আওয়ামীলীগ বেগম খালেদা জিয়াকে বেশী ভয় পায়: নাজিম উদ্দিন
সিটি নিউজ বিডিঃঃ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ.এম.নাজিম উদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য চল চাতুরীর আশ্রয় নিয়ে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়েছে সরকার। আওয়ামীলীগ বেগম খালেদা জিয়া, জনগণ এবং নির্বাচনকে সবচেয়ে বেশী ভয় পায়।
সরকার তাদের আজ্ঞাবহ আদালতের মাধ্যামে অন্যায়ভাবে রায় দিয়ে বিএনপিকে ধ্বংস করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তিনি আজ শনিবার ( ১০ জানুয়ারী) বিকালে কাজীর দেউরীস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এক কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে সভা সমাবেশ, কথা বলার অধিকার, মানুষের মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন, গণতান্ত্রীক অধিকার কিছুই নেই। আওয়ামীলীগ সরকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে সরে গিয়ে সম্পূর্ণ স্বৈরাচারি কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে। দেশের সমস্ত গণতান্ত্রীক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দিয়ে কোন প্রতিষ্ঠানকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দিচ্ছে না।
তিনি বলেন দেশের জনগণ মনে করে এটি একটি রাজনৈতিক মামলা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এ মামলা করা হয়েছিল। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও ১৫টি দুর্নীতির মামলা ছিল। বর্তমান সরকারের মন্ত্রীসভার মন্ত্রী এবং সংসদের এমপিদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির মামলা ছিল এবং হাইকোর্ট কর্তৃক দন্ডিত হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর সবকয়টি মামলা প্রত্যাহার করে নেয়, এরপও মন্ত্রী এমপিরা বহাল তবিয়তে আছে।
তিনি বলেন, সরকার এখন মাইনাস ওয়ান ফর্মূলা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে। শত জুলুম নির্যাতন করেও বিএনপিকে ধ্বংস করতে না পেরে মিথ্যা মামলায় ষড়যন্ত্রের সাজা দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে হেয় পতিপন্ন করছে। কিন্তু বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ রাজপথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে সমস্ত ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবে।
তিনি চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সুফিয়ানসহ চট্টগ্রাম বিভিন্ন থানায় দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জনান।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে আবু সুফিয়ান বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে প্রতিহংসার সাজা দিয়ে সরকার এখন হতাশ হয়ে পড়েছে। তারা মনে করেছিল খালেদা জিয়াকে মিথ্যা সাজা দিলে বিএনপি দুর্বল হয়ে যাবে। কিন্তু বিএনপি এখন যে কোন সময়ের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ এবং শক্তিশালী।

কারাগারে বন্দি খালেদা জিয়া অধিক শক্তিশালী। খালেদা জিয়া একটি সামাজিক শক্তির নাম। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এখন গায়েবী মামলা দেয়া শুরু করেছে। কোন নাশকতার ঘটনা না ঘটার পরও বিভিন্ন থানায় বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে আসামী করে নাশকতার মামলা দিচ্ছে সরকার। তিনি অবিলম্বে এসব গায়েবী ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন সহ সকল দলীয় নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দিন বলেন, সরকার যদি খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখতে কোন হীন কৌশলে আশ্রয় নেয়, তাহলে দেশে অরাজক পরিস্থিতি হবে। জনগণ তা মানবে না এবং প্রতিহত করবে। ইতিমধ্যে সরকার তার প্রমাণ পেয়েছে। মামলার রায় উপলক্ষে সরকার এটাই ভীত হয়ে পড়েছে যে, রাজধানীসহ সারা দেশে একধরণের অঘোষিত কারপিউ জারি করে। তারপরও সারা দেশে লাখ লাখ মানুষ খালেদা জিয়ার পক্ষে রাস্তায় নেমে এসেছিল।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, এডভোকেট আব্দুচ সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, হারুন জামান, শফিকুর রহমান স্বপন, সৈয়দ আহমদ, মাহবুব আলম, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, মোঃ ইকবাল চৌধুরী, এস.এম. আবুল ফয়েজ, এম এ হান্নান, যুগ্ম সম্পাদক এস.এম, সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, মোঃ শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আব্দুল মান্নান,
জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, আনোয়ার হোসেন লিপু, গাজী সিরাজ উল্লাহ, ইর্ঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুর আলম চৌধুরী মঞ্জু, কামরুল ইসলাম, হাজী মোঃ তৈয়ব, প্রচার সম্পাদক সিহাব উদ্দিন মুবিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ সালাহ উদ্দিন, শামসুল আলম, জাহাঙ্গীর আলম, ইব্রাহিম চৌধুরী, মোঃ শাহ আলম, সম্পাদক বৃন্দ শেখ নুরুল্লাহ বাহার, এম আই চৌধুরী মামুন, হাজী নুরুল আকতার, দিদারুল আলম চৌধুরী, প্রমুখ।
