আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজারিয়াহ রাজ্যের আমীরের ছেলে কাতারে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন বলে খবর বেরিয়েছে। লন্ডনে কাতারি দূতাবাসে হাজির হয়ে শেখ রশিদ বিন হামাদ আল-শার্কি নামের ওই প্রিন্স রাজনৈতিক আশ্রয় চান বলে ওই খবরে বলা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে যখন কাতারের সম্পর্কে চরম তিক্ততা বিরাজ করছে তখন এ ধরনের খবর বেরুলো। লেবাননভিত্তিক আরবি ভাষার ডেইলি আল-আখবার এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম প্রেসটিভি।
খবরে বলা হয়েছে, শেখ রশিদ বিন হামাদ আল-শার্কি ফুজারিয়াহ কালচার অ্যান্ড মিডিয়া অথরিটির (এফসিএমএ) চেয়ারম্যান। গত ১৯ মে তিনি লন্ডনে কাতারি দূতাবাসে যান এবং রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র ওই গণমাধ্যমকে জানায়, আমিরাতি ওই প্রিন্স লন্ডনের কাতারি দূতাবাসে তিন দিন অবস্থান করেন এবং অনেক গোপন বিষয় ফাঁস করে দেন।
শেখ রশিদ নিউ ইয়র্ক টাইমসকে আমিরাতি শাসকদের ব্লাকমেইল ও অর্থপাচারের ব্যাপারে বলেছেন। তবে এ ব্যাপারে তিনি কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। এ ছাড়া ইয়েমেন যুদ্ধ নিয়ে দেশটির এলিটদের মধ্যে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে তাও ফাঁস করে দেন শেখ রশিদ।
তিনি বলেন, ইয়েমেন যুদ্ধে প্রকাশ্যে ১০০ আমিরাতি সেনা নিহতের কথা বলা হলেও বাস্তবে আরো বেশি নিহত হয়েছে এবং অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ফুজারিয়াহ মনার্কির সেনা বেশি নিহত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির পক্ষ থেকে এক আমিরাতি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনোয়ার গারগাশ বলেছেন, এর কোনো ভিত্তি নেই, এগুলো রাজপরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
গত ২৩ মে কাতারি দূতাবাস থেকে কূটনৈতিক গাড়িতে করে আল-শার্কিকে হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর একটি প্রাইভেট প্লেনে করে তিনি কাতার যান এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে দোহায় প্রবেশ করেন। এদিকে, আমিরাতি কর্তৃপক্ষও আল-শার্কির অবস্থান জানতে চেয়ে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কারণ তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাসেও হস্তান্তর করা হয়নি আবার তাকে লন্ডনের ৪৫ পার্ক লেনের আবাসস্থলেও পাওয়া যায়নি।

তাছাড়া তাকে অপহরণ করা হয়েছে কিনা সে বিষয়েও কোনো তথ্য নেই। ওই সূত্র আরো জানায়, ৪৫ পার্ক লেনের ওই হোটেলে দুই মাস অবস্থানের জন্য একটি স্যুট ভাড়া করেন আল-শার্কি। কিন্তু সেখানে তিনি মাত্র ৩৪ দিন অবস্থান করেন। যেদিন আল-শার্কি উধাও হন সেই দিনই ওই হোটেলে তার সঙ্গে কাতারি কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ পুলিশ।
ব্রিটিশ কর্মকর্তারা আবুধাবি সরকারকে আরো জানায়, আমিরাতি প্রিন্সকে অপহরণ করা হয়নি, বরং তিনি নিজেই কাতারি দূতাবাসে যান। উল্লেখ্য, কাতার সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন (মিসরের ব্রাদারহুড, ফিলিস্তিনের হামাস ও হিজবু্ল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক) করছে এমন অভিযোগ এনে গত বছরের জুন মাসে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক চ্ছিন্ন করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসর। এ ছাড়া দোহার ওপর অর্থনৈতিক অবরোধও আরোপ করা হয়।
যদিও কাতার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। গত বছরের ২৩ জুন সৌদি নেতৃত্বাধীন ওই জোট কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ১৩ দফা শর্ত দেয়। যার মধ্যে ছিল আলজাজিরার সম্প্রচার বন্ধ ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক চ্ছিন্ন করা অন্যতম।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কূটনৈতিক সম্পর্ক চ্ছিন্নের প্রায় এক বছরের মাথায় সম্প্রতি ওই দেশের পণ্য আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে কাতার সরকার। এ সব বিষয় নিয়ে দোহার সঙ্গে সৌদি জোটের সম্পর্কে যখন তীব্র জটিলতা বিরাজ করছে তখন নতুন এই খবরের প্রভাব কি হবে তা সময়ই বলে দেবে।
