নজীর বিহীন নিরাপত্তায় আল্লামা শফী’র জানাজা ও দাফন সম্পন্ন 

0

সিটি নিউজঃ বেশ কয়দিন ধরে দেশের বৃহত্তম কওমী মাদ্রাসা হাটহাজারী আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফজতে ইলসাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শফী’র ছেলে আনাস মাদানীকে নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে আনাস অব্যাহতি নিয়েও ক্ষান্ত হননি ছাত্ররা। পরে মহাপরিচালকের পদ থেকেও আল্লামা শফীকে অব্যাহতি নিতে হয়।

গত বৃহস্পতিবার রাতে মাদরাসার মজলিসে শুরার বৈঠকে আল্লামা শফী মহাপরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। বৈঠক শেষে মজলিসে শুরার একাধিক সদস্য এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন।

তার পদত্যাগের পরদিন গত শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় হেফাজত ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। একইদিন সন্ধ্যায় তিনি রাজধানীর গেন্ডারিয়া আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

দেশ বরেণ্য এ আলেমের নামাজে জানাজায় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করেছিল প্রশাসন। যা নজির বিহীন। বিশেষ করে তাঁর শেষ বিদায় জানাতে লাখো মানুষের ঢল নামে, যে কোন ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য সতর্ক প্রশাসনও গ্রহন করে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

দেশের কওমি অঙ্গনের শীর্ষ আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জানাজায় অংশ নিতে আসা বিপুল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ এবং র‌্যাবের পাশাপাশি বিজিবি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়।

হাটহাজারীতে উপস্থিত হন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন, র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল, পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. বদিউল আলমসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, আল্লামা শফী হুজুরের জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাইনি। প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করায় সবাইকে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

তিনি আরো জানাজা দাফন শেষ হলেও আমরা পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছি। পরিস্থিতি আগের মতো স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হাটহাজারীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে।

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে শেষ বিদায় জানাতে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে চট্টগ্রামের দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার অভিমুখে। এর আগে সকালে আহমদ শফীর মরদেহ ঢাকা থেকে হাটহাজারী মাদ্রাসায় এসে পৌঁছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছেন লাখো ভক্ত-অনুসারীরা। জনতার ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। তার জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং সার্বিক নিরাপত্তায় চট্টগ্রামের চার উপজেলায় ১০ প্লাটুন বিজিবিসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এরইমধ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে হাটহাজারী, পটিয়া, রাঙ্গুনিয়া এবং ফটিকছড়িতে সকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন।

তার জানাজায় যোগ দিতে আসা জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে হাটহাজারী বাস স্টেশন থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুরো এলাকাজুড়ে বাড়ানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদেরও নিয়োজিত করা হয়েছে।

আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকা থেকে আল্লামা শফীর মরদেহ পৌঁছায় তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল হাটহাজারী মাদ্রাসায়। এরপর তার মরদেহ দেখার জন্য জনসাধারণের জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

জোহরের নামাজের পর হাটহাজারী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তার জানাজা সম্পন্ন হবে। জানাজায় ইমামতি করবেন শফীপুত্র মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ। জানাজা শেষে মাদ্রাসার ভেতরে বায়তুল আতিক জামে মসজিদ কবরস্থানে দেশ বরেণ্য এ আলেমকে দাফন করা হবে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.