উন্নয়নের মহাসড়কের দেশে এখনো বাঁশের সাঁকো, তাও জীর্ণদশা
জাহাঙ্গীর আলম, আনোয়ারাঃঃ চট্টগ্রামের আনোয়ারা রায়পুর ও জুঁইদন্ডী ইউনিয়নের মাঝামাঝি সাপমারা খালের উপর নির্মিত সাঁকোটি দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম।
গত ঘূর্ণিঝড় রোয়ানোর আঘাতে সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে উঠলে স্থানীয় লোকজন এটি মেরামত করে কিন্তু বিভিন্ন সময় জোয়ারের পানির তোড়ে সাঁকোটি আবার ও নড়বড়ে হয়ে উঠে। ফলে এলাকার নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য সাঁকোটি পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে।
জুঁইদন্ডী এলাকার বাসিন্দা ইসমাঈল হোসেন জানান, গত বছর স্থানীয় লোকজন সাঁকোটি মেরামত করলেও খালের জোয়ারের পানির ধাক্কায় সাঁকোটি আবারও নড় বড়ে হয়ে যায়।
তিনি আরো জানান, প্রতিদিন জেলেদের কাছ থেকে মাছ কেনার জন্য জুঁইদন্ডীর শত শত ব্যবসায়ী কেরায়পুরে যেতে হয়। পাশাপাশি রায়পুরের বহু শিক্ষার্থী পড়াশোনার জন্য জুঁইদন্ডী জেকেএস উচ্চ বিদ্যালয় ও আনোয়ারুল উলূম মাদ্রাসায় যায়। শুধু তাই নয় রায়পুরের অনেকে জুঁইদন্ডীর উপর দিয়ে আনোয়ারা সদর ও চট্টগ্রাম শহরে যাতায়ত করে।
গত রবিবার দুপুরে সাপ মারা সাঁকোর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সাঁকোতে দুইজনের বেশি উঠলেই দুলছিল। দুই ইউনিয়নের স্কুল কলেজের ছাত্র/ছাত্রীসহ বাসিন্দারা অনেক কষ্টে যাতায়াত করছিল সাঁকোর উপর দিয়ে।
সাপমারা খালের পাশে সাঁকো এলাকার বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক মোহাম্মদ সোহেল বলেন, প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়ে বিভিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পারাপার করে। তারা সবাই ঝুঁকি নিয়েই সেতু পারাপার করে।
রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানে আলম ও জুঁইদন্ডী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোরশেদুর রহমান চৌধুরী বলেন, সাপমার খালের সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এটি সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।
আনোয়ারা উপজেলা প্রকৌশলী তছলিমা জাহান বলেন, সাপমারা খালের উপর ত্রিশ মিটার পাকা সেতুর জন্য প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এটি প্রক্রিয়াদিন। অনুমোদন এলেই দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদেও কষ্ট লাগব হবে।
এলাকার বয়োবৃদ্ধ তসলিম সিকদার জানান, দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে হলেও আমরা এখনো বাঁশের সাঁকো দিয়েই খাল পার হই।
