আর নিউজ করবি কিনা বল বলে ওরা আমাকে দফায় দফায় পিটিয়েছে
সিটি নিউজঃ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে সাংবাদিক নেতাদের কাঁধে ভর করে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) কার্যালয়ে এসেছিলেন সাংবাদিক গোলাম সরওয়ার।
আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) নগরীর কাজির দেউড়ী ভিআইপি টাওয়ার এর সামনে থেকে অপহৃত হয়ে গত রবিবার (১ নভেম্বর) রাত পৌনে ৮টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরা বাজারস্থ খালের পাশে অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় পাওয়া যায় সাংবাদিক গোলাম সরওয়ারকে। তাকে উদ্ধার করার পর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি সিইউজে কার্যালয়ে আসেন।
গোলাম সরওয়ার আজকের সূর্যোদয় চট্টগ্রাম ব্যুরোর স্টাফ রিপোর্টার এবং অনলাইন পোর্টাল সিটি নিউজ বিডি ডটকমের নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওরা আমাকে দফায় দফায় পিটিয়েছে। অনলাইন পোর্টালে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কয়েকটি নিউজ করেছিলাম। এরপর আমার মোবাইলে বেশ কয়েকবার অজ্ঞাত ব্যক্তির ফোন এসেছিল। এসব ফোনকল চেক করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, ওরা ইচ্ছেমতো পিটিয়ে বলেছে-আর নিউজ করবি কি-না বল? আমি ওদের বারবার বলেছি, নিউজ করবো না, প্লিজ আমাকে ছেড়ে দেন। আমার মাও নাই বাবাও নাই। আমার স্ত্রী ও ২টা ছেলে মেয়ে আছে। আমাকে ছেড়ে দিন। তারপরও পিটিয়েছে। চোখে হাত দিতে দেয়নি। ওরা বলাবলি করছিল, এটাকে স্যাম্পল হিসেবে নিয়েছি। মেরে ফেলার দরকার নাই। সাইজ করো।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোলাম সরোয়ার বলেন, আমি এখনও মানসিকভাবে অসুস্থ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম আমি। আর্থিকভাবেও স্বচ্ছল নই। আমি বিচার চাই। ওরা আমাকে মেরেছে নিউজের কারণেই। তবে কোন নিউজের কারণে মেরেছে, সেটা নিশ্চিত নই।
অপহরণ হওয়ার পর থেকে চট্টগ্রামসহ দেশের সাংবাদিক সমাজ তাকে উদ্ধারে রাজপথে সরব থাকায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন গোলাম সরোয়ার।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইউজে সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, গোলাম সরওয়ারের কাছ থেকে অপহরণের বিষয়ে যেসব বক্তব্য পাওয়া গেছে তা পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য আতঙ্কের বিষয়। আমরা তাকে বলেছি, তিনি যদি মামলা করতে চান, তাহলে সিইউজে তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে এবং তার পাশে থাকবে।
সিইউজের সাধারণ সম্পাদক ম শামসুল ইসলাম বলেন, অপহরণকারীদের শনাক্ত করা ও গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভিরকে আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি। এরই মধ্যে সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি পুলিশের দুইটি টিম কাজ করছে বলে তিনি আমাদেরকে জানিয়েছেন।
