আজ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়

0

সিটি নিউজ ডেস্কঃঃ  জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার। আজকের এই রায়কে ঘিরে সারাদেশে চলছে টান টান উদ্বেগ উৎকন্ঠা ও উত্তেজনা। রাজধানী ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহর ঢেকে ফেলা হয়েছে নিরাপত্তার চাদরে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষনা করা হবে আজ বৃহস্পতিবার।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত থাকবেন খালেদা জিয়া। বেলা সাড়ে ১১টার পরে তিনি আদালতে পৌঁছবেন বলে জানা্গেছে। উক্ত মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার অপর আসামিরা হলেন, খালেদা জিয়ার বড় ছেলে দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

রাজধানীর বকশিবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ আদালতের জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালত গেলো ২৫ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য আজ ৮ ফেব্রুয়ারী দিন ধার্য করেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াসহ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চেয়েছে দুদক প্রসিকিউশন।

অপরদিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে ৫ আইনজীবী নির্দোষ দাবি করে তার খালাস চেয়েছেন। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

রায় ঘোষণা নিয়ে গতকাল বুধবার খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনে তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মিথ্যা মামলায় আমার কিছুই হবে না। আমি বেকসুর খালাস পাব। মাথা নত নয়, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছি।

আমাকে রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে আদালতকে ব্যবহার করছে সরকার। হামলা-মামলা চালিয়ে কণ্ঠরোধ করছে সরকার।

এদিকে ক্ষমতাশীল আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি অপরাজনীতি করছে। রায়ের সঙ্গে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

খালেদাকে নির্মূল করার বাসনা আমাদের নেই। রায়কে ঘিরে এরিমধ্যে প্রশাসন দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ও ঢাকামুখী মানুষের উপর তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

এছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিজিবি, র্যা ব, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে।

এ রায়কে কেন্দ্র করে এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) থেকে সভা সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে জানানো হয়, ৮ ফেব্রুয়ারি ভোর ৪টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত যে কোন ধরনের সভা সমাবেশ, মিছিল, ছড়ি বা লাঠি, ছুরি, চাকু বা ধারালো অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য ও দাহ্য পদার্থ বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অপরদিকে সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠেকাতে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রায়কে ঘিরে জ্বালাও পোড়াও হলে জনগণের জানমালের রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিহত করবে।

অপর এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, রায়কে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করলে পুলিশ কঠোরভাবে তা দমন করবে। পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে।

রায় নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, অফিসারদেরকে পরিষ্কারভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার জন্য।

এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরের পাশাপাশি খালেদা জিয়ার বাসভবন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে গুলশান-২ গোলচক্করে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। গুলশান-২ থেকে খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’ পর্যন্ত কোনো যানবাহন চলতে দেওয়া হচ্ছে না।

গণমাধ্যমের কর্মীদের গাড়িও গোলচক্করে রেখে যাওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। গোলচক্কর থেকে ‘ফিরোজা’ পর্যন্ত হেঁটে গিয়ে বিপরীত দিকে রাস্তায় অবস্থান নিচ্ছেন গণমাধ্যমের কর্মীরা। সেখান থেকেই তাঁরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন।

একটি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় থাকলেও এখনো তিনি এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বের হননি ।

খালেদা জিয়ার বাসার ভেতরে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না, তবে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর আইনজীবী ও দলের যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন ভেতরে ঢুকেছেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.