রাখাইনে গণহত্যায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতায় বিষ্মিত তিন নোবেল লরিয়েড

0

সিটি নিউজ ডেস্কঃঃনোবেল বিজয়ী মরিয়েড মুগুয়ার প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যা দেখেছেন, তাতে তারা গভীরভাবে শোকাহত। রাখাইনের ঘটনাকে গণহত্যা হিসাবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এরপরও বিশ্ব সম্প্রদায় এখনো কীভাবে নীরব রয়েছে তাতে তারা বিষ্মিত।
আজ বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ) গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নোবেলজয়ী ইরানের শিরিন এবাদি, ইয়েমেনের তাওয়াক্কুল কারমান এবং যুক্তরাজ্যের মরিয়েড মুগুয়া।

রোহিঙ্গা শিবির ঘুরে আসা শান্তিতে নোবেল জয়ী তিন নারী বলেছেন,জাতিগত নিধন চালাতেই মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালানো হচ্ছে। মিয়ানমারকেই এই গণহত্যার দায় নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।  বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

ইহসানুল করিম বলেন, মরিয়েড মুগুয়ার প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যা দেখেছেন, তাতে তারা গভীরভাবে শোকাহত। রাখাইনের ঘটনাকে গণহত্যা হিসাবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এরপরও বিশ্ব সম্প্রদায় এখনো কীভাবে নীরব রয়েছে তাতে তিনি বিস্মিত।

মানবিক কারণে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে তাকে ‘কাইন্ড মাদার’ হিসেবে বর্ণনা করেন মরিয়েড মুগুয়া। তিনি ১৯৭৬ সালে শান্তিতে নোবেল পান।

সাংবাদিক ও অধিকারকর্মী তাওয়াক্কুল কারমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে বলেন, রাখাইনে যা ঘটছে তার দায় মিয়ানমার সরকারকে অবশ্যই নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের যে খবর প্রচার মাধ্যমে আসছে তার চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহতা সেখানে ঘটেছে।

রোহিঙ্গা শিবিরে একশ নারীর সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তাওয়াক্কুল কারমান শেখ হাসিনাকে বলেন, ওই নারীরা মিয়ানমারে ধর্ষণের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। ক্যাম্পের অধিকাংশ এতিম রোহিঙ্গা শিশুর অভিভাবককে হত্যা করা হয়েছে।তিনি বলেন, এটা জাতিগত নিধনের পরিকল্পিত সরকারি নীতি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এর বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে।

ইহসানুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রী তাদের বলেছেন সব মিলিয়ে দশ লাখ ৭৮ হাজার রোহিঙ্গা এখন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিবেশীর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। মিয়ানমার যাতে ওই চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে নেয়, সেজন্য আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.