দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন আধুনিকায়নে বাকি ২৬ শতাংশ

0

মো.দেলোয়ার হোসেন,চন্দনাইশ : পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করার লক্ষে চট্টগ্রাম-দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে যে কোন সময় নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যে ষোলশহর-দোহাজারী রেললাইনের আধুনিকায়ন কাজ অধিকাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পর্যন্ত রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের ষোলশহর রেলস্টেশন থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৫ কি.মি. রেললাইন আধুনিকায়ন করা হয়েছে। দোহাজারী পর্যন্ত ৫৭টি নতুন ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। সব রেল স্টেশনগুলিকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ২ শত ৩২ কোটি টাকা ব্যায়ে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র মতে এ প্রকল্পে ৪৫ কি.মি. আধুনিকায়নে ৯০ কোটি টাকা, ৫৭ টি ব্রীজ নির্মাণ ও সংস্কারে ৭০ কোটি টাকা, স্টেশন বিল্ডিং ও রেললাইনের পাশে ওয়াল নির্মাণে ৮২ কোটি টাকা ব্যায় করা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত পুরানো রেললাইন ফেলে দিয়ে নতুন রেললাইন নির্মাণ করার কাজ সংশ্লিষ্টদের মতে ৭৪ শতাংশ শেষ হয়েছে। বরাদ্দকৃত ৯০ কোটি টাকার মধ্যে ৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে রেললাইনের স্লিপার, পাথর, রেলবিট স্থাপনের কাজ ২৬ শতাংশ বাকি রয়েছে।

এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে, শেষ হয়েছে চলতি বছর জুন মাসে। করোলা কর্পারেশন নামীয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে রেললাইন নির্মাণ কাজ প্যাকেজে দেয়া হয়েছিল। ২০১৪ সাল পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে। নির্মাণ ব্যায় বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে দোহাজারী অংশে ৫ কি.মি. রেললাইনের কাজ না করে বন্ধ করে দেয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য রেল কর্তৃপক্ষ বারবার তাগিদ দিলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রেললাইনে পাথর সরবরাহ করেনি। পরবর্তীতে রেল কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারের সাথে চুক্তি বাতিল করে ১০ কোটি টাকার নিরাপত্তা জামানত বাজেয়াপ্ত করে। অবশিষ্ট সাড়ে ৫ কি.মি. রেললাইন আধুনিকায়নের কাজ রেলওয়ের রাজস্বখাত থেকে বরাদ্দ দিয়ে সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের কাজ শুরু হবে দোহাজারী অংশ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত।

পিছিয়ে পড়া চট্টগ্রাম, দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের কাংখিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রান্স এশিয়ান রেললাইন প্রকল্প। চন্দনাইশে ৫ একর, সাতকানিয়ায় ১৩০ একর, লোহাগাড়ায় ১৩০ একর জমি অধিগ্রহন করা হয়। ১৯৯৬ সালে আ’লীগ সরকার এ প্রকল্পটি গ্রহণ করেছিল। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার জেলার উখিয়া পর্যন্ত ১২৮ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণের লক্ষ্য রয়েছে। কাজ শুরু হলে এটি শেষ হতে সময় লাগবে চার বছর। পরে এ লাইনটি মিয়ানমার সীমান্ত তথা ঘুমধুম পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে এবং ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে রোডের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করা হবে। পরে লাইন মিয়ানমার হয়ে চীনের কুনমিং পর্যন্ত সম্প্রসারণ করার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের উর্দ্ধতন সূত্রে জানা যায়, সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মিত হলে তার পণ্য পরিবহন, কক্সবাজারে দেশী-বিদেশী পর্যটক পরিবহন, আন্তর্জাতিক পণ্য ও যাত্রী পরিবহনসহ বাংলাদেশের ভিতর ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে রোডের মিচিং লিংক উদ্ধারে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সাথে যুক্ত হবে বাংলাদেশ। বিশ্বের সেরা পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে এর আওতায় এনে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার-রামু থেকে বাংলাদেশ মিয়ানমান সীমান্ত এলাকা ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভুমি কক্সবাজারে দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের ভোগান্তি লাগবে ১৯৯৯ সালের প্রথম দিকে আ’লীগ সরকার এ রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। তৎকালীন সরকার ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে কক্সবাজারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প উদ্বোধন করতে এসে ১২৮ কিলোমিটার রেললাইন প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দোহাজারী থেকে রামু হয়ে উখিয়া দিয়ে ঘুমধুম পর্যন্ত ১২৮ কিলোমিটার রেললাইন প্রকল্পে কক্সবাজারকে অন্তর্ভুক্ত করে। দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে রামু হতে কক্সবাজার শহরের কলাতলী পর্যন্ত গৃহীত রেললাইন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

জানা যায়, তুরস্ক থেকে শুরু করে পূর্ব এশিয়ার ৬টি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গৃহীত ট্রান্স এশিয়ার রেললাইন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ হবে গ্রেটওয়ে। এ রেললাইন মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, লাউজ, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার হয়ে প্রবেশ করবে বাংলাদেশের টেকনাফের কাছে ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে। এখান থেকে ৬টি দেশের ট্রেন যশোর, রাজশাহীর দর্শনা হয়ে ভারত ও পাকিস্তান যাবে। দীর্ঘ ১৬ বছর আগে নেওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নে শুধু বাংলাদেশই নয়, পূর্ব এশিয়ার ৬টি দেশেও ব্যাপকভাবে তোড়জোড় চলছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.