আওয়ামীলীগের পরিকল্পনা আমরা বুঝি কিন্তু বিএনপি বুঝে কিনা জানি নাঃ অলি

0

সিটি নিউজ ডেস্কঃঃ  লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, আমরা ঐ পন্হা অবলম্বন করতে চাই না। আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থা শান্তিপূর্ণ পন্হায় এগুতে চাই। সরকারকে আমি এটাও বলব, আপনারা যেভাবে সুদূর পরিকল্পনা করে এগুচ্ছেন। আপনারা যদি মনে করেন আমরা বুঝি না, আমরা বুঝি। কিন্তু বিএনপি বুঝে কিনা আমরা জানি না।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দেশের সবচেয়ে পুরাতন রাজনৈতিক দল উল্লেখ করে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করা ছেলে খেলা নয়। বিএনপিকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এগুতে হবে।

আজ সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে স্বাধীনতা অধিকার আন্দোলন আয়োজিত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সঙ্কটে আগামী জাতীয় নির্বাচন শীর্ষক গোল টেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

জোটের এ শীর্ষ নেতা বলেন, বিএনপির উচিত হবে বিগত নির্বাচনে যেসব নেতা সংসদ নির্বাচনের জন্য দরখাস্ত করেছিল তাদের সবাইকে ডাকা এবং তাদেরকে বলে দেয়া তোমাদের নিজ নিজ এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে আইন সম্মতভাবে সাংবিধানিক পন্হায় আওয়ামী লীগ যেভাবে অবরোধ করেছিল বা অবস্থান ধর্মঘট করেছিল সে ধরনের কর্মসূচির দিকে যাও। যে ভালো করবে আগামী দিনে তাকে পুরস্কৃত করা হবে। দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রত্যেক দিন যদি আমরা প্রেস ক্লাবে এসে বক্তব্য রাখি, প্রেস ক্লাবের সামনে এসে অবস্থান ধর্মঘট করি বেগম জিয়ার মুক্তি হবে না। কারণ, প্রতিপক্ষকে দেখতে হবে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন একটা রাজনৈতিক দল। যারা সব সময় লাঠিসোটা নিয়ে মারামারি করে নির্বাচনে জিতে এসেছে। সুতরাং তারা প্রতিপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে কিভাবে অগ্রসর হতে হবে তা চিন্তা করতে হবে।

রণাঙ্গনের এ মুক্তিযোদ্ধা বলেন, বৃহস্পতিবার যখন রায়ের তারিখ ধার্য করা হলো বিএনপির উচিত ছিল দরখাস্ত দিয়ে রোববার করা। তাহলে সামনে ৬ কার্যদিবস পেতাম। এমন অবস্থায় নিয়ে গেল, পরের দুই দিন ছুটি। এসব নিয়ে চিন্তা করা উচিত ছিল। আওয়ামী লীগ মৃত্যকে ভয় না পেলেও নির্বাচনকে ভয়।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দী রেখে সুপরিকল্পীতভাবে যে কৌশলে এগুচ্ছে তা বিএনপি না বুঝলেও আমরা বুঝি। শুধু তাই নয়, সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের কথাবার্তা শুনেও স্পষ্ট বুঝতে পারছি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আদৌ সহজে মুক্তি দেওয়া হবে না। খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

২০ দলীয় জোট নেতা বলেন, তৎকালীন সেনা সমর্থিত সরকারের সময় অনেক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বর্তমান সরকারের অনেক নেতার বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছিল কিন্তু রাজনৈতিক বিবেচনায় তাদের মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলাগুলো চালু রেখে হয়রানি করা হচ্ছে।

খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে মন্তব্য করে এলডিপি সভাপতি বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে বিএনপি ও ২০ দল নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা? কারণ এখন ঐক্যবদ্ধ হতে না পারলে আন্দোলন সফল হবে না। বর্তমান সরকার সহজে খলেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে না। খালেদা জিয়ার হয়তো মৃত্যে হতে পারে, সেই বিষয়গুলো চিন্তা করে বিএনপিকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজ উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন বিএনপিকে ঘরের মধ্যে রাজনীতি করতে। সে হয়তো জানে না, রাজনীতি সব জায়গাতে হয়। সে আমার ছাত্র ছিল। আমি হয়তো তাকে শিখাতে পারিনি। তাই এ মুহূর্তে তার কথা শুনে থাকাই ভালো।

তিনি আরও বলেন, প্রধামমন্ত্রী যতই বলুক কাউকে ভোটে আনার দায়িত্ব সরকারের নয়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষতা ও সবার অংশগ্রহণের পরিবেশ প্রধামমন্ত্রীকেই তৈরি করতে হবে। আর এটা না করে নির্বাচন ব্যবস্থায় যাওয়া যাবে না।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.