সিটি নিউজ ডেস্কঃঃ বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হলেও এ ব্যাপারে আদেশ দেয়নি আদালত। বিচারিক আদালতের নথি পাওয়ার পর আদেশ দেবে বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট।
আজ রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ) বিকালে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। বেলা দুইটায় শুনানির শুরুতেই এজলাসে বিএনপি নেতা ও আইনজীবীদের ভিড় দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। এ সময় ভিড় কমানোর জন্য সময় দিয়ে এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন বিচারকরা। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে বিচারকরা আবারও এজলাস কক্ষে ফিরে এসে শুনানি শুরু করেন।
খালেদা জিয়ার পক্ষে এজলাসে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক উল হক, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান।
খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবীরা সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর বয়স, অসুস্থতা ও সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করে জামিন আবেদনের আর্জি করেন।
শুনানিতে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। জামিন আবেদনের শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি আদালতকে বলেন, ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী যিনি এতিমদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল আরো বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রীর ছেলের স্বাক্ষরে কিভাবে টাকা চলে যায়? ওই সময় তার ছেলে প্রধানমন্ত্রীর বাসায়ই থাকতেন। একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি এত বড় দায় এড়াতে পারেন না।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য রবিবার দিন ধার্য করে। পাশাপাশি স্থগিত করে তার অর্থদণ্ড। এছাড়া ১৫ দিনের মধ্যে মামলার সব নথি পাঠাতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। রায়ের পর খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে নেয়া হয়। তিনি এখনো সেখানেই আছেন।
