সিটি নিউজ ডেস্কঃঃ নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে বহুল আলোচিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চলছে ভোট গ্রহন। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো সিটি করপোরেশন এলাকা।
নির্বাচনী এলাকায় টহল দিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। আজ নির্বাচনী এলাকার সব অফিস, কল-কারখানা, স্কুল-কলেজসহ প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মহানগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডে ৪২৫ কেন্দ্রের দুই হাজার ৭৬১টি বুথে ৫ সহস্রাধিক পোলিং এজেন্ট কাজ করছেন।
আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে এ সিটি করপোরেশনের ভোট শুরু হয়। ভোট চলবে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সকাল সোয়া ৮টার দিকে নগরীর বশিরউদ্দিন উদয়ন একাডেমি স্কুল কেন্দ্রে আসেন বিএনপি তথা ধানের শীষের প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। এ সময় তাঁর সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে তিনি সেখানে ভোট দিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। নিজের দলের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র পদপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। এ নির্বাচনে তিনি ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু হওয়া নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন
অন্যদিকে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সকালে নগরীর কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। পরে তিনি বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখেন।
ভোট দিয়ে বিএনপি মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার সাংবাদিকদের বলেন, সুষ্ঠু ভোট হবে না। এরই মথ্যে ১০ থেকে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সকালবেলা। এজেন্টদের পুলিশ মাইরা মাইরা বের করে দিচ্ছে।
তবে কোন কোন কেন্দ্রে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হচ্ছে বা কাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী বলেন,নামগুলো আমার কাছে নেই। রেকর্ড রাখা হচ্ছে।
এ সময় হাসান উদ্দিন সরকার আরো বলেন,আমি শুধু বলব, আমি নির্বাচনে আছি, থাকব। সর্বশেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আমি ফলাফল দেখে মন্তব্য করব। তবে বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগের ব্যাপারে কোনো লিখিত পাননি বলে জানিয়েছেন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মণ্ডল।
এদিকে জনগণ যে রায় দেবেন, তা মেনে নেবেন বলে জানিয়েছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম।
সকালে কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম। পরে তিনি বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখেন।
এ সময় সাংবাদিকদের আওয়ামী লীগের প্রার্থী বলেন, আমি রাজনীতি করি, সংগঠন করি এবং এলাকার মানুষের জন্য কাজ করি। একজন জনপ্রতিনিধিকে সব জনগণকে সম্মান করতে হবে।
সে হিসেবে মনে করি, জনগণ যে রায় দেবেন, সে রায় অবশ্যই আমি মানব। আমি বিরোধী পক্ষকেও বলেছি, জনগণের রায়কে মানেন। গাজীপুরের মানুষ যা চায়, সেটি বিশ্বাস করেন।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী নিজের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে রোদের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন। তিনি নির্বাচিত হলে একটি পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী উপহার দেবেন।
এর আগে ২০১৩ সালে এ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে মেয়র পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নান নির্বাচিত হন। অধ্যাপক মান্নান মেয়র পদে নির্বাচিত হলেও বিভিন্ন মামলায় গত পাঁচ বছরের অধিকাংশ সময় তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন।
দ্বিতীয়বারের মতো এ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মোট ৪২৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আজ গাজীপুর রণাঙ্গনে লড়ছেন দুই হ্যাভিয়েট প্রার্থী।আওয়ামীলীগের জাহাঙ্গীর আলম না ও বিএনপির হাসান উদ্দিন? কে হাসবেন শেষ হাসি সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
