ করেছে, তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। পাঁচ বছরে বিএনপি হাজার হাজার গাড়ি পুড়িয়েছে। তিন হাজার মানুষ তাদের অগ্নিসন্ত্রাসে অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। পোড়া মানুষের লাশ দেখে খালেদা জিয়া উৎফুল্ল হয়েছে।

আওয়ামী লীগ আমলের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন,আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসা মানে উন্নয়ন। আর, বিএনপি আসা মানেই ধ্বংস।
সেনানিবাস প্রতিষ্ঠাসহ সিলেটের উন্নয়নে নেওয়া নানা পদক্ষেপও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসলে দেশের এত উন্নয়ন হত না। লুটেরা আসলে লুটেপুটে খেত।

জনসভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ছাড়াও এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, তারিক আহমেদ সিদ্দিক, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব-উল আলম হানিফ, দীপু মনি, শেখ হেলাল, দেলোয়ার হোসেন, নওফেল চৌধুরী, বিপ্লব বড়ুয়া, মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.