মহিউদ্দিন চৌধুরী মাশার্ল ল’র বিরুদ্ধে আন্দোলন করে গেছেনঃ অনুপম

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটি নিউজঃ  আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অনুপম সেন বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী শুধু চট্টগ্রামের নেতাই ছিলেন না, এই চট্টগ্রামকে তিনি প্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছিলেন।

আজ সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ) চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘি মাঠে মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ আয়োজিত শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, এখানকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ উন্নয়নে তিনি অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন। সাধারণ মানুষের সুখে দুঃখে তাদের কাছে ছুটে গেছেন। তিনি ছিলেন গণমানুষের। তাদের জন্যই তিনি জীবন উৎসর্গ করে গেছেন।

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অনুপম সেন বলেন, এই লালদীঘি মাঠে যে জানাজা হয়েছে এ জীবনে এর চেয়ে বৃহৎ সমাবেশ আমি দেখিনি। জোর দিয়ে বলতে চাই, ইতিহাসের বৃহত্তম জনসমুদ্র সৃষ্টি হয়েছিল সেদিন। তিনি বলেন,মহিউদ্দিন চৌধুরীর মতো নেতা অনেক দিনেও আসবেন না ।

অনুপম সেন বলেন, এই লালদীঘি মাঠেই ছয় দফা দিয়েছিলেন জাতির জনক। তখন তার পাশে ছিলে ছাত্রলীগ। আর সেই ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন মৌলভি সৈয়দ এবং মহিউদ্দিন চৌধুরী। মৌলভি সৈয়দকে জিয়াউর রহমানের সময়ে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়। মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হত্যা করতে পারেনি। মাশার্ল ল’ এর বিরুদ্ধে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্দোলন করে গেছেন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু হয় তার পাশেও মহিউদ্দিন চৌধুরীর থাকার কথা বলেন অনুপম সেন।
শেখ হাসিনার স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ‘শৃঙ্খলাবোধ, শিক্ষা, চেতনা ও আদর্শ’ অর্জন ও অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।

নগর ছাত্রলীগ সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমুর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহিউদ্দিনপুত্র মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

নগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা শফিক আদনান, মহানগর যুবলীগ আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ, সারোয়ার হোসেন খোকা ও মাহবুবুল হক সুমন, হাসান মনসুর, সাবেক ছাত্রলীগ এম আর আজিম ও মো. সালাউদ্দিন।

উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম, সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন প্রমুখ।

এই সভায় অনুপম সেনের বক্তব্যের আগেই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। বিকাল পৌনে ৫টার দিকে মঞ্চের বামপাশে সিটি কলেজ, ডান পাশে চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিচ্ছিল; মাঝে বসা ওমর গণি এমইএস কলেজের ছাত্রলীগের কর্মীরাও স্লোগান দিচ্ছিল সমান তালে।

এই স্লোগানের মধ্যে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আরশাদুল আলম বাচ্চু বক্তব্য রাখার পরপরই ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। এর পরপর ছাত্রলীগ কর্মীরা চেয়ার ছোড়াছুড়ি করে সভাস্থলে বিশৃঙ্খলা শুরু করে।

মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রণি চেষ্টা চালিয়েও দুই পক্ষকে থামাতে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে সভামঞ্চে উপস্থিত যুবলীগ ও ছাত্রলীগের প্রায় সব নেতা নেমে আসেন নিচে মারামারি থামাতে।এরপর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে স্মরণসভার কাজ শুরু হয়।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.