সীতাকুন্ডে গণধর্ষনে যুবতীর মৃত্যু ৩মাস পর লাশ উত্তোলন

0

সিটি নিউজ, সীতাকুন্ডঃ সীতাকুন্ডে অপহরনের তিন মাস পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে জাহেদা খাতুন (১৯) নামে এক যুবতীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ সোমবার (৪ জুন) দুপুরে উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার কালুশাহ মাজার সংলগ্ন গণকবর থেকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো.কামরুজ্জামানের উপস্থিতিতে লাশটি উত্তোলন করা হয়। জাহেদা ফেনী জেলার ফুলগাজি থানার দক্ষিণ গাবতলা এলাকার মুখছেদুর রহমানের কন্যা। এদিকে এ ঘটনায় জড়িত ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন, কুসুমা, সাদ্দাম, খোকন, হেলাল ও বাবুল।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মার্চ ফেনীর ফুলগাজি থেকে জাহেদাকে অপহরন করে সীতাকুন্ডের বানুরবাজার এলাকার কালুশাহ মাজার সংলগ্ন পাহাড়ী একটি নির্জন বাড়িতে আটকে রাখেন বাবুল,হেলাল ও তার সঙ্গীরা। এসময় ধর্ষক সাদ্দাম, খোকন, হেলাল ও বাবুল কুসুমার সহযোগিতায় জাহেদাকে উপর্যপুরি গণধর্ষন করেন।

ঘটনার সপ্তাহ খানেক পর জাহেদা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কুসুমার সহযোগিতায় তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর জাহেদার মৃত্যু হয়। এরপর ধর্ষক সাদ্দাম জাহেদাকে নিজের বোন পরিচয় দিয়ে স্থানীয় মাসুমের সহায়তায় কালু শাহ মাজারের পার্শ্ববর্তী গণকবরে দাফন করেন।

এ ঘটনার পর ১২ এপ্রিল ধর্ষক বাবুল জাহেদার ভাই হুমায়ন কবিরকে তার বোনের মৃত্যুর খবর দেয় এবং ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এসময় হুমায়ন পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানোর পাশপাশি ফুলগাজি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পর ফুলগাজি থানা পুলিশ সীতাকুন্ড থানা পুলিশের সহযোগিতায় সাদ্দাম ও মাসুমকে আটক করেন। পরবর্তীতে ধর্ষক সাদ্দামের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অপর চারজনকে আটক করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হত্যা মামলা দায়েরের পর আদালতে প্রেরণ করেন।

সর্বশেষ আদালতের নির্দেশে মৃত্যুর তিন মাস পর আজ সোমবার দুপুরে গণকবর থেকে নিহত যুবতীর লাশটি উদ্ধারের পর মর্গে প্রেরণ করেন পুলিশ। সীতাকুণ্ড থানার উপ-পরিদর্শক জয়নাল আবেদীন জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে নিহত যুবতীর লাশটি উত্তোলন করে আমরা ফুলগাজি থানা পুলিশের কাছে লাশটি হস্তান্তর করেছি।

ফুলগাজি থানার ওসি (তদন্ত) পান্না লাল বড়ুয়া বলেন,কবর থেকে যুবতীর লাশটি উত্তোলনের পর সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। আমরা নিহতের লাশটি ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছি। এ ঘটনায় জড়িত ৫ জনেই গণধর্ষনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং তারা বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.